সম্পাদকীয়

করোনার ডামাডোলে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে উদ্যোগ নিন

চীন থেকে ভয়াবহ আকারে ছড়ানো করোনাভাইরাস বাংলাদেশেও হানা দিয়েছে। এরই মধ্যে ১৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছে, মৃত্যু হয়েছে একজনের। এ পরিস্থিতিতে করোনা থেকে সুরক্ষায় সরকারি ও বেসরকারিভাবে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ভাইরাসটির কারণে জীবন নিয়ে যেমন শঙ্কা তৈরি হচ্ছে, দ্রব্যমূল্য নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে অনেকে বাড়তি পণ্য কেনার প্রতিযোগিতা করছেন, বিষয়টিকে সুযোগ হিসেবে নিচ্ছেন বিক্রেতারা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনই উদ্যোগী না হলে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

গত কয়েক দিন বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে দ্রব্যমূল্য নিয়ে যেসব খবর প্রকাশিত হচ্ছে, তা মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের মতো পণ্যের বাজারে অরাজকতা শুরু হয়। বিক্রেতারা রাতারাতি দাম বাড়ায় দুই-তিনগুণ। আর ক্রেতারাও অতি উৎসাহী হয়ে বাড়তি দামেই কিনতে শুরু করেন। পরে অবশ্য সরকার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগী হয়। গত কয়েক দিনে নিত্যপণ্যের বাজারেও তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। অনেকে চাল, ডাল, তেলসহ বিভিন্ন দ্রব্য বেশি পরিমাণে কিনতে শুরু করায় বিক্রেতারাও এ সুযোগে দাম বাড়িয়েছে, যা অগ্রহণযোগ্য।

ঈদ ও পূজার মতো উৎসব ছাড়াও জরুরি সময়ে এদেশে দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে দেওয়া নতুন কোনো ঘটনা নয়। এ সময়গুলোয় অবস্থাসম্পন্নরা তাদের অর্থবিত্তের জোরে ভালো থাকলেও নিম্ন ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ পড়েন বিপদে। কারণ তাদের সীমিতো আয় দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। কিন্তু বিশেষ সময়ে দ্রব্যমূল্য বাড়লে তাদের ওপর চাপ পড়ে, পোহাতে হয় দুর্ভোগ। অথচ এ সময়ে সবাই দায়িত্বশীল আচরণ করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে বলে মত অনেকের। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের অজ্ঞতা আর দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং নিয়ন্ত্রকদের ব্যর্থতায় নিম্ন-আয়ের মানুষকে বিপদে পড়তে হচ্ছে, যা কাম্য নয়।

বিশেষ সময়ে দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে দেওয়ার পেছনে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর সিন্ডিকেট বেশি দায়ী। তারা স্বল্প সময়ে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিলেও নিম্ন-আয়ের মানুষদের কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। অনেক প্রভাবশালীরও হাত রয়েছে এতে। আর একশ্রেণির বিত্তশালীর অবিবেচনাপ্রসূত কর্মকাণ্ড দ্রব্যমূল্য বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। এ অবস্থায় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে। যেসব অসাধু ব্যবসায়ী ও কোম্পানি মানুষের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে দাম বাড়াচ্ছে, তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি নিম্ন-আয়ের মানুষদের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহযোগিতা করার উদ্যোগ নিতে হবে। এছাড়া যারা বিত্তশালী হয়ে বাড়তি পণ্য কিনে মজুত করছেন, তাদের এমন কর্ম পরিহার করে দায়িত্বশীল হওয়া জরুরি বলে আমরা মনে করি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..