আজকের পত্রিকা দিনের খবর বাণিজ্য সংবাদ শেষ পাতা সর্বশেষ সংবাদ

করোনায় তামাকের তামাক নিষিদ্ধে শিল্পকে স্বাস্থ্যের সুপারিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনাভাইরাস মোকাবিলায় দেশের সব তামাক কোম্পানির উৎপাদন, সরবরাহ, বিপণন ও তামাকপাতা ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে শিল্প মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করে চিঠি দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সোমবার (১৮ মে) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণয় সেলের সমন্বয়কারী ও যুগ্মসচিব মো. খায়রুল আলম সেখ সই করা চিঠি শিল্প সচিব বরাবর দেওয়া হয়।

‘কভিড-১৯ সংক্রমণ চলাকালীন সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ এর আলোকে এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যয়ের আলোকে সকল তামাক কোম্পানির উৎপাদন, সরবরাহ ও বিপণন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সংক্রান্ত’-শিরোনামে চিঠি দেওয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তামাককে কভিড-১৯ সংক্রমণ সহায়ক হিসেবে চিহ্নিত করে এর ব্যবহার নিরুৎসাহিত করার কথা বলছে। ধূমপানের কারণে শ্বাসতন্ত্রের নানাবিধ সংক্রমণ এবং কাশিজনিত রোগ তীব্র হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাধিক গবেষণা পর্যালোচনা করে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা সম্প্রতি জানিয়েছে, অধূমপায়ীদের তুলনায় ধূমপায়ীদের কোভিড-১৯ সংক্রমণে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এছাড়াও গবেষণা দেখা গেছে, কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত ধূমপায়ীর মৃত্যুঝুঁকিও ১৪ গুণ বেশি। কোভিড-১৯ সংক্রমণ মোকাবিলায় ভারতসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সাময়িকভাবে সিগারেট ও তামাকজাত পণ্য ক্রয়-বিক্রয়, সীসা বার, উন্মুক্তস্থানে পানের পিক ফেলার মতো বিষয়গুলোকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বাংলাদেশেও কোভিড-১৯ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় সরকার কোভিড-১৯ মোকাবিলায় বহুমাত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ বাস্তবায়ন করছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ক্রমবর্ধমান কোডিড-১৯ রোগ প্রতিরোধে, শনাক্তকরণ ও চিকিৎসাসেবা প্রদানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের তামাক কোম্পানিগুলোকে উৎপাদন, সরবরাহ ও বিপণন করার জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিশেষ অনুমতিপত্র প্রদান করা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা মোকাবেলা এবং স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি হ্রাস করতে প্রণীত সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ -এ সংক্রামক রোগের বিস্তার রোধে বাজার, গণজমায়েত সাময়িকভাবে বন্ধ, দেশের অভ্যন্তরে এক স্থান হতে অনা স্থানে চলাচল নিষিদ্ধকরণ করা হয়েছে। কিন্তু তামাক কোম্পানিগুলো শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনার অজুহাতে এ আইন লঙ্ঘন করে চলেছে।

কভিড-১৯ সংক্রমণ ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় এগিয়ে নিতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা বিশেষ প্রয়োজন।

চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশে ১৫ বছরের উর্ধ্বে জনগোষ্ঠির তিন কোটি ৭৮ লাখ বা ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ তামাক সেবন করে (গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে-২০১৭) ও তামাকজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে বছরে এক লাখ ৬১ হাজারের অধিক মানুষ মারা যায় (দি টোব্যাকো এটলাস-২০১৮)। তামাক খাত থেকে রাজস্ব আয়ের চাইতে তামাকজনিত রোগ ব্যাধির চিকিৎসা ব্যয় অনেক বেশি।

আরো বলা হয়, সরকার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এফসিটিসি সই ও অনুসমর্থন করেছে। এর আলোকে ২০১৩ সালে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন’ এর সংশোধনী পাস ও ২০১৫ সালে বিধিমালা জারি করেছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনকে গুরুত্ব দিয়ে ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় তামাক নিয়ন্ত্রণকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। জাতীয় সংসদ ও ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন কর্তৃক আয়োজিত সাউথ এশিয়ান স্পিকার্স সামিট ২০১৬ (৩১ জানুয়ারি) এর সমাপনী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে তামাকের ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

এ লক্ষ্যে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে করোনাভাইরাসজনিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় তামাক কোম্পানিকে অনুমতি প্রত্যাহারসহ সকল তামাক কোম্পানির উৎপাদন, সরবরাহ, বিপণন ও তামাকপাতা ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে শিল্প সচিবকে চিঠিতে অনুরোধ করা হয়।

২৬ মার্চ থেকে দেশে লকডাউন শুরু হয়। জরুরী সেবা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনসহ বেশ কিছু খাত ছাড়া অন্যান্য পরিবহন নিষিদ্ধ করে সরকার। পরে দুইটি তামাক কোম্পানি লকডাউনের মধ্যে উৎপাদন, সরবরাহ, বিপণন স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা চেয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়। মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সব জেলা প্রশাসককে চিঠি দেয়। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে।

অপরদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) তামাককে করোনা সংক্রমণ সহায়ক হিসেবে চিহ্নিত করে এর ব্যবহার নিরুৎসাহিত করার কথা বলছে। ধূমপানের কারণে শ্বাসতন্ত্রের নানাবিধ সংক্রমণ এবং শ্বাসজনিত রোগ তীব্র হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন গবেষণা পর্যালোচনা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে যে, অধূমপায়ীদের তুলনায় ধূমপায়ীদের কভিড-১৯ সংক্রমণে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এই সতর্কতা আমলে নিলে দেশে বর্তমানে প্রায় ৪ কোটি তামাক ব্যবহারকারী মারাত্মকভাবে করোনা সংক্রমণ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তামাকের সহজলভ্যতা এবং ত্রুটিপূর্ণ কর কাঠামোই এর প্রধান কারণ। সেজন্য করোনার মধ্যে তামাকের উৎপাদন, সরবরাহ ও বিপণন বন্ধ রাখতে সরকারকে অনুরোধ করে আসছে তামাক বিরোধী সংগঠনগুলো।

###

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..