দিনের খবর মত-বিশ্লেষণ

করোনায় সংকটে কর্মসংস্থান

ফুয়াদ হাসান: মৃতপ্রায় ব্যাঙ সাপের কবল থেকে বাঁচার জন্য মুখের আয়তন যত বড় করা সম্ভব তত বড় করে অপ্রাণ চেষ্টা করে, তারপরও কি শেষ রক্ষা হয়? বর্তমানে আমাদের সমাজেও সেই চিত্র ফুটে উঠেছে। করোনার তাণ্ডবে বিশ্ববাসী আজ সাপের মুখের ব্যাঙের মতো জীবন-মরণের সঙ্গে লড়াই করছে। গত ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া করোনাভাইরাসের ভয়াবহ তাণ্ডবে পৃথিবী পুরোটা স্থবির। জীবনের টানে গৃহবন্দি মানুষের অর্থনৈতিক কার্যক্রমও আজ শূন্যের কোঠায়। ফলে মুক্তবাজারের বিশ্ব অর্থনীতি আজ মন্দার দ্বারপ্রান্তে। করোনার প্রভাবে আমদানি-রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে, ফলে বিশ্বের বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলো লোকসানের হিসাব গুনছে, অনেকে টিকে থাকার লড়াইয়ে চালিয়ে যাচ্ছে। অনেকে শ্রমিক ছাঁটাই করে টিকে থাকার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

এদিকে বিশ্বের বৃহৎ অর্থনীতির দেশগুলোয় পুঁজিবাজারের নিন্ম মুখী সূচক, ক্রমাগত বেকার সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করা, জিডিপির নিন্মমুখী প্রবণতা সব মিলে বিশ্ব অর্থনীতি আজ টালমাটাল অবস্থায়। অনেকটা সাপের মুখের ব্যাঙের মতো টিকে থাকার লড়াইয়ে আজ বিশ্ব অর্থনীতি। ফলে বিশ্ব অর্থনীতি আজ বৈশ্বিক মন্দার দ্বারপ্রান্তে। অনেকে বলছেন, করোনার ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে মন্দাভাব চলছে, তা অতীতের যে কোনো মন্দার থেকে কঠিন হবে। বিশ্বব্যাংকের গ্লোবাল ইকোনমিকস প্রসপেক্টাসের ভাষ্যমতে, ৮০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় মন্দায় পড়তে যাচ্ছে বিশ্ব। করোনার প্রভাবে নিন্মমুখী বাণিজ্যের ফলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ক্রমাগতভাবে ক্ষতিতে পড়ছে। সংগত কারণে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া এবং টিকে থাকার জন্য কর্মী ছাঁটায়ের মতো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। ফলে নতুন করে কর্মক্ষম মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ছে। এমনি বৈশ্বিক বেকার সমস্যা প্রকট, তার ওপর করোনাভাইরাসের প্রভাবে ক্রমাগত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। করোনার ফলে উন্নত দেশগুলোয় হু-হু করে কর্মঠ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ছে। আইএলও’র মতে, করোনার প্রভাবে পৃথিবীতে নতুন ৩৩০ কোটি মানুষ কর্মহীন হতে পারে, যা পৃথিবীবাসীর জন্য সত্যই দুঃসংবাদ পৃথিবীবাসী ক্রমাগতভাবে আরেকটি ১৯৩০ সালের সাক্ষী হতে যাচ্ছে।

বৈশ্বিক করোনা মহামারির ভয়াবহতা থেকে মুক্ত নয় আমাদের প্রাণের মাতৃভূমি বাংলাদেশ। বাংলাদেশে ৮ মার্চ থেকে শুরু হওয়া করোনায় এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন দুই হাজার ৯৬৫ (২৭ জুলাই পর্যন্ত) জন। প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। করোনার তাণ্ডবে এরই মধ্যে নুয়ে পড়েছে আমাদের আমদানিনির্ভর অর্থনীতি। বৈশ্বিক বাণিজ্যের সংকটের ফলে প্রতিনিয়ত লোকসান গুনছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, কর্মহীন হয়ে পড়ছে হাজার হাজার কর্মঠ মানুষ। ঘর থেকে শুরু করে দেশের সব স্তরে লেগেছে করোনার ছোঁয়া। ফলে নতুন করে সৃষ্টি হচ্ছে নানা রকম জটিলতা, বেকার সমস্যা যার মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশে এমনিতেই বেকার সমস্যা প্রকট। করোনার ফলে নতুন করে সৃষ্টি হচ্ছে বেকারত্ব, যা দেশের জন্য অশুভ বার্তা। করোনার কারণে গত ১৮ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে, যার ফলে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, ফলে অনেকে উচ্চশিক্ষায় সেশনজটের অশঙ্কা করছেন। অন্যদিকে পড়াশোনা শেষ করে চাকরিপ্রত্যাশী বেকাররা চিন্তিত তাদের চাকরির বয়স নিয়ে, যার প্রভাবে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ, যদিও আইএলও’র মতে, দেশে কর্মক্ষম প্রায় চার কোটি ৮২ লাখ মানুষ কর্মহীন। করোনার প্রভাবে বেকারত্বের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে করোনায় সবচেয়ে দুর্দিন পার করছে মধ্যবিত্ত সমাজের মানুষ। অনেকে চাকরি হারিয়েছেন, অনেকে চাকরি করেও বেতন পাচ্ছেন না, আবার অনেকের বেতন কমে গেছে। এ অবস্থায় একদিকে আর্থিক সংকট, অন্যদিকে সমাজিক জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন মধ্যবিত্তরা। সরকারি গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের এক গবেষণায় উঠে এসেছে, করোনাভাইরাসের প্রভাবে দেশে চাকরি হারিয়েছেন ১৩ শতাংশ মানুষ এবং আয় কমে গেছে ৬০ শতাংশ মানুষের। অন্যদিকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্র্যাকের গবেষণা অনুযায়ী, করোনার প্রভাবে চাকরি হারিয়েছেন ৩৬ শতাংশ মানুষ। আর ৩ শতাংশ মানুষের চাকরি থাকলেও বেতন পাচ্ছেন না। করোনার এই ক্রান্তিকালে আমাদের অর্থনীতির সব সূচক যখন নি¤œগামী, ঠিক সেই সময় একমাত্র রেমিট্যান্সের সূচক ঊর্ধ্বগামী। বর্তমানে ১৭৪টি দেশে প্রায় এক কোটি ২৫ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশির বসবাস। এ প্রবাসীরা বছরে ১৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠান, স্থানীয় মুদ্রায় যা এক লাখ ৫৩ হাজার কোটি টাকা এবং দেশের মোট রপ্তানি আয়ের অর্ধেকের বেশি। করোনার এই দুঃসময়ে সদ্যবিদায়ী অর্থবছরে প্রবাসীরা রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠান, যার পরিমাণ এক হাজার ৮২০ কোটি ৩০ লাখ (১৮.২০ বিলিয়ন) ডলার। আমাদের অর্থনীতির প্রাণ রেমিট্যান্সও করোনার প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। করোনার কারণে প্রবাসীদের অনেকে কাজ হারিয়ে দেশে ফিরেছেন। এরই মধ্যে সাত লাখ প্রবাসী দেশে ফিরেছেন। করোনার ফলে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১০ লাখ প্রবাসী কাজ হারিয়ে দেশে ফিরে আসতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জাদওয়া ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানির জরিপ বলছে, চলতি বছরে প্রায় ১২ লাখ শ্রমিক ফেরত পাঠাবে সৌদি আরব, যা দেশের জন্য অশুভবার্তা। কারণ বাংলাদেশের প্রবাসীদের মধ্যে সিংহভাগের বসবাস সৌদি আরবে। যেক্ষেত্রে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর দেশের অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে, রেমিট্যান্সের ওপর ভর করে বেকার সমস্যা সমাধানের চিন্তা করা হচ্ছে, সেখানে তারা নিজেরাই কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে দেশে ফিরছেন। ফলে আমাদের কর্মসংস্থানের সমস্যা আরও ব্যাপক হচ্ছে। এদিকে করোনাভাইরাসের প্রভাবে বিরূপ প্রভাব পড়েছে আমাদের রপ্তানি আয়ে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) মতে, ২০১৯-২০ বিদায়ী আর্থবছরে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল চার হাজার ৫৫০ কোটি ডলার। বিপরীতে রপ্তানি আয় হয়েছে তিন হাজার ৩৫৭ কোটি ডলার, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার থেকে ২৬ শতাংশ কম। গত অর্থবছরে রপ্তানি আয় হয়েছিল চার হাজার ৫৪ কোটি ডলার, যা বিদায়ী অর্থবছরের চেয়ে ১৭ শতাংশ বেশি। আমাদের অর্থনীতির মেরুদণ্ড স্বরূপ পোশাকশিল্পেও রপ্তানি আয় কমেছে আশঙ্কাজনক হারে। ইপিবির মতে, বৈশ্বিক করোনার প্রভাবে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি দ্রব্য তৈরি পোশাকের প্রায় ৩৫০ কোটি ডলারের কার্যাদেশ বাতিল করেন ক্রেতারা। বিদায়ী আর্থবছরে পোশাকশিল্পের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল তিন হাজার ৮২০ কোটি ডলার। বিপরীতে আয় হয়েছে দুই হাজার ৭৯৪ কোটি ৯১ লাখ ডলার, যা লক্ষমাত্রার তুলনায় ২৭ শতাংশ কম। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তুলনায় পোশাকশিল্পে রপ্তানি আয় কমেছে ১৮ দশমিক ১২ শতাংশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরে চামড়া ও চামড়া পণ্যের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১০৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার। বিপরীতে আয় হয়েছে ৭৯ কোটি ৭৬ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার থেকে ২৭ শতাংশ কম। গত বছরের তুলনায় আয় কম হয়েছে ২১ দশমিক ৭৯ শতাংশ কম। এদিকে কৃষিপণ্য রপ্তানি আয়েও পড়ছে করোনার অশুভ ছোঁয়া। সদ্যবিদায়ী অর্থবছরে কৃষিপণ্যে রপ্তানি আয় কমেছে ২৩ শতাংশ। ক্রমাগত নি¤œমুখী আয়ের ফলে প্রতিষ্ঠান লোকসানের মুখে পড়ছে। লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার জন্য অনেকে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিচ্ছেন, অথবা কর্মী ছাঁটাই করে টিকে থাকার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। বিজিএমইএর তথ্যমতে, করোনা পরিস্থিতিতে বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত কারখানার মধ্যে ৩৪৮টি বন্ধ হয়েছে গত দু’মাসে। এছাড়া বেশ কিছু কারখানা টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জরিপমতে, তৈরি পোশাক খাতে নিয়োজিত রয়েছে ৩৩ লাখ ১৫ হাজার মানুষ, যার সিংহভাগ শ্রমিক। বেসরকারি হিসাবমতে, এ খাতে নিয়োজিক শ্রমিকের সংখ্যা ৪০ লাখ। তাছাড়া অনান্য খাতে নিয়োজিত রয়েছেন বিপুলসংখ্যক কর্মঠ মানুষ। করোনা পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মী ছাঁটাই করে টিকে থাকার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের বিপুলসংখ্যক কর্মঠ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ছেন। বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে সিংহভাগ শ্রমিক নারী, যারা গ্রামের নিঃস্ব-অসহায় মানুষ। গ্রামে কাজের সংকটের ফলে পেটের দায়ে যারা শহরে গিয়েছিলেন, এখন তারা কর্মহীন হয়ে বেঁচে থাকার তাগিদে গ্রামে ফিরছেন। অসহায় এই মানুষগুলো গ্রামে এসে কী করবেন? কোথায় গিয়ে দাঁড়াবেন তারা? আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে খামারিরা পশু পালন করেছেন। করোনার কারণে বাজার ব্যবস্থায় নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এসব খামারি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাদের পশু নিয়ে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, কোরবানির জন্য দেশে এক কোটি পাঁচ লাখ ২৮১টি পশুর প্রয়োজন। কিন্তু চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৫ লাখ পশু অতিরিক্ত রয়েছে। পশুর সংখ্যা এক কোটি ১৯ লাখ। এমনিতে চাহিদার তুলনায় জোগান অনেক বেশি, এতে স্বাভাবিকভাবেই মূল্য কমে যাবে। অন্যদিকে করোনায় প্রভাবে মানুষের আয় কমে গেছে, ফলে তাদের ক্রয়ক্ষমতাও হ্রাস পেয়েছে। এ অবস্থায় খামারিরা লোকসান গুনছেন। এ খাতে নিয়োজিত উদ্যোক্তারা নিজেদের ছাড়াও বিপুল মানুষের কর্মের সুব্যবস্থা করেছেন। করোনায় লোকসানের ফলে এ খাতেও বিপুলসংখ্যক কর্মঠ মানুষের কর্মহীনতার সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে উদ্যোক্তা নিজেসহ কমপক্ষে দু-তিনজনের কাজের সৃষ্টি হয়। করোনার ফলে ক্রমাগত লোকসানে এ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর টিকে থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের রিপোর্ট অনুযায়ী, লকডাউনের ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ক্ষতি হয়েছে ৯ হাজার কোটি টাকা। শুধু উৎপাদিত পণ্যের বিক্রয়মূল্য আটকে থাকায় ৪২ শতাংশের বেশি এসএমই প্রতিষ্ঠান বন্ধের উপক্রম হয়েছে। আর কোনোমতে টিকে আছে ৪৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠান। শহরের বিলাসী জীবনযাত্রার ব্যয় ও বাসা ভাড়া দিয়ে টিকে থাকতে পারছেন না এসব মধ্যবিত্ত উদ্যোক্তা। অনেকে ব্যবসা বন্ধ করে দিচ্ছেন। ফলে এ খাতেও কর্মসংস্থান সংকটের মুখে।

রাজধানীতে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন প্রায় এক কোটি ২০ লাখ মানুষ, যাদের বেশিরভাগ মধ্যবিত্ত পর্যায়ে পড়েন। তাদের অনেকে চাকরি হারিয়েছেন, অনেকে চাকরি করেও বেতন পাচ্ছেন না। ফলে বাসা ভাড়া দিয়ে রাজধানীতে ব্যয়বহুল জীবনযাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই কর্মহীন অসহায় এসব মানুষ ক্রমাগতভাবে শহর থেকে গ্রামে ফিরছেন। ওপরের তথ্য ও উপাত্তের ভিত্তিতে আমরা নিশ্চতভাবে বলতে পারি, করোনার কারণে আমাদের কর্মসংস্থানে ঘোর সংকট সৃষ্টি হচ্ছে, যা দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার জন্য এক বড় বাধা। অনেকে বলছেন, করোনায় সৃষ্ট অর্থনৈতিক ও বেকার সমস্যা সমাধানে আমাদের গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতিতে নজর দিতে হবে। কিন্তু উৎপাদননির্ভর গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতি কতটা প্রস্তুত এ সংকট সমাধানে? গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতি মাত্র কয়েক বছর আগেও আমাদের কর্মের সুব্যবস্থা করতে পারেনি, যার ফলে অসহায় মানুষগুলো শহর বা প্রবাসমুখী হয়েছিলেন কাজের খোঁজে। আমাদের জলবায়ুনির্ভর অনুন্নত কৃষি অর্থনীতি এখনও হাজার সমস্যায় নিমজ্জিত। বেকার সমস্যা একটি দেশের উন্নয়নের অন্তরায়। আমাদের অর্থনৈতিক আগ্রযাত্রাকে সুষম রাখতে এখনই বেকার সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। করোনার প্রভাবে যত দ্রুত বেকার সমস্যা ঘনীভূত হয়েছে, এর সমাধান কিন্তু তত সহজে করা যাবে না। এটা একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। তাই এর সমাধানে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কিন্তু বাস্তবতার নিরিখে। করোনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল কৃষি খাতের প্রয়োজনীয়তা। আমাদের জলবায়ুনির্ভর ও সনাতনী কৃষি ব্যবস্থা এতদিন উপেক্ষিত হয়ে আসছে। হাজার সমস্যার বেড়াজালে আবদ্ধ থাকার পরও সমাধানে আমরা খুব বেশি সোচ্চার নই। কিন্তু করোনার বাস্তবতা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিল কৃষি অর্থনীতির প্রয়োজনীয়তা। তাই দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে এবং বেকার সমস্যার সমাধানে কৃষি খাতের উন্নয়নে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে। কৃষি অর্থনীতির স্থায়ী সমাধানের মাধ্যমে একটি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। যেহেতু গ্রামীণ কৃষি আর্থনীতিতে এই বৃহৎ কর্মহীন মানুষের কাজের ব্যবস্থা সম্ভব নয়, তাই কৃষি খাতের পাশাপাশি বিকল্প পথ খুঁজতে হবে। সেক্ষেত্রে প্রবাস বা নগরফেরত মানুষের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে হবে। তাদের বিকল্প কর্মে উৎসাহ দিতে হবে। যেহেতু বেকার সমস্যা আমাদের উন্নয়নের অন্তরায়, কিন্তু সমাধান সময়সাপেক্ষ, তাই করোনায় কর্মহীন মানুষ যেন তাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে পারেন, সেজন্য সরকারি-বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে আর্থিক ও মানবিক সাহায্য করতে হবে। সর্বোপরি বেকারত্ব যেহেতু পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নের অন্তরায়, তাই করোনায় সৃষ্ট এই সংকট নিরসনে এখনই দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিতে হবে।

শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..