Print Date & Time : 28 January 2021 Thursday 4:57 pm

করোনায় উল্টোরথে সেন্ট্রাল ফার্মা

প্রকাশ: November 22, 2020 সময়- 12:04 am

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: করোনার মধ্যে ওষুধ কোম্পানিগুলোর রমরমা ব্যবসা হলেও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যাল উল্টোপথে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এ কোম্পানিটি লোকসানে রেকর্ড গড়েছে। তবে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ মনে করছে আগামী বছর তারা ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালের ২০১৯-২০ আর্থিক বছর শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ৯ টাকা ২৪ পয়সা। সেই হিসাবে বছর শেষে কোম্পানিটির মোট লোকসান দাঁড়িয়েছে ১১০ কোটি ৭০ লাখ টাকা। ২০১৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এ কোম্পানিটি ২০১৯-২০ অর্থবছরেই সবচেয়ে বেশি লোকসান করেছে। এজন্য কোম্পানি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পাশাপাশি করোনাভাইরাসকে দায়ী করছে।

বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালের কোম্পানি সচিব মো. তাজুল ইসলাম শেয়ার বিজকে বলেন, করোনার কারণে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এই সময়ে শ্রমিক আসেনি। সেটাও ক্ষতির একটি কারণ। তাছাড়া করোনার কিছুদিন আগে আমাদের ফ্যাক্টরি বন্ধ ছিল, সেই প্রভাবও কিছুটা রয়েছে। এখন আমাদের কারখানা চালু রয়েছে। আশা করছি আগামীতে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারব।

এদিকে ২০১৯-২০ আর্থিক বছরে বড় ধরনের লোকসানে থাকলেও এর আগের বছরগুলোয় মুনাফায় ছিল এই প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৮-১৯ আর্থিক বছরে এই প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা ছিল পাঁচ কোটি ৭০ লাখ টাকা, ২০১৭-১৮ আর্থিক বছরে যার পরিমাণ ছিল ছয় কোটি টাকা। আর ২০১৬-১৭ আর্থিক বছরে কোম্পানিটি মুনাফা ছিল ১০ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

মুনাফায় থাকলেও ২০১৫ সালের পর আর লভ্যাংশ বাড়াতে পারেনি কোম্পানিটি। এসময় কোম্পানি ১৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দেয়। এরপর ২০১৬ ও ২০১৭ সালে তারা ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ প্রদান করে। পরের বছর তা পাঁচ শতাংশ বোনাসে নেমে আসে। পরের বছর এক শতাংশ নগদ লভাংশে নেমে আসে। আর সর্বশেষ বছরে (২০১৯-২০) শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি।

এদিকে সেন্ট্রাল ফার্মা বড় ধরনের লোকসান করলেও ওষুধ খাতের অন্যান্য কোম্পানির মুনাফা বেড়েছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে স্কয়ার ফার্মার আগের অর্থবছরের ১৪ টাকা ৯৮ পয়সার ইপিএস ২০১৯-২০ অর্থবছরে বেড়ে হয়েছে ১৫ টাকা ৮২ পয়সা। এছাড়া বেক্সিমকো ফার্মার সাত টাকা ৪৮ পয়সা ইপিএস বেড়ে আট টাকা ৬৭ পয়সা, একমি ল্যাবরেটরিজের ছয় টাকা ৮১ পয়সার ইপিএস বেড়ে ছয় টাকা ৮৫ পয়সা, রেনাটার ৪২ টাকা ৩৯ পয়সার ইপিএস বেড়ে ৪৫ টাকা ২৯ পয়সা, বিকন ফার্মার ৫১ পয়সার ইপিএস বেড়ে এক টাকা ৬৫ পয়সা ও ইন্দোবাংলা ফার্মার এক টাকা ৩৯ পয়সার ইপিএস বেড়ে এক টাকা ৪০ পয়সা হয়েছে।

এদিকে অন্যান্য বছর মুনাফায় থাকলেও কোম্পানিটির বিরুদ্ধে নানা সময়ে জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। ২০১৮ সালেও প্রভিশন, ব্যাংকঋণের তথ্য উপস্থাপন এবং কর ও দায় সমন্বয় না করে মুনাফা-সম্পদ বাড়িয়ে দেখায় কোম্পানিটি। ২০১৮ সালের জুনে শেষ হওয়া আর্থিক বছরে ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালসকে নিরীক্ষা করে নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান ‘জোহা জামান কবির রশিদ অ্যান্ড কোং’। নিরীক্ষকের প্রতিবেদনে স্বল্পমেয়াদি ঋণের সুদ, মন্দ ঋণ ও দায়ের বিপরীতে প্রভিশন না রাখাসহ পাঁচ বিষয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে। নিরীক্ষকের মতে, সেন্ট্রাল ফার্মা স্বল্পমেয়াদি ঋণের সুদ ও সংশয়যুক্ত অনাদায়ী পাওনার বিপরীতে কোনো প্রভিশন রাখেনি। ওই দুই খাতে প্রভিশন না রাখায় কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফার অঙ্ক বাড়ে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ব্যবসা করা ইউরোপীয় ও মার্কিন কোম্পানি গ্যাটকো ও বাংলা ক্যাটের হাত ধরে আশির দশকে সেন্ট্রাল ফার্মার যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে অন্য ব্যবসায় যুক্ত হয়ে ১৯৯৩ সালে স্থানীয় মেট্রো গ্রুপের কাছে কোম্পানিটির মালিকানা হস্তান্তর করে গ্যাটকো। এরপর পুরোনো যন্ত্রপাতির সঙ্গে নতুন যন্ত্রপাতি বসিয়ে ১৯৯৪ সালে মেট্রো গ্রুপের অধীনে নতুন করে উৎপাদনে আসে কোম্পানিটি। তবে কয়েক বছর পরই মনসুর আহমেদের কাছে সম্পূর্ণ মালিকানা হস্তান্তর করে দেয় মেট্রো গ্রুপ। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে আলিফ গ্রুপের কাছে সেন্ট্রাল ফার্মার মালিকানা হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ, যদিও পরে তা কার্যকর হয়নি।