সারা বাংলা সুশিক্ষা

করোনায় পরীক্ষা নিয়ে বিপাকে রাবি শিক্ষার্থীরা

আবু সাঈদ সজল, রাবি : করোনা সংক্রমণের আশঙ্কায় গত ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। কবে নাগাদ খোলা হবে তা এখনও অনিশ্চিত। ফলে দু-একটি কোর্স বাকি থাকতেই স্থগিত হয়ে যায় বিভিন্ন বর্ষের চলমান ফাইনাল পরীক্ষা। এ কারণে উভয় সংকটে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। এদিকে সেশনজট এড়াতে গত ৯ জুলাই থেকে অনলাইন ক্লাস শুরু করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। তবে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় একদিকে শিক্ষার্থীরা যেমন অসমাপ্ত পরীক্ষা দিতে পারছেন না, অন্যদিকে সব কোর্সের পরীক্ষা শেষ না হওয়ায় তারা অংশ নিতে পারছেন না চলমান অনলাইন ক্লাসেও।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনা সংকটে ছুটি ঘোষণার আগে বিভিন্ন বিভাগে পরীক্ষার কাজ পুরোদমে চলমান ছিল। এর মধ্যে বেশিরভাগ বিভাগ সম্পূর্ণ পরীক্ষা শেষ করলেও কিছু বিভাগ পরীক্ষার মাঝামাঝিতে এসে আটকে যায়। এসব বিভাগের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগের তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষ, আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের প্রথম ও চতুর্থ বর্ষ এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষ ছাড়া বাকি সব বর্ষের পরীক্ষা আটকে আছে। একইভাবে ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্স বিভাগের লেভেল ফোর সেমিস্টার টু’র পরীক্ষাও ঝুলে আছে। এদিকে পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউমান রিসোর্স বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষ এবং ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ব্যবহারিক পরীক্ষাও অসম্পন্ন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৩ সালের অ্যাক্টে পরিচালিত স্বায়ত্তশাসিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেশনজট এড়াতে ও শিক্ষার্থীদের এগিয়ে রাখার জন্য আটকে থাকা সেমিস্টারের পরীক্ষা না নিয়ে পরবর্তী সেমিস্টারের ক্লাস অনলাইনে শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর দুই সেমিস্টারের পরীক্ষা কম সময়ের ব্যবধানে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ঢাবি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু গত ৭ সেপ্টেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মৌখিক পরীক্ষা অনলাইনে শেষ করার ঘোষণা দিলেও এসবের কোনো কিছুই বাস্তবায়ন করছে না বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। এমনকি আটকে থাকা পরীক্ষা নিয়েও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের চতুর্থ বর্ষের একটা পরীক্ষা বাকি থাকাকালে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায়। এতে আমরা কোনো চাকরির জন্য আবেদন করতে পারছি না। করোনার জন্য শিক্ষাজীবন আর চাকরি উভয় সংকটে পড়তে হচ্ছে আমাদের।

পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউমেন রিসোর্স বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আমান উল্লাহ খান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ডিপার্টমেন্টের লিখিত পরীক্ষা হয়ে গেছে, আবার কোনো ডিপার্টমেন্টের এক্সাম শুরুই হয়নি, কিংবা কারও শুধু প্র্যাক্টিক্যাল এক্সাম বাকি আছে। মানে নানা ধরনের জটিলতায় আটকে আছে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর জীবন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে অসমাপ্ত পরীক্ষা নিয়ে নেওয়া এখন সময়ের প্রয়োজনেই জরুরি। এ বিষয়ে প্রশাসনের গ্রহণযোগ্য ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা এখন সময়ের দাবি।

আটকে থাকা পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীরা বলছেন, করোনার কারণে বর্তমানে কোনো কিছুই থেমে নেই। শুধু থেমে আছে শিক্ষা কার্যক্রম। দু-একটি কোর্সের পরীক্ষার জন্য তাদের সবকিছু আটকে আছে। নির্ধারিত সময়ে ফল প্রকাশিত হচ্ছে না। পরীক্ষা অসমাপ্ত থাকায় একদিকে তারা যেমন অনলাইনে পরবর্তী বর্ষের ক্লাসে অংশ নিতে পারছেন না, অন্যদিকে রয়েছে দীর্ঘ সেশনজট আর চাকরির বাজারে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা।

এ বিষয়ে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধিকর্তা ড. মো. ফকরুল ইসলাম বলেন, বাকি থাকা পরীক্ষাগুলো বাকি রেখেই পরবর্তী বর্ষের ক্লাস শুরুর ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে আমরা সব শিক্ষার্থীদের কথাই ভাবছি। বিশেষ করে যাদের সম্মান চতুর্থ বর্ষের ভাইভা বা টেবুলেশন শিট প্রস্তুত না হওয়ায় সম্মানের ফল প্রকাশ আটকে আছে, তাদের বিষয়টা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।

তিনি জানান, আগামী ২৭ অক্টোবর অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভা আহ্বান করা হয়েছে। এ সভায় এসব বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। আটকে থাকা পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এমএ বারী বলেন, সারা বিশ্বে করোনা মহামারি চলছে, এ সময়ে পরীক্ষা নেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সরকারি ঘোষণা এলেই কেবল এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব। তাছাড়া যেসব শিক্ষার্থীর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়েছে, সীমিত পরিসরে তাদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..