আজকের পত্রিকা দিনের খবর পুঁজিবাজার প্রথম পাতা সর্বশেষ সংবাদ

করোনাকালে ব্রোকারেজ হাউজগুলোতে ছাঁটাই আতঙ্ক

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: বর্তমানে করোনাভাইরাসে ধরাশায়ী বিশ্বের ২১৩টি দেশ। প্রাণঘাতি এ ভাইরাসের কবলে পড়ে থমকে গেছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো করোনার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে।

## বেশিদিন এভাবে চালিয়ে নেয়া সম্ভব নয়: শাকিল রিজভী

বর্তমানে কিছু প্রতিষ্ঠান চালু থাকলেও এখনও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এ তালিকায় রয়েছে পুঁজিবাজারও। পুঁজিবাজার বন্ধ থাকায় ব্রোকারেজ হাউজগুলো দেড়মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যেই হাউজগুলোতে বেড়েছে ছাঁটাই আতঙ্ক।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পুঁজিবাজার বন্ধ থাকায় ব্রোকারেজ হাউজগুলোর আয় শূন্য। কিন্তু এর মধ্যেই কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বেতন পরিশোধ করতে হচ্ছে। এতে হিমশিম খাচ্ছেন মালিকেরা। যাদের ব্রোকারেজ হাউজ রয়েছে তাদের সিংহভাগ মালিকেরই গার্মেন্টসহ অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

দীর্ঘদিন থেকে পুঁজিবাজারের অবস্থা খারাপ থাকলেও অন্য খাত থেকে অর্থ এনে হাউজ চালিয়েছেন তারা। বর্তমানে সে পথও খোলা নেই। কারণ করোনার প্রভাবে অন্যান্য ব্যবসার অবস্থাও নাজুক। ফলে দীর্ঘদিন এই অবস্থা থাকলে কর্মী ছাটাই করা ছাড়া গতি থাকবে না তাদের।

বর্তমানে ব্রোকারেজ হাউজে কর্মরত বেশিরভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারি গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছেন। তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায় এদের অনেকেই চাকরি হারানোর ভয়ে রয়েছেন। কারণ ব্যয়রোধে অনেক মালিকপক্ষ তাদের হাউজের কর্মীর সংখ্যা কমানোর কথা ভাবছেন।

এ প্রসঙ্গে না প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি হাউজের ট্রেডিং অফিসার বলেন, অফিসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তিনি এমন ইঙ্গিত পেয়েছেন। যদি সত্যিই সত্যিই এটা হয় তাহলে আমরা সমস্যায় পড়ে যাব। কারণ হঠাৎ এ পরিস্থিতিতে চাকরিচ্যুত হলে নতুন চাকরি পাওয়া মুশকিল হয়ে পড়বে।

বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে বাজারসংশ্লিষ্টরা বলেন, করোনা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগেই পুঁজিবাজারের অবস্থা ভালো ছিল না। লেনদেন এবং বাজার মূলধন কমে যাওয়াও পুঁজিবাজারের নাজুক পরিস্থিতি তৈরি হয়, যার প্রভাব পড়েছে ব্রোকারেজ হাউজগুলোতে। বর্তমানে লেনদেন বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে মিডওয়ে সিকিউরিটিজ হাউজের চেয়ারম্যান ও ডিএসইর পরিচালক রকিবুর রহমান শেয়ার বিজেকে বলেন, ‘করোনার আগে থেকেই লেনদেন কমে যাওয়াতে সবচেয়ে ক্ষতি হয়েছে আমাদের। কারণ ইনকাম আগের চেয়ে অনেক নিচে নেমে গেছে। এর জের ধরে অনেকেই ব্যবসা ছোট করে ফেলেছেন। আবার প্রতিষ্ঠানের হাতবদলও হয়েছে। অনেক হাউজকর্মী সংখ্যা কমিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে। আর এখন যে পরিস্থিতি চলছে এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি হলে আমাদের অবস্থা আরও খারাপ হবে।’

একই প্রসঙ্গে ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে সব ব্রোকারেজ হাউজ মালিকদের আর্থিক অবস্থা খারাপ। কারণ এই খাত থেকে কোনো আয় আসছে না। কিন্তু প্রতিমাসেই অফিস ভাড়াসহ কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বেতন পরিশোধ করতে হচ্ছে। এইভাবে বেশিদিন চলা মুশকিল। দু-এক মাস হলে সেটা হয়ত চালিয়ে নেয়া সম্ভব। কিন্তু বেশি দিন হলে কারও পক্ষেই এটা চালিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে তারা (হাউজ মালিক) ভিন্ন চিন্তা করতে বাধ্য হবেন। তবে আশা করব এই পরিস্থিতি যেন না হয়।

প্রসঙ্গত, পুজিঁবাজারের এক সময় তিন হাজার ২০০ কোটি টাকার লেনদেন একটা সময় নেমে এসেছে হাজার কোটির নিচে। করেনা পরিস্থিতির কারণে সাধারণ ছুটি ঘোষণার আগে লেনদেন ঘুরপাক খেয়েছে ৫০০ কোটি টাকার মধ্যে। কালেভদ্রে লেনদেন কিছুটা বাড়লেও তা স্থির থাকেনি। এর ওপর করোনাভাইরাস এসে অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০১০ সালের ৫ ডিসেম্বর ডিএসইতে ইতিহাসের রেকর্ড লেনদেন হয়, যার পরিমাণ ছিল তিন হাজার ২৪৯ কোটি টাকা। ওই সময়ে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর আয় ছিল চোখে পড়ার মতো। বড় কিছু হাউজ থেকে এ সময়ে প্রতিদিনই প্রায় ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

কিন্তু সেই সময়ের ধসের পর থেকে বাজার পরিস্থিতি পাল্টাতে থাকে, কমতে থাকে লেনদেন, যার জের ধরে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর আয় কমতে থাকে। বাধ্য হয়ে হাউজ মালিকেরা কর্মী ছাঁটাই করতে থাকেন।

অনেকে ব্যবসা বন্ধ করে অন্য ব্যবসায় ঝুঁকে পড়েন। কেউ কেউ ব্রোকারেজ হাউজ বিক্রিও করে দেন। বর্তমানে কিছু বড় হাউজ ছাড়া অন্যদের লেনদেন এক কোটি টাকার নিচে নেমে এসেছে। ##

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..