Print Date & Time : 30 October 2020 Friday 10:15 pm

করোনার প্রভাব কাটিয়ে চীনের রপ্তানি বাড়ছেই

প্রকাশ: August 8, 2020 সময়- 01:55 am

শেয়ার বিজ ডেস্ক: করোনার প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ার কেন্দ্রস্থল হওয়া সত্ত্বেও অন্য অনেক দেশের তুলনায় দ্রুতই গতি ফিরছে চীনের অর্থনীতিতে। গত জুলাইয়েও আগের বছরের একই সময়ের তুলনায়  বেড়েছে দেশটির রপ্তানি। অবশ্য গত বছরের তুলনায় কমেছে আমদানি। গতকাল শুক্রবার দেশটির শুল্ক বিভাগের প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর: সিএনবিসি।

জুলাইয়ে ডলারে দেশটির রপ্তানি গত বছরের তুলনায় সাত দশমিক দুই শতাংশ বেড়েছে। তবে আমদানি কমেছে এক দশমিক চার শতাংশ। এর আগে রয়টার্সের অর্থনীতিবিদেরা এক পূর্বাভাসে বলেছিলেন, জুলাইয়ে ডলারে চীনের রপ্তানি গত বছরের তুলনায় শূন্য দশমিক দুই শতাংশ কমবে, অন্যদিকে আমদানি বাড়বে এক শতাংশ। তবে সেই পূর্বাভাসকে মিথ্যা প্রমাণ করে রপ্তানি ব্যাপক বেড়েছে চীনের।

গত জুনে এক বছর আগের তুলনায় চীনের রপ্তানি বাড়ে শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ, যদিও বিশ্লেষকেরা আশা করেছিলেন দেড় শতাংশ কমবে। ওই মাসেই দেশটির আমদানি ১০ শতাংশ কমবেÑবিশ্লেষকদের এমন প্রত্যাশার বিপরীতে দুই দশমিক সাত শতাংশ বেড়ে যায়।

বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, করোনা নিয়ন্ত্রণে আরোপিত পশ্চিমা দেশগুলোর লকডাউন তুলে নেওয়ার ফলে চাঙা ভাব দেখা দিতে শুরু করেছে চীনের অর্থনীতিতে। এ সময় অনেক পণ্যের চাহিদা তেমন একটা না থাকলেও চীন থেকে পিপিই, মাস্কসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষা উপকরণের রপ্তানি বেড়েছে অনেক।

বছরের প্রথম প্রান্তিকে রেকর্ড সংকোচনের পর দ্বিতীয় প্রান্তিকে এসে হঠাৎ করেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে চীনের অর্থনীতি। এপ্রিল থেকে জুন এই তিন মাসে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে তিন দশমিক দুই শতাংশ, যা প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে। প্রথম প্রান্তিকে অর্থনীতি ছয় দশমিক আট শতাংশ সংকুচিত হয়েছিল, যা ছিল ১৯৯২ সালের পর সবচেয়ে খারাপ ত্রৈমাসিক অবস্থা ছিল। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো বলছে, বছরের প্রথম ছয় মাসে গত বছরের তুলনায় অর্থনীতি এক দশমিক ছয় শতাংশ সংকুচিত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা যা ধারণা করেছিলেন তার চেয়েও চীনের অর্থনৈতিক অবস্থা আরও ভালো হতে শুরু করেছে। করোনার প্রকোপ বাড়তে থাকায় বাধ্য হয়েই কড়াকড়ি আরোপ করেছিল চীন। ফলে বেশ কয়েক মাস ধরে দেশটির বিভিন্ন  কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। তবে করোনার প্রকোপ যখন কমতে শুরু করল, তখন দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে ধীরে ধীরে দেশজজুড়ে কড়াকড়ি শিথিল করা হয়। এমনকি সরকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ট্যাক্স নেওয়াও বন্ধ রেখেছে।

লকডাউন শেষে চীনের অর্থনীতি নিয়ে যতটা ভাবা হয়েছিল, তার চেয়েও দেশটির অর্থনীতি শক্তিশালী হয়ে উঠছে। তবে একটি ক্ষেত্র এখনও সেভাবে চাঙা হতে পারেনি। দেশটির খুচরা বাজারের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে কম অগ্রগতি হয়েছে।

করোনাভাইরাস চীনের অর্থনীতিতে যে ক্ষতি করেছে, তা অন্য দেশগুলোর জন্যও ব্যাপক উদ্বেগের বিষয়, কারণ চীন হলো এ বিশ্বের সবচেয়ে বড় কারখানা। বড় বড় প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে মাঝারি ও ছোট সব ধরনের কারখানার পণ্য উৎপাদিত হয় এখানে।

ব্রিটিশ সাময়িকী দি ইকোনমিস্টের ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের গবেষক ইউয়ি সু বলেন, ‘জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসে জিডিপি সংকোচন স্থায়ী আয়ের ক্ষতির কারণে হয়েছে। সেইসঙ্গে ছোট সংস্থাগুলোর দেউলিয়া হয়ে যাওয়াও কর্মসংস্থানের ক্ষতি হিসেবে প্রতিফলিত হয়েছে।’