বিশ্ব সংবাদ

করোনার চেয়েও না খেয়ে মরার ভয় বেশি

বিবিসির বিশ্লেষণ

শেয়ার বিজ ডেস্ক: করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে লকডাউন শুরু করেছে ভারত। সবাইকে থাকতে বলা হয়েছে ঘরে। তবে দেশটির দৈনিক মজুরির ওপর নির্ভরশীল বহু লোকের জন্য এটি কোনো সুবন্দোবস্ত নয়। লকডাউন ঘোষণার পর দৈনিক মজুরির ওপর নির্ভরশীলরা কীভাবে আগামীর দিনগুলোর মোকাবিলা করার কথা ভাবছে, তা খুঁজে দেখার চেষ্টা করেছে বিবিসি। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মানুষের মধ্যে করোনার চেয়েও না  খেয়ে মরার ভয় জেঁকে বসেছে।

গত মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ওইদিন মধ্যরাত থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত তিন সপ্তাহ ধরে দেশ লকডাউনে থাকবে বলে ঘোষণা করেছেন। এমনিতে রাজধানী দিল্লির শহরতলি অঞ্চল নয়ডায় লেবারচক অঞ্চল সব সময় পরিপূর্ণ থাকে কাজের খোঁজে থাকা নির্মাণশ্রমিকে। ভবন নির্মাতারা এ জায়গায় এসে শ্রমিক ভাড়া করে নিয়ে যান। তবে জনতা কারফিউ চলাকালে গত রোববার সকালে বিবিসির সাংবাদিক যখন ওই এলাকায় যান, তখন এলাকাটি ফাঁকা, পুরোপুরি শান্ত, চুপচাপ।

এদিক-ওদিক তাকিয়ে কয়েকজন লোককে দেখতে পান বিকাশ। নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে তিনি তাদের জিজ্ঞেস করেন, তারা জনতা কারফিউ মেনে চলছেন কি-না।  সেখানে উত্তরপ্রদেশের বানডা জেলা থেকে কাজের খোঁজে আসা রমেশ কুমার জানান, তাদের ভাড়া নেওয়ার জন্য এখানে কেউ নাও আসতে পারেনÑএটা জানেন তিনি; কিন্তু তারপরও কোনো কাজ পাওয়া যায় কি না দেখতে এসেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতজুড়ে কোটি কোটি দৈনিক মজুরের এ একই অবস্থা। তিন সপ্তাহ লকডাউন চলার সময় তাদের আয়ের কোনো সম্ভাবনা নেই। আগামী কদিনের মধ্যে এ-রকম অনেক পরিবারের মজুত খাবার শেষ হয়ে যেতে পারে।

ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন (আইএলও) বলছে, ভারতের শ্রমিকদের অন্তত ৯০ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত, যাদের অনেকেই নিরাপত্তা রক্ষী, ক্লিনার, রিকশাচালক, হকার, মেথর ও গৃহকর্মী। অধিকাংশই পেনশনের আওতায় নেই, অসুস্থতাজনিত ছুটি, সবেতন ছুটি বা কোনো ধরনের ইন্স্যুরেন্স নেই তাদের। অনেকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টও নেই, দৈনিক চাহিদা পূরণে নগদ টাকার ওপরই নির্ভর করেন তারা। অনেকেই কাজের খোঁজে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে যাওয়া অভিবাসী শ্রমিক। এর অর্থ, যে রাজ্যে কাজ করছেন, সে রাজ্যের বাসিন্দা তারা নন। এমন অনেক লোক আছে যারা সারা বছর ধরে কাজের খোঁজে এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্যে ঘোরেন। জনসংখ্যার ভাসমান এই অংশকে নিয়েও সমস্যা আছে।

ভারতের রেল কর্তৃপক্ষ ৩১ মার্চ পর্যন্ত সব ধরনের যাত্রীসেবা স্থগিত করেছে। কিন্তু ২৩ মার্চ এ স্থগিতাদেশ শুরু হওয়ার আগে লাখ লাখ অভিবাসী শ্রমিক প্রাদুর্ভাবকবলিত শহর দিল্লি, মুম্বাই, আহমেদাবাদ ছেড়ে তাদের গ্রামে চলে গেছে। এভাবে করোনাভাইরাসের সামাজিক সংক্রমণের ঝুঁকি উচ্চমাত্রায় বেড়েছে এবং বিশেষজ্ঞদের শঙ্কা, আগামী দুই সপ্তাহ ভারতের জন্য সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং হতে যাচ্ছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..