দিনের খবর প্রথম পাতা

করোনার দ্বিতীয় ধাক্কায় ১২ ব্যাংকারের মৃত্যু

জয়নাল আবেদিন: দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণের পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হার। এ নিয়ে দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছেন ব্যাংকাররাও। কারণ এরই মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন মোট ১২ ব্যাংকার। এছাড়া উপসর্গ দেখা দিয়েছে আরও সহস্রাধিক কর্মকর্তার শরীরে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও বিভিন্ন মাধ্যম থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জরুরি সেবা হিসেবে ব্যাংকগুলোয় কার্যক্রম চলছে। কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে অফিসে যাওয়া-আসা এবং ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে অনেক সময় স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে পরিপালন করা হয় না। সচেতনতার অভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাও সম্ভব হচ্ছে না। এসব কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন ব্যাংকাররা। বাড়ছে আক্রান্ত রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা। তাই দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। পাশাপাশি অধিক কর্মী সমাগম ঠেকাতে অনলাইন ব্যাংকিংয়ে জোর দেয়া উচিত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ধাক্কায় করোনা-আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে একজন ঢাকা ও অন্যজন ছিলেন চট্টগ্রামের সিনিয়র ভাইস প্রিন্সিপাল পর্যায়ের কর্মী। এছাড়া যমুনা ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার শরিফুল বারী মিল্টন গত ৮ এপ্রিল বিকাল ৪টায় ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এর আগে গত ২১ মার্চ তার করোনার পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৮ সালে ইংরেজি বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

অন্যদিকে বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের একজন কর্মকর্তা গত সপ্তাহে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। ব্যাংকের সেবা বিভাগে কর্মরত ওই কর্মকর্তার নাম আব্দুর রাজ্জাক ইউসুফজাই। ঢাকার এক হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৫২ বছর। নীলফামারীতে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের একজন ড্রাইভার মারা গেছেন এ সপ্তাহে। এছাড়া ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক জাকির হোসেনসহ আরও কয়েকজন করোনায় আক্রান্ত হয়ে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

রূপালী ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত কেউ মৃত্যুবরণ করেননি। তবে কয়েকজন কর্মকর্তা সংক্রমিত হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন মেডিকেলে ভর্তি রয়েছেন। ৬ এপ্রিল মঙ্গলবার করোনায় আক্রান্ত হয়ে মাহফুজুল ইসলাম (৪৮) নামে আরেক ব্যাংক কর্মকর্তা মারা যান। তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকর্তা ছিলেন। ৬ এপ্রিল রাত ৮টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মাহফুজুল ইসলাম উপজেলার বানেশ্বর ইউনিয়নের নাজগ্রাম গ্রামের মৃত জাকের আলীর ছেলে। ৫ এপ্রিল সোমবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের গোপালপুরে করোনায় মারা যান ফৌজিয়া জেসমিন নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তা। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। ফৌজিয়া জেসমিন অগ্রণী ব্যাংক জামালপুর শাখায় এজিএম পদে কর্মরত ছিলেন। ৫ এপ্রিল ভোরে অগ্রণী ব্যাংকের আরেক কর্মকর্তা মুহা. মুহিব্বুল্লাহ বাহার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তিনি পাবনায় অগ্রণী ব্যাংক আঞ্চলিক কার্যালয়ে প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের (২০০৪-০৫ সেশন) ছাত্র ছিলেন।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৪ এপ্রিল মধ্যরাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা চৌধুরী মহিদুল হক মারা যান। হঠাৎ শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে অক্সিজেন সাপোর্টের জন্য তাকে নিয়ে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে যান তার পরিবারের সদস্যরা। কোথাও আইসিইউ বেড খালি না থাকায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে পারেননি তারা। পরে রাস্তায় ঘুরতে ঘুরতে বিনা চিকিৎসায় ভোর ৫টা ২০ মিনিটে মারা যান তিনি। ৩ এপ্রিল রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) সহকারী মহাব্যবস্থাপক শামীমা ফেরদৌস শিমুল। শামীমা ফেরদৌস শিমুল রাকাবের মনিটরিং শাখা প্রধানের দায়িত্বপালন করছিলেন। তিনি রাজশাহী নগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা।

৩১ মার্চ ভোরে নাটোরে নিজ বাসায় মারা যান করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া ন্যাশনাল ব্যাংক নাটোর শাখার প্রথম নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম কনক। নাটোর জেলার সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই কনকের শরীরে করোনাভাইরাসের উপসর্গ ছিল। তিনি নাটোর সদর হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন। পরীক্ষায় তার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। এর পর থেকে তিনি নিজ বাড়িতেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। বুধবার ভোরে তিনি মারা যান।

৩০ মার্চ করোনায় মারা যান সিটি ব্যাংকের মিরপুর শাখার সিনিয়র অফিসার আতিয়া খানম। করোনায় আক্রান্ত হয়ে তিনি পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আতিয়া খানম ১৮ বছর সিটি ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..