দিনের খবর বাণিজ্য সংবাদ শিল্প-বাণিজ্য

করোনার প্রভাবে বহুমাত্রিক চাপে খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা

সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম: নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাবে গত তিন মাসের বেশি সময় ধরে স্থরিবতা চলছে খাতুনগঞ্জ, আছাদগঞ্জ ও চাক্তাই এলাকার পাইকারি ব্যবসা-বাণিজ্যে। এছাড়া চলমান বর্ষায় কমেছে পণ্যের চাহিদাও। বিভিন্ন অঞ্চলের পাওনাদাররা বকেয়া পাওনা পরিশোধে বিলম্ব কিংবা গড়িমসি করছেন। আবার কতিপয় পাওনাদার দোকান বন্ধ করে আড়ালে চলে যাচ্ছেন। এতে এসব ব্যবসায়ী পুঁজির সংকটে পড়ছেন। পাশাপাশি কিছু ব্যাংক এলসি ও নতুন চেকবই ইস্যু করতে ব্যাংকিং লেনদেনে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে এসব এলাকার পাইকারি ও আমদানিকারকরা বহুমাত্রিক চাপে অনিশ্চিয়তা ও অস্থিরতায় সময় পার করছেন। 

খাতুনগঞ্জ, আসাদগঞ্জ ও চাক্তাই এলাকার পাইকার ও আমদানিকারকরা জানান, গত ২৬ মার্চ থেকে দেশব্যাপী নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ কমানোর জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলে তখন থেকে স্থবির হয়ে পড়ে দেশের প্রধান পাইকারি বাজারখ্যাত খাতুনগঞ্জ, আসাদগঞ্জ ও চাক্তাই এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য। সাধারণ ছুটি থাকায় রমজান ও ঈদে প্রত্যাশিত বেচাকিনা হয়নি। উল্টো কমেছে প্রতিষ্ঠানের জনবল। আর ব্যাংকিং লেনদেন সীমিত থাকায় কমেছে আমদানি কার্যক্রম। পাশাপাশি পাওনার প্রতিষ্ঠানের বিক্রি কম হওয়ায় বিক্রি করা পণ্যে টাকা আদায়ে ধীরগতি দেখা দেয়। এতে অনেক সময় আমদানিকারক ব্যাংকের পাওনা পরিশোধের জন্য কম দামে পণ্য বিক্রি করেন। এ সময় বাজারের ভোগ্যপণ্যে নিন্মমুখী প্রবণতা দেখা দেয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, গত এপ্রিল মাসে গম আমদানি হয়েছিল ৫৩ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন ডলার, চিনি সাত দশমিক ৭০ মিলিয়ন ডলার, গুড় দুধ ২২ দশমিক শূন্য সাত মিলিয়ন, এডিবল অয়েল পরিশোধিত ৮৪ দশমিক ৮২ মিলিয়ন ডলার এবং অপরিশোধিত ৮২ দশমিক ৩৮৭ মিলিয়ন ডলার, ড্রাই ফুড তিন দশমিক শূন্য পাঁচ মিলিয়ন ডলার, ডাল জাতীয় পণ্য ২৮ দশমিক ১৫ মিলিয়ন ডলার, এবং পেঁয়াজ ও রসুন সাত মিলিয়ন ডলার। আর গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম আট অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চাল আমদানি হয়েছিল ৫৫ দশমিক ৫৯ মিলিয়ান ডলার, গম আমদানি হয়েছিল ৮৫৬ মিলিয়ন ডলার, চিনি ৫৭৮ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ডলার, গুড় দুধ ২৪৯ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন, এডিবল অয়েল (পরিশোধিত ও অপরিশোধিত) ৮১১ দশমিক ৫২ মিলিয়ন ডলার, ফ্রেশ ও ড্রাই ফুড ৩০৪ দশমিক ৪০ মিলিয়ন ডলার, ডাল জাতীয় পণ্য ১৭২ দশমিক ৪২ মিলিয়ন ডলার এবং পেঁয়াজ ১৫৯ মিলিয়ন ডলার।

খাতুনগঞ্জ এলাকার ডাই ফুডস ও মশলা পণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান অসীম এন্টারপ্রাইজের আরাফাত রুবাই শেয়ার বিজকে বলেন, করোনাভাইরাসের প্রভাবে গত তিন মাস আমাদের তেমন বিক্রয় ছিল না। যেহেতু বিয়ে, মেহবান ইত্যাদি ধরণের সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ ছিল। পাশাপাশি রেস্টুরেন্ট, হোটেলগুলো বন্ধ ছিল। এ সময়ে মশলার দাম নিম্মমুখি ছিল। তবে এ সপ্তাহ থেকে বাজার একটু বাড়ছে। এরমধ্যে এলাচি, জিরা, দারচিনির দাম একটু বেড়েছে। ঈদ উপলক্ষ্যে আগামিতে কিছুটা দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু এবারের কোরবানিদাতার সংখ্যা অনেক কম হওয়া আশঙ্কা আছে। তিনি বলেন, বাজারের সংকট না। তবে খুচরা বিক্রেতারা কম কিনছে। আর তাদের পেমেন্ট অনেক স্লো। আগে যেখানে ২০ লাখ টাকা মালে ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করত, সেখানে এখন পাঁচ কিংবা ছয় লাখ টাকা দিচ্ছে। এরমধ্যে কিছু ছোট পার্টি (সেকেন্ড বা থার্ড পার্টি) পাওনা টাকা দিতে পারছে না।

এছাড়া ব্যাংকিং লেনদেন সীমিত হওয়ায় দুইটার পর পার্টিরা টিটি কিংবা টাকা দিতে পারছে না। এতে পরের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আগে তো একসাতে একাধিক এলসি দিত। এখন একটা একটা ছাড়ছে। যদিও গত তিন মাস আগে একটিও এলসি নেয়নি। আর চেক বুক ইস্যু বন্ধ ছিল। 

এ বিষয়ে খাড়তুনগঞ্জ আড়তদার সমিতির সাবেক সভাপতি ও তৈয়রিয়া ট্রেডার্সের স্বত্ত্বাধীকারি সোলাইমান আলম বাদশা শেয়ার বিজকে বলেন, করোনারভাইরাস সংক্রমণের আগে কাজের লোক ছিল ২০ জন। এখন আছে চার/পাঁচ জন। বিক্রিও অনেক স্লো। আর পাওনাদারদের কাছ থেকে পাওনা আদায় তেমন হচ্ছে না। পরিস্থিতি যদিও সহসায় নিয়ন্ত্রণে না আসে, তাহলে অনেক পাওনাদার (আমদানিকারক থেকে বাকিতে বিক্রয় করে এমন ছোট পার্টি) পাওনা রেখে আড়ালে চলে যাবেন।

অপরদিকে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তারা বলেন, নভেল করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ব স্থবির হয়ে পড়ে। ফলে এপ্রিল ও মে মাসে আমাদের ব্যাংকিং কার্যক্রম অনেক সীমিত হয়ে পড়েছিল। এখন আগের মতো পুরোপুরি ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু। সামনে আরো কার্যক্রম সম্প্রসারিত হবে। তবে এ সময়ে গ্রাহকের কিছু অসুবিধা হয়েছে। আশা করছি ভোগ্যপণ্য আমদানি স্বাভাবিক থাকবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..