দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

করোনার ধকল কাটাতে বাজেটে চোখ বিনিয়োগকারীদের

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: দীর্ঘদিন ধরে নাজুক অবস্থায় রয়েছে দেশের পুঁজিবাজার। ফলে বিনিয়োগকারীরাও এক ধরনের বৈরী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। করোনাভাইরাসের কবলে পড়ে তাদের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। কারণ দীর্ঘদিন লেনদেন না হওয়ায় তাদের আয়ের পথও বন্ধ হয়ে গেছে। তাছাড়া প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের তাণ্ডবে পুঁজিবাজারে তারল্য সংকট তৈরি হয়েছে, যে কারণে বাজেটের দিকে তাকিয়ে আছেন তারা। বাজেটে বিনিয়োগবান্ধব সুযোগ-সুবিধা রাখা হলে তবেই তারা করোনার ধকল কাটিয়ে উঠতে পারবেন।

বিনিয়োগকারীরা যাতে করোনার ধকল কাটিয়ে উঠতে পারেন, সে লক্ষ্যে এরই মধ্যে তারা অর্থমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে একগুচ্ছ প্রস্তাবনা দিয়েছেন। বিনিয়োগকারীদের মতে, করোনাভাইরাসে সৃষ্ট মহামারিতে তারল্য সংকট তৈরি হয়েছে। সেজন্য এ পরিস্থিতিতে বাজারে কালোটাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার দাবি তুলেছেন তারা। বিষয়টিতে একই মত পোষণ করেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

তাদের মতে, করোনাভাইরাস-উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতির অন্যান্য খাতের মতো পুঁজিবাজারেও মন্দাবস্থা, যা কাটিয়ে তুলতে পুঁজিবাজারের বিভিন্ন স্টেকহোল্ডাররা এরই মধ্যে অর্থমন্ত্রীর কাছে কালোটাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার দাবি করেছেন, যা অনেকটা বাস্তবায়নের পথে।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (বিএমবিএ) সভাপতি ছায়েদুর রহমান শেয়ার বিজকে বলেন, করোনাভাইরাসে সৃষ্ট মহামারির মধ্যে কালোটাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হলে পুঁজিবাজার গতিশীল হবে। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীসহ সবাই উপকৃত হবেন। এটা যৌক্তিক দাবি।

এদিকে বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি বিদ্যমান মন্দাবস্থা কাটিয়ে তুলতে গত ২৮ এপ্রিল ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) পক্ষ থেকে পুঁজিবাজারে কালোটাকা বিনিয়োগের সুযোগের প্রস্তাব দেওয়া হয়। অর্থমন্ত্রীকে দেওয়া ওই প্রস্তাবে বলা হয়, পুঁজিবাজারে তারল্যপ্রবাহ বৃদ্ধির জন্য কালোটাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন, যে অর্থ ১:১ ভিত্তিতে বন্ড মার্কেট ও সেকেন্ডারি মার্কেটে বিনিয়োগ করার শর্তে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। এছাড়া বন্ডে বিনিয়োগকৃত অর্থ তিন বছরের জন্য ব্লক থাকবে, যে বন্ড এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে লেনদেনযোগ্য হতে হবে।

সূত্রে জানা যায়, আপাতত কালোটাকা সাদা করার দুটি উপায় চিন্তা করা হচ্ছে। এর মধ্যে একটি হলো ঢালাওভাবে বিনা প্রশ্নে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া। এক্ষেত্রে ৫-১০ শতাংশ কর দিয়ে অবৈধ উপায়ে উপার্জিত টাকা ঘোষণায় আনলে কোনো প্রশ্ন করা হবে না। আরেকটি হলো বিদ্যমান কালোটাকা সাদা করার সুবিধা সম্প্রসারণ করা। বর্তমানে এলাকাভেদে নির্দিষ্ট পরিমাণ কর দিয়ে কালোটাকায় ফ্ল্যাট কেনার সুযোগ আছে। রাজধানী, চট্টগ্রাম, জেলা শহর, পৌর এলাকাভেদে কালোটাকায় ফ্ল্যাট কিনে বর্গমিটারপ্রতি ৫০০ থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত কর দিলে কোনো প্রশ্ন করছে না এনবিআর। আগামী অর্থবছরে করের পরিমাণ কমিয়ে জমি কেনায়ও কালোটাকা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হতে পারে।

এদিকে আসন্ন ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজারে লভ্যাংশ আয়ের ওপর ভ্যাট-ট্যাক্স মওকুফ, মার্জিন ঋণের সুদ মওকুফ, সরকারিভাবে শেয়ার ক্রয়ে প্রণোদনাসহ ১৬টি বাজেট প্রস্তাব দিয়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তাদের সংগঠন বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ এই প্রস্তাব দিয়েছেন। ১৮ মে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামালসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এসব প্রস্তাব জানানো হয়েছে।

তারা বলেছে, পুঁজিবাজারে মহামারি করোনাভাইরাসজনিত ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার নিমিত্তে ন্যূনতম আগামী পাঁচ বছরের জন্য আসন্ন জাতীয় বাজেটে নিঃস্বার্থভাবে কালোটাকা বিনিয়োগের সুযোগ দিতে হবে।

চলমান করোনাভাইরাসের প্রভাবে বিনিয়োগকারীদের আর্থিক ক্ষতি পূরণের জন্য মার্জিন অ্যাকাউন্টের সুদ চলতি বছরের মার্চ থেকে ডিসেম্বর মওকুফের সুযোগ দেওয়ার কথাটিও এখানে উঠে আসে।

এছাড়া চলতি বছরের বিও আকাউন্টের চার্জ মওকুফ আগামী ডিসেম্বর থেকে পরবর্তী দুই বছর পর্যন্ত মার্জিন অ?্যাকাউন্টের সুদ সর্বোচ্চ পাঁচ শতাংশ নির্ধারণ, নূ?্যনতম পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সব ধরনের লভ্যাংশ আয়ের ওপর সব ধরনের ভ্যাট-ট্যাক্স মওকুফসহ আরও কিছু প্রস্তাব দেন বিনিয়োগকারীরা।

প্রসঙ্গত, আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে আসন্ন ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট উত্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী। আসন্ন বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা, যা ২০১৯-২০ অর্থবছরের চেয়ে পাঁচ শতাংশ বেশি। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..