স্পোর্টস

করোনায় অনির্দিষ্টকাল স্থগিত দেশের ক্রিকেট

ক্রীড়া প্রতিবেদক : দিন দিন করোনাভাইরাসের বিস্তার বেড়েই চলেছে। স্বাভাবিকভাবে সবার মতো ভীতি কাজ করছে ক্রিকেটারদের মধ্যে। যে কারণে মাঠের ক্রিকেট থেকেও তারা দূরে থাকতে চাইছেন। ব্যাপারটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তাই গতকাল সংস্থাটির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানিয়ে দেন, সব ধরনের ক্রিকেট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ। সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এদিকে অন্তত আগামী ১৫ এপ্রিলের আগে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) শুরুর সম্ভাবনা নেই।

এ মৌসুমের ডিপিএল শুরু হয়েছিল গত রোববার। কিন্তু এ টুর্নামেন্টের এক রাউন্ড শেষ হতে না হতেই করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়ে। তাই তো এ টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় রাউন্ড স্থগিত করেছিল বিসিবি। এরই মধ্যে আবার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ঘোষণা দেন, করোনার প্রভাবে আগামী ৩১ মার্চ দেশের সব ধরনের খেলাধুলা বন্ধ থাকবে।

সরকারের নির্দেশনা এলেও বেশিরভাগ ক্লাব ও ক্রিকেটাররা চেয়েছিল ডিপিএল চালিয়ে যেতে। কিন্তু পরিস্থিতির খাতিরেই খেলা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলে গতকাল জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান, ‘আপনারা জানেন যে পুরো পৃথিবীতেই যা হচ্ছে, সব জায়গাতেই খেলা বন্ধ। আমাদেরও ক্রিকেট বন্ধ হয়ে গেছে, প্রথম রাউন্ডের পর ডিপিএল বন্ধ করেছি। তখন আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে আমরা দিন দুয়েক অপেক্ষা করি, অবস্থা ও পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেব। সেটি একটি তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত ছিল। এখন আমরা সবাই বসে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কিছু কিছু পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। প্রথম দিকে মনে হয়েছে খেলোয়াড়রা খেলতে চাচ্ছে, ক্লাবগুলোও খেলতে চাইছিল। কিন্তু যত সময় যাচ্ছে, কিছু ভিন্নমতও আসছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ক্রিকেটের সব খেলা আপাতত স্থগিত।

অনির্দিষ্টকাল স্থগিত হলেও কবে আবার ক্রিকেট মাঠে ফিরবে। এ ব্যাপারে অবশ্য বিসিবি সভাপতি কিছু বলতে পারেননি। তবে  তিনি জানিয়েছেন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে আলোচনা হতে পারে আগামী ৩১ মার্চের পরের অবস্থা দেখে, ‘পরিস্থিতির যদি উন্নয়ন হয়, যদি মনে হয় এখন খেলা চালু করা সম্ভব, তাহলে আমরা খেলা চালু করব। সময় সম্পর্কে বলা মুশকিল। যদি বুঝতাম যে ৩১ মার্চের পর সব ঠিক হয়ে যাবে, তাহলে বলতাম ৩১ মার্চ! কিন্তু পরিস্থিতি তখন ভালো হয় নাকি আরও খারাপ হবে, তা তো জানি না। তবে আমার মনে হয় না, ১৫ এপ্রিলের আগে ডিপিএল শুরুর সম্ভাবনা আছে। বরং এটা আরও বাড়তে পারে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। শুধু ক্রিকেটারদের নয়, প্রতিটি মানুষের সচেতন ও সতর্ক হওয়া উচিত করোনাভাইরাস নিয়ে। এজন্যই আমরা মনে করছি, ক্রিকেট কোনোভাবেই চলতে পারে না।’ করোনার কারণে খেলা বন্ধ হলেও ক্রিকেটারদের সচেতন থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন বিসিবি প্রধান, ‘লিগ শুরুর সময়ই প্রতিটা খেলোয়াড়কে একটা নির্দেশনা ক্লাব থেকে দেওয়া হয়েছিল। সতর্কতামূলক কথাগুলো তাদের জানানো হয়েছে। এখনও তাদের জন্য একই পরামর্শ থাকবে। একদম না পারলে যেন কেউ বাইরে না যায়। অন্য কারও সংস্পর্শে যত কম আসা যায়, তত ভালো। বলছি না লকডাউন করতে হবে, করতে পারলে ভালো হতো। তবে ওদের সাবধানে থাকতে হবে।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..