বিশ্ব সংবাদ

করোনায় মৃত্যু ছাড়াল ১০ লাখ

শনাক্ত দুই হাজার ৩৫২

শেয়ার বিজ ডেস্ক: চীনে প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে বিশ্বজুড়ে করোনায় প্রাণহানির সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। গত রোববার প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে মৃত্যু ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। খবর: এএফপি।

বিশ্ব অর্থনীতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া করোনা মহামারি ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। করোনার তাণ্ডব চলছে ভারতের বস্তি থেকে ব্রাজিলের গহিন অরণ্য আমাজন ও যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম শহর নিউ ইয়র্কেও। করোনার ভয়াল ছোবল থেকে রেহাই মিলছে না কারও।

মহামারির বিধিনিষেধ মানুষকে ঘরবন্দি হতে বাধ্য করায় থমকে গেছে বিশ্বের বড় বড় সব ক্রীড়া ও বিনোদন অনুষ্ঠান। করোনার বিস্তার ঠেকাতে দেশে দেশে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় ভ্রমণপিপাসুরাও আটকে রয়েছেন চার দেয়ালের মাঝে। করোনাভাইরাসের বিস্তারের গতি ধীর করতে গত এপ্রিলে মানবজাতির অর্ধেক অর্থাৎ প্রায় ৪০০ কোটি মানুষ লকডাউনের বেড়াজালে আটকে পড়েন। লকডাউনের বিধিনিষেধ শিথিল কিংবা প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর বিশ্বজুড়ে আবারও এই ভাইরাসের প্রকোপ বেড়েছে, বেড়েছে প্রাণহানিও।

প্রতিবেদনমতে, বিশ্বজুড়ে করোনায় প্রাণহানির সংখ্যা ১০ লাখ ৯ জনে পৌঁছায়। এছাড়া এই সময়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা তিন কোটি ৩০ লাখ ১৮ হাজার ৮৭৭ জনে দাঁড়ায়।

বিশ্বে এখন পর্যন্ত করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে করোনার সংক্রমণ দ্রুত গতিতে আবারও বাড়তে শুরু করেছে। গত রোববার জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বলছে, দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৭০ লাখ ৭৮ হাজার ছাড়িয়েছে। এতে মারা গেছেন দুই লাখ আট হাজারের বেশি মানুষ।

করোনাভাইরাসের তাণ্ডব বিশ্বজুড়ে অব্যাহত থাকলেও বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত এর কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কার করতে পারেননি। জীবন-জীবিকার মাঝে ভারসাম্য আনতে বিশ্বজুড়ে বিধিনিষেধে শিথিলতা আনতে বাধ্য হচ্ছে সরকার।

গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে প্রথমবারের মতো সার্স-কোভ-২ ভাইরাস শনাক্ত হয়। প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল উহান থেকে বিশ্বের দুই শতাধিক দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস। তবে এর উৎপত্তি নিয়ে এখনও অস্পষ্টতা থাকলেও অনেক বিজ্ঞানী বলছেন, বাদুড়ের শরীর থেকে অন্য কোনো স্তন্যপায়ী প্রাণী হয়ে মানুষের দেহে ভাইরাসটি ছড়িয়েছে।

উহানে এই ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর জানুয়ারিতে কঠোর লকডাউন জারি করা হয়। গত ১১ মার্চ বিশ্বের শতাধিক দেশে ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনাভাইরাস মহামারি ঘোষণা করে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..