দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

করোনাভাইরাস শনাক্তে বাংলাদেশকে কিট দিচ্ছে চীন

নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত চীনের জন্য স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সামগ্রী হিসেবে মাস্ক, গাউন, ক্যাপ, হ্যান্ড গ্লোভস ও স্যানিটাইজারসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ভাইরাস শনাক্তে বাংলাদেশকে উন্নতমানের কিট দেবে চীন। এছাড়া বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ব্যবসায়ীদের অন্য কোনো দেশ থেকে কাঁচামাল আমদানির প্রয়োজন নেই।

গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ও ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং। গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে একট বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পরই সংবাদ সম্মেলনে আসেন তারা। সেখানে তারা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত একমাত্র সিঙ্গাপুর ছাড়া কোথাও কোনো বাংলাদেশি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হননি। চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে সেখান থেকে ৩১২ বাংলাদেশিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ফ্লাইটে ১ ফেব্রুয়ারি দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। কিন্তু বিপত্তি ঘটে বিমানের ওই পাইলটদের আর প্রবেশ করতে দিচ্ছে না অন্য কোনো দেশ। এতে বিপাকে পড়েছে বিমান।

চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেন, করোনাভাইরাস শনাক্তে বাংলাদেশকে সর্বাধিক উন্নত মানের ৫০০ কিট সরবরাহ করবে চীন। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি এ কিট হস্তান্তর করা হবে। প্রয়োজনে আরও দেওয়া হবে। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। করোনাভাইরাসের কোনো সীমান্ত নেই। বাংলাদেশ যে সহমর্মিতা দেখাচ্ছে, তা বন্ধুত্বের পরিচয় বহন করে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, চীনের বিভিন্ন শহরে অবরুদ্ধ আরও ১৭১ বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অবশ্য চীনে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের অন্য সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। ওই ১৭১ বাংলাদেশিকে আরও কিছুদিন সেখানে থেকে দেশে ফেরার পরামর্শ দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

স্বাস্থ্য উপকরণ দেওয়ার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে ঢাকায় চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন মহানুভবতায় আমরা সাধুবাদ জানাই। করোনাভাইরাস ইস্যুতে বাংলাদেশ যে সহযোগিতা করে যাচ্ছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে একটি চিঠি দিয়েছেন। এতে দু’পক্ষের সম্পর্ককে মূল্যায়ন করা হয়।

‘আমি একটি ভালো খবর দিতে চাই, চীনা দূতাবাস ৫০০ করোনাভাইরাস শনাক্তের কিট বাংলাদেশকে সরবরাহ করবে’ বলে জানান রাষ্ট্রদূত।

এক প্রশ্নের উত্তরে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, ভাইরাসের কারণে বাংলাদেশের চীনা প্রকল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব পড়বে না। চীন দ্রুত সময়ের মধ্যে এ সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে। চীনের সঙ্গে বাণিজ্য কমবে কি না এ বিষয়ে তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে সাময়িক সমস্যা হতে পারে। কিন্তু বড় কোনো ঝামেলা হবে না।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য চীন থেকে কাঁচামাল আমদানি করা হয় এবং এর সরবরাহে কোনো প্রভাব পড়বে না বলেও তিনি মনে করেন। রাষ্ট্রদূত এ সময় বলেন, আমার মনে হয় এখানকার ব্যবসায়ীদের অন্য জায়গা থেকে পণ্য আনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিছু কারখানা এরই মধ্যে উৎপাদনে গেছে।

এদিকে সংবাদ সম্মেলন শেষে চীনা দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন ও কাউন্সিলর ইয়ান হুয়ালং জানান, ২০১৯-এ নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) শনাক্ত করতে রিয়েল-টাইম ফ্লুরোসেন্ট আরটি-পিসিআর কিটগুলো ব্যবহার করা যাবে। চীন প্রথমবারের মতো কোনো দেশে এ-জাতীয় অনুদান দিতে যাচ্ছে। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোনো রোগী পাওয়া গেলে এ-জাতীয় কিট আরও সরবরাহ করা হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..