আজকের পত্রিকা দিনের খবর প্রথম পাতা সর্বশেষ সংবাদ

করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ১-২% সুদে ঋণ চায় নারী উদ্যোক্তা

ওয়েন্ডের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনাভাইরাসে সৃষ্ট ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নারী উদ্যোক্তাদের আপাৎকালীন এক থেকে দুই শতাংশ সুদে সহজ শর্তে (সহজ শর্তে) ঋণ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে নারী উদ্যোক্তাদের সংগঠন উইমেন এন্ট্রাপ্রিনিওয়ার্স নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (ওয়েন্ড)। বিষয়টি বিবেচনা করতে ওয়েন্ড’র সভাপতি ড. নাদিয়া বিনতে আমিন সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীকে এ সংক্রান্ত চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, এ ঋণ এপ্রিল মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন সম্ভব হলে নারী উদ্যোক্তারা পায়ের নীচে মাটি খুঁজে পাবে। এই ক্রান্তিলগ্নে নারী উদ্যোক্তারা যেন তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কারখানা চালু রাখতে পারেন সেজন্য নারী উদ্যোক্তাদের জন্য একটি ফান্ড গঠনের দাবি জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী উদ্দেশ্য করে লেখা চিঠিতে বলা হয়, ‘আপনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সম্মৃদ্ধ বাঙালী জাতি যখন হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সোনার বাংলা বিনির্মাণে সাহসিকতা ও ঐক্যবদ্ধ ভাবে এগিয়ে চলেছে, যখন উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বাঙালী জাতিকে বিশ্বের দরবারে উচ্চতর মর্যাদায় আসীন করেছেন তখন চীনের উহান থেকে উড়ে আসা করোনা নামক এক বৈশ্বিক সংক্রমক এক মহা সংকট হিসেবে আমাদের সামনে এসে উপস্হিত হয়েছে। এ সংকট মোকাবেলায় আপনি এবং আপনার সরকার জনগনকে সাথে নিয়ে যে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও প্রজ্ঞা ইতোমধ্যে প্রদর্শন করেছেন তা এক কথায় নজিরবিহীন। এ বৈশ্বিক চ্যলেঞ্জ মোকাবেলায় সংক্রমন বিস্তাররোধ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার মান উন্নীতকরণের দৃঢ় ও তড়িৎ পদক্ষেপ আপনার বিজ্ঞ নেত্বৃতেরই প্রকাশ। জনসাধারণের সাহস ও মনোবল বৃদ্ধি ও তৈরিতে আপনি যে অনন্য দৃষ্টান্ত রেখেছেন তাও আমাদের উদ্দীপ্ত করেছে। পাশাপাশি এদেশের খেটে খাওয়া মানুষের মুখে অন্ন তুলে দেবার বিষয়ে ইতোমধ্যে যে ঘোষণা আপনি দিয়েছেন তা আবার ও প্রমাণ করে আপনি মাদার অফ হিউমিনিটি।’

আরো বলা হয়, ‘আপনার এই সাহসী ও দৃঢ় প্রত্যয়ী এগিয়ে চলার পথে এ দেশের কোটি কোটি নারী উদ্যোক্তারা অতীতেও যেমন আপনার সাথে ছিল, বর্তমানেও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। দেশের নারী উদ্যোক্তাদের পক্ষে নারী উদ্যোক্তাদের সংগঠন ওয়েন্ড এই অঙ্গীকার করছে। ওয়েন্ড হচ্ছে বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারী নারী উদ্যোক্তাদের একটি সংগঠন। আমরা নারী উদ্যোক্তারা আপনার সরকারের সহযোগিতায় ক্ষুদ্র পর্যায় থেকে ব্যবসা করে আসছি। দেশের ৭৩ লাখ কর্মহীন নারীদের আত্মকর্মসংস্থান, দেশিয় ও বৈদেশিক বাণিজ্যে অবদান রেখে জিডিপিতে গুরুত্বপুর্ণ অবদানের চেষ্টা করে আসছে।’

চিঠিতে বলা হয়, ‘বর্তমান চলমান বাস্তবতায় আমাদের যে আসন্ন সংকট সে বিষয়ে আপনি নিশ্চয়ই অবহিত আছেন। এরপরও কয়েকটি বাস্তবতা নারী উদ্যোক্তারা আপনার হৃদয়ের সংবেদনশীলতাকে আরও গভীরভাবে স্পর্শ করবে সেই প্রত্যাশা করছে। নারী উদ্যোক্তারা একদিকে যেমন কোটি টাকার অর্থ বিনিয়োগ করতে পারি না অন্যদিকে ব্যবসায়িক উৎপাদন ও আর্থিক ক্ষতি হলে তা কাটিয়ে উঠতে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা পাই না। ইতোমধ্যে করোনাভাইরাসে আমাদের যে ব্যবসায়িক ও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে তা স্বত্বেও হয়তো বা চলতি পুঁজি থেকে মার্চ মাসের খরচ চালান সম্ভব হবে। কিন্তু ব্যবসার ভরা মৌসুম ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত করোনার নেতিবাচক প্রভাবে আক্রান্ত হওয়ায় সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতা ছাড়া আমাদের পারিবারিক দৈনন্দিন খরচ ও ব্যবসার কি অবস্থা হবে আমরা ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। আশংকা করা হচ্ছে এই ক্রান্তিকালে সরকারের সহযোগিতা না পেলে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ উদ্যোক্তা ঝরে যাবে।’

বলা হয়, ‘আজ যারা চাকরি করেন তাদের পাশে আছেন তাদের প্রতিষ্ঠান। মাস শেষে একটা বেতন চলে আসে। যারা কোম্পানিগুলো চালান তারা নিজেরাই নিজেদের ত্রাণকর্তা। যারা গরীব, দিন মজুর তাদের জন্য আছে সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ত্রাণ, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও এলাকার বিত্তশালীদের দান খয়রাত ইত্যাদি৷ কিন্তু আমাদের মত নতুন, ক্ষুদ্র, ও মাঝারী উদ্যোক্তা আর কিছু ছোট ব্যবসায়ী যারা কোন তালিকায় পরিনা তারা সরকারের সাহায্য ছাড়া বিকল্প নেই। মানুষ বাঁচে আশায়, আমরাও চাই বাঁচতে। চাই এই দুর্যোগ থেকে বেরিয়ে আসতে। আমরা মনে করছি, এই অনাকাঙ্খিত অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে সর্বোচ্চ মহল থেকে আর্থিক সাহায্যসহ সকল ধরণের সহযোগিতা নিশ্চিত হলে আমরা আগামী ৬ মাসের মধ্যে গুছিয়ে নিতে পারবো।’

আরো বলা হয়, ‘করোনাভাইরাসে সৃষ্ট ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমরা আপৎকালীন ১-২% সুদে সহজ শর্তে ঋণ চাই। এটা যদি এপ্রিল মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন সম্ভব হয় তাহলে নারী উদ্যোক্তারা পায়ের নীচে মাটি খুঁজে পাবে। এই ক্রান্তিলগ্নে অবশ্যই নারী উদ্যোক্তাদের একটি ফান্ড প্রয়োজন। নারী উদ্যোক্তারা যেন তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কারখানা চালু রাখতে পারেন। তবে আমাদের এখন বাঁচতে হবে, মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে হবে। যে দেশের জিডিপিতে ২৫ শতাংশ অবদান আমাদের নারীদের, সরকার নিশ্চয়ই আমাদের আবেদন রাখবেন, যেহেতু সারাদেশে মোট জনসংখ্যার কোটির উপর লোকদের নিয়ে আমরা কাজ করি, এবং তাদের আয়-রোজগার আমাদের ব্যবসার উপর নির্ভরশীল। আমরা সবাই মিলে এক হই ও সরকারকে নিয়ে আবার দেশের কাজে আত্মনিয়োগ করি। আমরা বিশ্বাস করি আপনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় করোনা পরিস্থিতিতে সৃষ্ট মহা মন্দা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবো। ক্ষুদ্র ও মাঝারী উদ্যোক্তাদের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়ে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করে দেশের চলমান অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে প্রধানমন্ত্রীর সহানুভূতি নারী উদ্যোক্তাদের পাশে থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..