বিশ্ব বাণিজ্য

করোনায় স্বর্ণের দাম বেড়ে সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

শেয়ার বিজ ডেস্ক: করোনাভাইরাস নিয়ে উদ্বেগে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণকে বেছে নেওয়ায় মূল্যবান এ ধাতুটির দাম বাড়ছে। প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম এক হাজার ৬০০ ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্ব পুঁজিবাজারে গতকাল এর বড় পতন হয়েছে। খবর: বিবিসি।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সর্বশেষ কার্যদিবসে ফিউচার মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৬৬২ ডলারে। আগের দিনের তুলনায় এ দাম দুই দশমিক তিন শতাংশ বেশি। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারির পর এ দাম সর্বোচ্চ। এক দিনের ব্যবধানে মূল্যবান ধাতুটির দাম বেড়েছে আউন্সে ৩৭ ডলার ৮০ সেন্ট। একইভাবে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্সের দাম হয়েছে এক হাজার ৬৬৬ ডলার ৭০ ডলার, যা আগের দিনের তুলনায় ২১ ডলার ২০ সেন্টে বেশি।

গতকাল বিশ্ব পুঁজিবাজারে বিশেষ করে ইউরোপের বাজারে বড় ধস দিয়ে লেনদেন শুরু হয়েছে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত লন্ডনের এফটিএসই ১০০ সূচক সাড়ে তিন শতাংশ পড়ে যায়। এছাড়া জার্মানির ডিএএক্স সূচক কমেছে তিন দশমিক ৭১ শতাংশ এবং ফ্রান্সের সিএসি সূচক কমেছে তিন দশমিক ৭৫ শতাংশ। এ অঞ্চলের অন্যসব পুঁজিবাজার সূচকও ছিল নি¤œমুখী। এশিয়ার বাজারও গতকাল ছিল নিম্নমুখী। হংকংয়ের হ্যাংসেং সূচক গতকাল পড়ে গেছে প্রায় দুই শতাংশ। চীনের সাংহাই কমেছে দুই শতাংশ এবং জাপানের নিক্কেই সূচক কমেছে দশমিক ৩৯ শতাংশ। এর আগের দিন মার্কিন পুঁজিবাজারে প্রধান তিনটি সূচক ছিল নিম্নমুখী। এর মধ্যে ডাও জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ কমেছে দশমিক ৭৮ শতাংশ। এছাড়া নাসডাক সূচক কমেছে প্রায় দ্ইু শতাংশ এবং এসঅ্যান্ডপি সূচকও কমেছে এক শতাংশের বেশি।

নিরাপদ বিনিয়োগ উৎস হিসেবে স্বর্ণের বাজার বিনিয়োগকারীদের মনোযোগ আকর্ষণ করায় বেচাকেনা বেড়ে স্বর্ণের বাজার চাঙা হতে শুরু করেছে বলে জানান খাতসংশ্লিষ্টরা। সাধারণত ডলারের মান যখন দুর্বল হয়ে ওঠে, তখন স্বর্ণসহ নির্ধারিত বিভিন্ন ধাতুতে বিনিয়োগ করায় নিরাপদ বোধ করেন বিনিয়োগকারীরা। ফলে ধাতুটির দাম বাড়ে। আর ডলার শক্ত অবস্থানে থাকলে স্বর্ণের দাম কমে। তাছাড়া রাজনৈতিক বা আর্থিক কোনো অস্থিরতা দেখা দিলেও এ পণ্যটির দর বাড়ে, কারণ এ সময় এ খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়ে যায়। স্বর্ণকে তখন মানুষ নিরাপদ বিনিয়োগ ভাবে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কমোডিটি ব্রোকার ব্লু লাইন ফিউচার্সের প্রধান বাজার কৌশলবিদ ফিলিপ স্ট্রেইবল বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মন্থরতা নেমে আসার আশঙ্কা থেকে বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজার ও মুদ্রাবাজারে অর্থলগ্নিতে ভরসা পাচ্ছেন না। স্বাভাবিকভাবে তারা স্বর্ণের প্রতি ঝুঁকেছেন। এ পরিস্থিতি মূল্যবান ধাতুটির বাজার পরিস্থিতি চাঙা করে তুলেছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে স্বর্ণের বাজারে এক ভিন্ন ধরনের প্রবণতা বজায় রয়েছে। অন্যান্য সময় ডলারের দাম বাড়লে স্বর্ণের দাম কমতে শুরু করে। তবে এখন ডলার ও স্বর্ণ দুটোর দামই বাড়তির দিকে রয়েছে। স্বর্ণের এ বাজার প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করছে। চাহিদায় চাঙা ভাব বজায় থাকলে আগামী দিনগুলোয় মূল্যবান ধাতুটির দাম আরও বেড়ে যেতে পারে।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বিনিয়োগ ব্যাংক ইউবিএসের বাজার কৌশলবিদ জনি তেভেজ বলেন, স্বর্ণের দাম দ্রুত বাড়ছে। নভেল করোনাভাইরাসের কারণে চীনসহ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্থরতা দীর্ঘায়িত হলে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম বর্তমানের তুলনায় আরও বেড়ে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..