মত-বিশ্লেষণ

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় আত্মসংশোধন প্রয়োজন

আবদুল মকিম চৌধুরী: বিশ্ব অর্থনীতিতে চীন এখন পরাশক্তির ভূমিকায়। বিভিন্নভাবে ছোট দেশগুলোকে নিজের বলয়ে আনতে বদ্ধপরিকর দেশটি। কখনও কোনো দেশকে ঋণের জালে জড়িয়ে কখনও বা উন্নয়নের নামে মিতালি পাততে চাইছে।

এশিয়ার দেশগুলোকে নিয়ে চীনের পরিকল্পনার অংশ হলো ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’। দেশটি বলছে, এটি বাস্তবায়ন হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো অর্থনীতি ও যোগাযোগব্যবস্থায় অনেক উন্নতি লাভ করবে। তবে অনেকেই বলছেন এটি উন্নয়নের পথ নয়, বরং ঋণের ফাঁদ। এ পক্ষের অভিমতÑঋণের ফাঁদে ফেলে সংশ্লিষ্ট এলাকার আঞ্চলিক রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে চীন।

‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ প্রকল্পকে একবিংশ শতাব্দীর ‘সিল্ক রোড’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন কেউ। এ প্রকল্পের ফলে সংযুক্ত হবে এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের ৭০টিরও বেশি দেশ। সিল্ক রোড বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয় এক লাখ কোটি ডলার। এরই মধ্যে ২৫ হাজার কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ হয়েছে, যার সিংহভাগই হয়েছে এশিয়ায়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রকল্পের কাজ একচেটিয়াভাবে করছে চীনা কোম্পানিগুলোই। ফলে নানা দেশের সঙ্গে করা চুক্তির ফলে এককভাবে লাভবান হচ্ছে চীন।

প্রকল্পের নামে এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকাজুড়ে বিশাল এলাকায় নিজেদের প্রাধান্য বিস্তার করতে চাইছে চীন। এটি বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে সংযুক্ত হওয়া নিয়ে উভয়সংকটে আছে মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কাসহ এশিয়ার অনেকগুলো দেশ। কারণ এই প্রস্তাবে রাজি না হলে চীনকে অগ্রাহ্য করার ঝুঁকি নিতে হচ্ছে! আবার রাজি হলে পড়তে হচ্ছে ঋণের ফাঁদে। কারণ এত বড় প্রকল্পে নিজস্ব অর্থায়ন করা প্রায় অসম্ভব। সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে ঋণ নেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে চীন।

শ্রীলঙ্কা আছে বেকায়দায়। দেশটি ঋণ-ফাঁদে পড়ে হাম্বানটোটা বন্দর ৯৯ বছরের জন্য চীনকে ইজারা দিতে বাধ্য হয়েছে।

এর আগে চীনের ঋণের ফাঁদে পড়েছে কেনিয়া সরকার। সময়মতো চীনের ঋণ পরিশোধ করতে না পারলে দেশটির প্রধান সমুদ্রবন্দর মমবাসা পোর্টের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী ১৫ বছরের মধ্যে কেনিয়াকে সম্পূর্ণ ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

এ ছাড়া ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে জিম্বাবুয়ের কেনেথ কাউন্ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ নেয় চীন। ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় চীন এমন এটি নিয়ে নেয়।

কোনো দেশের উন্নয়নে দাতা সংস্থার কাছ থেকে ঋণ নেওয়া একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে সে ঋণ যেন দেশের জন্য গলার কাঁটা হয়ে না দাঁড়ায়, সেদিকে লক্ষ রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ। আর এ ঋণ সহায়তায় যেসব করা হয়, তা থেকে কী ধরনের অর্থনৈতিক লাভ বা রিটার্ন পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে প্রকল্প গ্রহণের আগেই বিচার-বিশ্লেষণ করা উচিত। তা না হলে ভবিষ্যতে দেশ ঋণ-জালে আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। কিন্তু দরিদ্র দেশগুলো এতসব যাচাই করে ঋণ নিতে পারে না। এই সীমাবদ্ধতার সুযোগ নেয় চীন। ফলে চীনের নৈতিক অবস্থান দুর্বল। প্রকাশ্যে অবস্থান নিতে পারলেও ভুক্তভোগী দেশ এবং এসব দেশের জনগণের কাছে চীন একপ্রকার অপ্রত্যাশিত নাম। সাধারণ মানুষ তথা ধর্মে বিশ্বাসী মানুষ রীতিমতো অভিশাপ দিচ্ছে।    

ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী তথা মুসলিমরা চীনের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ অত্যাচার-অবিচারের শিকার। সংখ্যালঘু মুসলিমদের নিপীড়ন করে মুসলিমদের প্রতিপক্ষ হিসেবে আভির্ভূত হয়েছে চীন। অর্থ-সম্পদ আর প্রযুক্তির দাপটে উইঘুর মুসলিমদের ওপর চালাচ্ছে অত্যাচারের স্টিমরোলার।

প্রকাশ্যে ইবাদত, ইসলাম শিক্ষা ও রোজা পালনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে দেশটির প্রশাসন। তাছাড়া সব প্রদেশে আরবিতে কোনো প্রচার এবং প্রকাশ্যে কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

শিনিজিয়াং প্রদেশের কাশগড় ও উরুমকি শহরের মসজিদগুলো নির্মম অত্যাচারের আতংকে জনশূন্য, ঠিক সেই সময়ে দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে গোটা চীনে ছড়িয়ে পড়েছে ভয়াবহ প্রাণঘাতী ‘করোনাভাইরাস’। এ ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে সরকারি হিসাবেই এখন পর্যন্ত মারা গেছে দেড় হাজারের মতো। আক্রান্ত হয়েছে ৬৫ হাজার এবং এর মধ্যে স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যাই অন্তত দুই হাজার। অবশ্য অন্য সব প্রচার মাধ্যমই বলছে, সব সংখ্যাই আরও অনেক বেশি। 

করোনা এক ভাইরাস, যার কোনো প্রতিষেধক এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। বলা যায়, সামান্য এক করোনাভাইরাসের কাছে একপ্রকার অসহায় ‘গণপ্রজাতন্ত্রী’ ও পরাশক্তি চীন। এর আগে সার্স ও মার্স ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশটিতে হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

মুসলিমদের ধারণা, মিয়ানমারে যে রোহিঙ্গা নির্যাতন-নিপীড়ন চলছে তা মূলত চীনের পৃষ্ঠপোষকতায় হচ্ছে। যেখানে অন্য চার পরাশক্তি মিয়ানমারের বিরুদ্ধে একপ্রকার কঠোর অবস্থানে, সেখানে চীনই ভেটো দিচ্ছে মিয়ানমারের পক্ষে। চীনের ওপর মহামারিকে দেশটির কর্মফল হিসেবে বিবেচনা করছেন অনেকে।  

আল্লাহতায়ালার অবাধ্যতা ও সাধারণ নিরীহ প্রজাদের ওপর অত্যাচারী শাসকদের নির্যাতন সীমা ছাড়িয়ে গেলে এভাবেই শিক্ষা ও শাস্তি দিয়ে থাকেন; যেমন দিয়েছেন  ফেরাউন সম্প্রদায়কে।

যখন বিশ্বাসীরা অত্যাচারী শাসকদের দ্বারা নির্যাতিত হতে থাকবে দেশের অরাজকতা, ব্যভিচার কালচারে পরিণত হবে এবং স্রষ্টার অস্তিত্বকে ব্যঙ্গরসে রূপান্তরিত করে চলবে কাদা ছোড়াছুড়ি, যুক্তিতর্ক, মারামারি; স্বল্প সংখ্যক মুসলিমদের মধ্যে অত্যাচারের প্রতিবাদ করার মতো কেউ থাকবে না, আল্লাহ অত্যাচারীদের মাঝে এমন এক রোগ ছড়িয়ে দেবেন যার নাম আগে তারা কখনোই শুনেনি। আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যখন কোনো জাতি বা সম্প্রদায় অশ্লীল ও ঘৃণ্য কাজে লিপ্ত হয়, তখন তাদের মধ্যে এমন এক ভয়ঙ্কর মহামারি দেখা দেয়, যা তারা অতীতে কখনও দেখেনি।’ [ইবনে মাজা]

মুসলিমরা বলেন, সৃষ্টির সঙ্গে চীনা প্রশাসন সাময়িক জোর খাটাতে পারলেও আল্লাহর মনোনীত জীবন বিধান ইসলাম ও রাসুল (সা.)-এর অনুসারীদের ওপর অন্যায়-অত্যাচারের কারণে তাদের কমিউনিটি ও অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে।

অনেকে বলছেন, নির্মম অত্যাচারে মুসল্লিশূন্য মসজিদ আর নিপীড়িত সংখ্যালঘু উইঘুরের গৃহবন্দি মুসলিমদের আহাজারি আল্লাহর আরশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। উইঘুর মুসলিমরা যেমন একপ্রকার গৃহবন্দি, তেমনই করোনার আতঙ্কে পুরো চীনই কার্যত অবরুদ্ধ, গৃহবন্দি। ব্যস্ত রাস্তাঘাট এখন সুনসান ভুতুড়ে পরিবেশ। ঠাট্টাও চলছে সমান তালে। ভয়াবহ মহামারি চলছে, হাসপাতালগুলোয় জমে-মানুষে টানাটানি অবস্থা। ফেসবুক, টুইটার ও ইনস্টাগ্রামসহ অনেক কিছু নিষিদ্ধ করেছে চীন, কিছুদিন আগে নিষিদ্ধ করেছে হিজাবও। আল্লাহ এমন অবিচার সইতে পারে না। এখন দেশটির মানুষের জন্য মাস্করূপী হিজাব ব্যবহার অঘোষিতভাবে ফরজে আইন বা ব্যক্তিগতভাবে অবশ্য পালনীয় হয়ে গেল!

চীনের উহান শহর থেকে ছড়ানো প্রাণঘাতী ভাইরাস নভেল করোনা এখন বিশ্ববাসীর জন্য আতঙ্কের বিষয়। কারণ চীন থেকে এরই মধ্যে ভাইরাসটি বিশ্বের অনেক দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। চীনে বহু মানুষ মারা গেছেন, আক্রান্ত হয়েছেন হাজারো মানুষ। অথচ এ ভাইরাসের কোনো টিকা এখনও আবিষ্কার হয়নি। সাধারণ কোনো অ্যান্টিবায়োটিকও কাজ করে না। ভারত ও নেপালেও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। আমাদের মতো জনবহুল দেশে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে গবেষক ও চিকিৎসকরা ধারণা করছেন।

চীনের গবেষকদের মতে, এ ভাইরাস সামুদ্রিক মাছ কিংবা অবৈধভাবে শিকার করা বন্যপ্রাণী থেকে ছড়িয়েছে। আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘স্থলে ও জলে মানুষের কৃতকর্মের দরুন বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে। আল্লাহ তাদের কর্মের শাস্তি আস্বাদন করাতে চান, যাতে তারা ফিরে আসে।’ (সুরা রুম: ৪১)। সুতরাং যে কোনো বড় দুর্যোগ, দুর্ভোগ দেখা দিলে নিশ্চিতভাবে জেনে নিতে হবে যে, তা মানুষেরই কোনো কৃতকর্মের ফল। পৃথিবীতে যত দুর্যোগ আসে তাকে আমরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলি। কারণ এসবের পেছনে প্রাকৃতিক কারণ অনুসন্ধান করি। কিন্তু ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের একান্ত বিশ্বাস, পার্থিক বিপদ-আপদ, দুর্যোগের জন্য প্রাকৃতিক কারণের মতো নৈতিক কারণের ভূমিকা অনস্বীকার্য। উপরোক্ত আয়াতে সেদিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, এবং আমি অবশ্যই তোমাদের ভীতিপ্রদ পরিস্থিতি, ক্ষুধা-অনাহার এবং অর্থ-সম্পদ, জান ও আয়-উপার্জনের লোকসান ঘটিয়ে পরীক্ষা করব। এ অবস্থায় যারা ধৈর্য ধারণ করবে, তাদের সুসংবাদ দাও। (১: ১৫৫)। 

মহান আল্লাহ বলেন, ‘জালেমরা যা করে, সে সম্পর্কে আল্লাহকে কখনও বেখবর মনে করো না, তাদের তো ওইদিন পর্যন্ত অবকাশ দিয়ে রেখেছেন, যেদিন চক্ষুগুলো বিস্ফারিত হবে।’ (সুরা ইব্রাহিম: ৪২)। আল্লাহর চিরাচরিত নিয়ম হলো জালিমের জুলুমের কিছু স্বাদ তাকে দুনিয়াতেই আস্বাদন করান, আখেরাতের শাস্তি তো আছেই। কখনও কখনও হয়তো জালিমের জুলুমের শাস্তি অনেকটা বিলম্বে দিয়ে থাকেন। তিনি ছাড় দিলেও ছেড়ে দেন না। সুরা মরিয়মে এরশাদ হয়েছেÑ‘আর তোমার প্রতিপালক পালনকর্তা বিস্মৃত হওয়ার নন।’ (সুরা মরিয়ম : ৬৪)।

মাজলুমের পক্ষে জালিমের বিরুদ্ধে আল্লাহ কখন কোনো অদৃশ্য বাহিনী বা শক্তি প্রয়োগ করবেন সেটা তিনিই একমাত্র জানেন। যেমনটি করেছিলেন খন্দকের যুদ্ধের সময়। এরশাদ হয়েছেÑ‘হে মোমিনরা! তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর নেয়ামতের কথা স্মরণ কর, যখন শত্রুবাহিনী তোমাদের নিকটবর্তী হয়েছিল, অতঃপর আমি তাদের বিরুদ্ধে ঝঞ্ঝাবায়ু এবং এমন সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করেছিলাম, যাদের তোমরা দেখতে না। তোমরা যা করো, আল্লাহ তা দেখেন।’ (সুরা আহজাব: ৯)। সুরা মুদ্দাসসিরের ৩১নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘আপনার পালনকর্তার বাহিনী সম্পর্কে একমাত্র তিনিই জানেন।’

আল্লাহ অত্যাচারীদের পাকড়াও করেন। সেটা কখনও অত্যাচারিত দেখে যেতে পারেন, কখনও পারেন না। কখনও খুব তাড়াতাড়ি পাকড়াও করেন, কখনও বহু পরে। কিন্তু পাকড়াও সাধারণত করেন। আর কাকে, কীভাবে, কোন অপরাধের কারণে পাকড়াও করবেন সেটা একমাত্র তিনিই জানেন। সুতরাং চীনের এই জাতীয় বিপর্যয় তাদের জুলুমের শাস্তি হতে পারে, আবার আল্লাহর অন্য কোনো হিকমতও থাকতে পারে।

ইবনে মাজহায় বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো জাতির মধ্যে অশ্লীলতা যখন দেখা দেয় এবং প্রকাশ্যে তারা অশ্লীলতায় লিপ্ত হয় তখন তাদের মাঝে প্লেগ (এবং মহামারি) দেখা দেয়।’ আজকের পৃথিবীতে ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং বৈশ্বিক বিপর্যয়ের এটিও অন্যতম কারণ।

ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে চীন সরকার গতকাল পর্যন্ত উহান শহর থেকে কাউকে বের হতে দিচ্ছে না এবং বাইরে থেকে কোনো লোককেও প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। চীন সরকারের এ সিদ্ধান্তের যথার্থতা সবাই অনুধাবন করছেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এ জাতীয় দুর্যোগে একই কর্মপন্থা অবলম্বনের নির্দেশ করেছিলেন ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সা.) আজ থেকে প্রায় দেড় সহস্রাব্দী আগে। তিনি বলেছেন, ‘তোমরা কোনো এলাকায় প্লেগের (এবং মহামারি) সংবাদ জানতে পারলে সেখানে প্রবেশ করবে না। আর যদি সে সময় তুমি সেখানে থাক, তাহলে সেখান থেকে মৃত্যু ভয়ে বের হবে না।’ (বোখারি মুসলিম)।

সুবহানআল্লাহ! মহানবীর সেই কৌশলের সঙ্গে আজকের চীনের কর্মপন্থা মিলে গেছে। অথচ মহামারির সময়ের জন্য তাঁর সেই নির্দেশনার হেকমত বা রহস্য এতদিন কেউ জানত না। আজ আবারও প্রমাণ হলো, তাঁর প্রতিটি নির্দেশ আসমানি নির্দেশনা থেকেই তিনি দিয়েছেন এবং তা মানুষের জন্য কল্যাণকর। যদিও তার প্রতিটি নির্দেশের কল্যাণকারিতা আমরা বুঝতে পারি না।

ভৌগোলিকভাবে চীনের খুব কাছাকাছি অবস্থান বাংলাদেশের। আমাদের এই জনবহুল এবং দরিদ্র দেশে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে যে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে, তা সহজেই অনুমেয়। সুতরাং করোনা থেকে বাঁচতে প্রথমত, চিকিৎসকদের সুরক্ষামূলক পরামর্শগুলো খুব গুরুত্বের সঙ্গে মেনে চলা উচিত। দ্বিতীয়ত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো সকাল-সন্ধ্যার দোয়া ও রক্ষাকবচ জিকিরগুলো নিয়মিত পড়া উচিত। বিশেষ করে নি¤েœাক্ত দোয়াগুলো বেশি বেশি পাঠ করলেও মহান আল্লাহ এই ভয়াবহ ব্যাধি থেকে রক্ষা করবেন ইনশাআল্লাহ।

এক. ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল বারাসি ওয়াল জুনুনি ওয়াল জুযামি ওয়া ছাইয়্যি ইল আসকাম।’ অর্থ :  হে আল্লাহ অবশ্যই আমি তোমার কাছে ধবল, উš§াদ, কুষ্ঠরোগ এবং সব ধরনের মারাত্মক ব্যাধি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’ (আবু দাউদ, তিরমিজি ও নাসাঈ)।

দুই. আল্লাহুম্মা আফিনি ফি বাদানি, আল্লাহুম্মা আফিনি ফি সাম’ঈ, আল্লাহুম্মা আফিনি ফি বাসারি, লা ইলাহা ইল্লা আনতা। অর্থ: ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার শরীর সুস্থ ও নিরাপদ রাখ। হে আল্লাহ! তুমি আমার কান সুস্থ ও নিরাপদ রাখ। হে আল্লাহ! তুমি আমার চোখ সুস্থ ও নিরাপদ রাখ। তুমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।’ (আল-আদাবুল মুফরাদ)।

তিন. আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন মুনকিরাতিল আখলাক, ওয়াল আ’মাল ওয়াল আহওয়া, ওয়াল আদওয়া। অর্থ: ‘হে আল্লাহ! অবশ্যই আমি তোমার কাছে দুশ্চরিত্র, অসৎকর্ম, কুপ্রবৃত্তি এবং কঠিন রোগগুলো থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।’ (তিরমিজি)।

তৃতীয়ত, কায়মনোবাক্যে গণইস্তেগফার। কোনো জাতির প্রতি আল্লাহর গণআজাব অবতরণের পথে দুটি অন্তরায় থাকে। এক. সে জাতির কাছে প্রেরিত নবী উপস্থিত থাকা, দুই. ইস্তেগফার বা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। এরশাদ হয়েছে‘অথচ আল্লাহ কখনোই তাদের ওপর আজাব নাজিল করবেন না, যতক্ষণ আপনি তাদের মাঝে অবস্থান করবেন। তাছাড়া তারা যতক্ষণ ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবে আল্লাহ কখনও তাদের ওপর আজাব দেবেন না।’ (সুরা আনফাল: ৩৩)। আল্লাহ আমাদের করোনাভাইরাসসহ যাবতীয় আজাব-গজব থেকে বেঁচে থাকার সক্ষমতা দান করুন।

[email protected]

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ »

সর্বশেষ..