প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

করোনায় প্রথম এক উপকর কমিশনারের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা ১২ দিন করোনার সাথে লড়াই করে অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেলেন উপকর কমিশনার (ডিসিটি) সুধাংশু কুমার সাহা। বিসিএস (কর) ক্যাডারের ২৭ তম ব্যাচের এ মেধাবী কর্মকর্তা সোমবার (৮ জুন) রাত ১১টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের করোনা ইউনিটে মৃত্যুবরণ করেন।

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (ট্যাকসেশন) অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ও কর কমিশনার রেজাউল করিম চৌধুরী শেয়ার বিজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কর বিভাগে ও কর ক্যাডারের প্রথম এ কর্মকর্তা প্রাণ হারালেন।তিনি জানান, হাসপাতালের প্রক্রিয়া শেষে লাশ নিজ জেলা টাঙ্গাইলে পাঠানো হয়েছে। সেখানে প্রশাসনের সহায়তায় স্বাস্থ্য বিধি মেনে শ্বশুর বাড়ির চিতায় দাহ করা হয়। মেধাবী এ কর্মকর্তার মৃত্যুতে অ্যাসোসিয়েশন থেকে শোক জানানো হয়েছে।

আরো পড়ুন-পরিবারসহ উপকর কর কমিশনার করোনা আক্রান্ত

আরো পড়ুন-যুগ্ম কমিশনার করোনা আক্রান্ত, কমিশনার-এসিটি ভর্তি

আরো পড়ুন-এক আয়কর কর্মকর্তা করোনা আক্রান্ত

আরো পড়ুন-আরো এক কর পরিদর্শক করোনায় আক্রান্ত

তিনি জানান, অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে আইসিইউ থেকে ভেন্টিলেশনে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের সকল চেষ্টা, আমাদের সবার ভালোবাসার মায়া ত্যাগ করে তিনি পর পারে চলে গেছেন। আমরা তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি। মেধাবী এ কর্মকর্তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।

বিসিএস (ট্যাকসেশন) অ্যাসোসিয়েশন সূত্র জানায়, সুধাংশু কুমার সাহা কর অঞ্চল-৩ ঢাকায় কর্মরত ছিলেন। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি স্বপরিবারে করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন। তিনি ছাড়া তার স্ত্রী মানষী সাহা, তাদের সাত বছরের কন্যা শিশু সাঁঝবাতি ও গৃহকর্মী করোনা আক্রান্ত।

সূত্র জানায়, সরকারি ঘোষণার পর থেকে তিনি অফিস করেছেন। তিনি যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন করে অফিস করেছেন। অফিস আর বাসা ছাড়া কোথাও যেতেন না। সর্বশেষ তিনি ১৪ মে অফিস করেছেন। এরপর কয়েকদিন ধরে তার তীব্র জ্বর ছিল। করোনার উপসর্গ থাকায় নমুনা পরীক্ষা করান। ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) তার নমুনা পজেটিভ আসে। জ্বরের সাথে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় ওইদিন তাকে ঢাকা মেডিকেলের করোনা ইউনিট-২ (বেড-১, রুম-১, ওয়ার্ড-৬০১) ভর্তি করানো হয়। দেওয়া হয় অক্সিজেন সাপোর্ট। অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সোমবার রাতে অবস্থার আরো অবনতি হলে ভেন্টিলেশনে নেওয়া হয়। পরে রাত ১১টার দিকে তিনি মারা যান। তিনি ২৭ তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করে বিসিএস (কর) ক্যাডারে যোগদান করেছিলেন।

তার সহকর্মীরা জানান, সুধাংশু কুমার সাহা ছাড়াও তার স্ত্রী মানষী সাহা, তাদের সাত বছরের কন্যা শিশু সাঁঝবাতি ও গৃহকর্মীর করোনা পজেটিভ। তারা বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ কর্মকর্তার মাধ্যমে পরিবারের অন্য সদস্যরাও আক্রান্ত হয়েছেন। বিসিএস (ট্যাকসেশন) অ্যাসোসিয়েশন এবং কর অঞ্চল থেকে তার পরিবারের সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তারা ভালো আছেন। তারা দু’জন এখন সুস্থ।

এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও সিনিয়র তথ্য অফিসার সৈয়দ এ মু’মেন শেয়ার বিজকে বলেন, ‘সুধাংশু কুমার সাহার অকাল প্রায়ানে গভীর শোক জানিয়েছেন সিনিয়র সচিব, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও চেয়ারম্যান, এনবিআর আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। করোনায় বিসিএস (কর) ক্যাডারের চৌকষ, দক্ষ, নিষ্ঠাবান ও অত্যন্ত মেধাবী কর্মকর্তা সুধাংশু কুমার সাহার বিদেহী স্বর্গীয় আত্মার পরম সুখ-শান্তি কামনা করেছেন। পাশাপাশি তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।’

অপরদিকে, সুধাংশু কুমার সাহার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (ট্যাকসেশন) অ্যাসোসিয়েশন। মঙ্গলবার (৯ জুন) অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মো. রেজাউল করিম চৌধুরী ও মহাসচিব মোহাম্মদ ফজলে আহাদ কায়ছার সই করা শোক বার্তা দেওয়া হয়।

তাতে বলা হয়, বিসিএস (কর) ক্যাডারের ২৭তম ব্যাচের কর্মকর্তা উপকর কমিশনার সুধাংশু কুমার সাহা সোমবার রাত ১১টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি সরকারি দায়িত্ব পালনকালে কভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে ২৮ মে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪০ বছর। তিনি কর ক্যাডারের অত্যন্ত মেধাবী এবং স্বনামধন্য কর্মকর্তা ছিলেন। তার এই অকাল প্রয়াণে জাতি একজন গর্বিত, পরিশ্রমী এবং দেশপ্রেমিক রাজস্ব কর্মকর্তাকে হারাল।

আরো বলা হয়, সুধাংশু কুমার সাহার মৃত্যুতে অ্যাসোসিয়েশন গভীর শোক প্রকাশ করছে এবং তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছে। তার স্ত্রী মানষী সাহা, সাতবছরের কন্যা সাঁঝবাতি উভয়ই কভিড-১৯ আক্রান্ত। অ্যাসোসিয়েশন তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা জানাচ্ছে।

কর বিভাগের সূত্রমতে, করোনায় এক যুগ্ম কর কমিশনার ও দুই কর পরিদর্শক আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে কর অঞ্চল-৯ এর যুগ্ম কর কমিশনার মৌসুমি বর্মন ও তার মেয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার মেয়ে বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কর অঞ্চল-৪ চট্টগ্রামে কর্মরত শাহনাজ নাসির সুমনা পরিবারসহ করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া কর অঞ্চল-১৫ এর কর পরিদর্শক রহমাতুল্লাহ করোনা আক্রান্ত। তারা বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

অপরদিকে, করোনার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে একজন কর কমিশনার ও একজন উপ কর কমিশনার ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে একজন কর আপীলাত ট্রাইব্যুনালের সদস্য ও কর কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর। তার আগে থেকেই অ্যাজমা ও শ্বাসকষ্ট রয়েছে। কিছুদিন ধরে তিনি অসুস্থ। জ্বর রয়েছে। শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় তাকে রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া কর অঞ্চল-৯ এর সহকারী কর কমিশনার (এসিটি) শেখ আলী হাসান করোনার উপসর্গ নিয়ে রাজধানীর মগবাজার ইনসাফ বারাকাহ কিডনি ও জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

###