আজকের পত্রিকা দিনের খবর শিল্প-বাণিজ্য শেষ পাতা

করোনার ক্ষতি পোষাতে তামাকপণ্যের দাম বাড়ানোর সুপারিশ

আত্মার বাজেট প্রস্তাব

# সুনির্দিষ্ট কর পদ্ধতি প্রবর্তন, সিগারেটে দুটি মূল্যস্তরসহ প্রস্তাবিত কর ও দাম বৃদ্ধির দাবি

# দাবি বাস্তবায়ন করা হলে ৬ লাখ অকাল মৃত্যু রোধ হবে

# ১০ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত রাজস্ব আয় হবে, যা করোনা মোকাবেলায় ব্যবহার করা যাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে তামাকাসক্ত ফুসফুস করোনায় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। বাংলাদেশে তিন কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করে এবং প্রায় চার কোটি ১০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ নিজ বাড়িতেই পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তামাকের ক্ষতির শিকার এই বিপুল প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠী বর্তমানে মারাত্মকভাবে করোনা ভাইরাসের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তামাকের সহজলভ্যতাই এর প্রধান কারণ।

স্বল্প দামে তামাকপণ্য ক্রয়ের সুযোগ এবং ত্রুটিপূর্ণ কর কাঠামো বিশেষ করে সিগারেটে চারটি মূল্যস্তর থাকায় তামাকের ব্যবহার হ্রাসে কর ও মূল্য পদক্ষেপ সঠিকভাবে কাজ করছে না। তামাকের দাম বেশি হলে তরুণ জনগোষ্ঠী তামাক ব্যবহার শুরু করতে নিরৎসাহিত হয় এবং তামাকাসক্তরাও বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠী তামাক ছাড়তে উৎসাহিত হয়।

তামাক কর ও মূল্য বৃদ্ধির দাবিতে রোববার (২৯ মার্চ) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর কাছে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব জমা দিয়েছে অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স-আত্মা। এনবিআর এর সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে এ বছর ই-মেইলের মাধ্যমে এই বাজেট প্রস্তাব জমা দেয়া হয়। জাতীয় বাজেট প্রণয়নে বিবেচনার জন্য তামাকপণ্যে করারোপের বিষয়ে তিনটি দাবি তুলে ধরা হয়।

যার মধ্যে রয়েছে, প্রথমত, সিগারেটের মূল্যস্তর সংখ্যা চারটি থেকে দুটিতে (নিম্ন এবং প্রিমিয়াম) নামিয়ে আনা। এতে বলা হয়, ৩৭+ টাকা এবং ৬৩+ টাকা এই দুইটি মূল্যস্তরকে একত্রিত করে নিম্নস্তরে নিয়ে আসা। নিম্নস্তরে ১০ শলাকা সিগারটের খুচরা মূল্য ন্যূনতম ৬৫ টাকা নির্ধারণ করে ৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং ১০ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা।  ৯৩+ টাকা ও ১২৩+ টাকা এই দুইটি মূল্যস্তরকে একত্রিত করে প্রিমিয়াম স্তরে নিয়ে আসা। প্রিমিয়াম স্তরে ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ন্যূনতম ১২৫ টাকা নির্ধারণ করে ৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক  এবং ১৯ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা।

দ্বিতীয়ত, বিড়ির ফিল্টার এবং নন-ফিল্টার মূল্য বিভাজন তুলে দেয়া। ফিল্টারবিহীন ২৫ শলাকা বিড়ির খুচরা মূল্য ৪০ টাকা নির্ধারণ করে ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ও ৬.৮৫ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা। এবং ফিল্টারযুক্ত ২০ শলাকা বিড়ির খুচরা মূল্য ৩২ টাকা নির্ধারণ করে ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং ৫.৪৮ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা।

তৃতীয়ত, ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্যের (জর্দা ও গুল) মূল্য বৃদ্ধি করা। প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার খুচরা মূল্য ৪০ টাকা এবং প্রতি ১০ গ্রাম গুলের খুচরা মূল্য ২৩ টাকা নির্ধারণ করে ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা। এবং প্রতি ১০ গ্রাম জর্দা ও গুলের উপর যথাক্রমে ৫.৭১ টাকা এবং ৩.৪৫ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা। দেশে দরিদ্র জনগোষ্ঠী বিশেষত নারীদের মাঝে এই পণ্য ব্যবহারের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। এই বিশাল জনগোষ্ঠিকে জর্দা-গুল ব্যবহারের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া সকল তামাকপণ্যের খুচরা মূল্যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট বহাল থাকবে।

প্রস্তাবে বলা হয়, তামাক-কর ও মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হলে প্রায় ২০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপায়ী ধূমপান ছেড়ে দিতে উৎসাহিত হবে। দীর্ঘমেয়াদে ৬ লাখ বর্তমান ধূমপায়ীর অকাল মৃত্যু রোধ করা সম্ভব হবে এবং সরকারের প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত রাজস্ব আয় অর্জিত হবে, যা দিয়ে সরকার করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় ব্যবহার করতে পারবে। দেশে তামাকের ব্যবহার দ্রুতহারে কমানো এবং প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনে তামাকবিরোধী মিডিয়া জোট আত্মা’র ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য এনবিআরের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

####

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..