বিশ্ব সংবাদ

করোনায় প্রকৃত মৃত্যু আরও বেশি: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

শেয়ার বিজ ডেস্ক: করোনাভাইরাসের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা ১০ লাখ পার হয়েছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেছেন, কভিড-১৯ সংক্রমণে প্রকৃত মৃত্যু ১০ লাখের বেশি হবে। খবর : এনডিটিভি।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের এক অনুষ্ঠানে তেদরোস বলেন, নতুন এ ভাইরাসে ১০ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে এর প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চয়ই আরও বেশি হবে। বিশ্বজুড়ে হাজারো মানুষ হাসপাতালে তাদের জীবন বাঁচাতে লড়াই করে যাচ্ছেন।

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বৈশ্বিক জনগণের কল্যাণে করোনা পরীক্ষা, চিকিৎসা ও টিকার সুবিধার জন্য একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান। গুতেরেস বলেন, প্রতিটি দেশের জাতীয় ও অর্থনৈতিক স্বার্থে একত্রে কাজ করা উচিত।

সবার জন্য সব খানেই জনগণের টিকা পাওয়ার বিষয়টি সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করা উচিত। এ ক্ষেত্রে অ্যাকসেস টু কভিড-১৯ টুলস (এসিটি) অ্যাক্সিলারেটরের সঙ্গে কোভ্যাক্সসুবিধা সেখানে নিতে পারে। সবার জন্য টিকা পৌঁছানোর এ উদ্যোগে তিন হাজার ৫০০ কোটি (৩৫ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের অর্থায়ন প্রয়োজন হবে। এটি জি-২০ দেশগুলো অভ্যন্তরীণ উদ্দীপনা প্যাকেজে যে ব্যয় ধরেছে, তার এক শতাংশেরও কম। এটা বৈশ্বিক পর্যায়ে দুই সপ্তাহে সিগারেট খাওয়ার খরচ। এসিটি অ্যাক্সিলারেটরে পূর্ণ অর্থায়ন করা হলে, তা মহামারি নিয়ন্ত্রণ, আত্মবিশ্বাস ফেরানো ও বৈশ্বিক পর্যায়ে ঘুরে দাঁড়ানোর উদ্দীপনা হিসেবে কাজ করবে।

এর আগে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস করোনা মহামারিতে বিশ্বের ১০ লাখ মানুষের মৃত্যুকে একটি ‘যন্ত্রণাদায়ক মাইলফলক’ হিসেবে উল্লেখ করেন। জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা ১০ লাখ ১৪ হাজার ২৬৬। সংক্রমণের সংখ্যা তিন কোটি ৩৯ লাখ ৭৬ হাজার ৪৪৭ ছাড়িয়ে গেছে।

এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মহাসচিব বলেছেন, ‘আমাদের বিশ্ব এক বেদনাদায়ক মাইলফলক পৌঁছেছে। এ মহামারিতে ১০ লাখ মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। এটি মনকে যন্ত্রণা দেওয়ার মতো একটি সংখ্যা। আমাদের অবশ্যই প্রত্যেক জীবনের দিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। তারা আমাদের বাবা, মা, স্ত্রী, স্বামী, ভাইবোন, বন্ধু বা সহকর্মী কেউ ছিলেন। এ রোগের ক্ষয়ক্ষতি সে ব্যথা আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।’

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। উৎপত্তিস্থল চীনে ৮৩ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হলেও সেখানে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব কমে গেছে। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশে এ ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে। চীনের বাইরে করোনাভাইরাসের প্রকোপ ১৩ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে গত ১১ মার্চ দুনিয়াজুড়ে মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..