দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

করোনার প্রভাব নিয়ে দুশ্চিন্তায় বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কী পরিমাণ চাপ আসতে পারে সেটা নিয়ে একটু দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি, তারপরও আমরা সব দিকে লক্ষ্য রাখছি বলে জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। গতকাল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী ইন্টারন্যাশনাল ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপো (ইফসি) উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের কী পরিমাণ চাপ আসতে পারে। সেটা নিয়ে একটা আলোচনা হচ্ছে। এর প্রভাব গার্মেন্ট সেক্টরে কী পরিমাণ… সে ব্যাপারে খুব সম্ভবত ১৬ তারিখে একটা রিপোর্ট পাব। পাশাপাশি লক্ষ্য রাখছি ফ্যাক্টরিগুলোর সাপ্লাইয়ের দিকে। চীনে হলিডে শেষ হয়েছে। আজ খবর পেলাম চীনের মার্কেটগুলো খুলতে শুরু করেছে। আমরা সেটা অবজার্ভ করছি।’

বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে করোনাভাইরাসের কারণে চীন থেকে ম্যানুফ্যাকচারিং মালামাল বিভিন্ন ইকুইপমেন্ট ও কাঁচামাল আমদানি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এ বিষয় সমাধানে মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ সম্পর্কে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, হঠাৎ করে বলা মুশকিল, এটা অত্যন্ত গভীর সমস্যা।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রেডিমেড গার্মেন্ট সেক্টরের হঠাৎ করে সাপ্লাইটা কোথায় সোর্সিং করব? সেটা তো সময়ের ব্যাপার। আমরা লক্ষ্য রাখছি, আশা করছি অল্টারনেটিভ মার্কেট পেয়ে যাব। যদিও এর জন্য সময় দরকার। কারণ, যে স্পেসিফিকেশন কাঁচামাল আনতে হয় সেটা অন্য কোথাও পেতে হলে তো সময় দিতে হবে। বায়ারকে এক্সেপ্ট করতে হবে। এটা নিয়ে আমরা একটু দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি বটে।’

চীন থেকে অনেক ইলেকট্রনিকস পণ্য, অনেক কাঁচামাল আসে এবং দেশে রসুনের দাম বাড়ার বিষয়ে টিপু মুনশি বলেন, ‘রসুন যে পরিমাণ প্রয়োজন তার ৯০ শতাংশ চীন থেকে আসে। রসুনের ব্যাপার এক ধরনের। আর অন্যান্য কাঁচামাল, ইলেকট্রনিকস প্রডাক্টের প্রভাব যদি পড়তে শুরু করে সেটা অন্য রকমের ভাবনা। রসুন নিয়ে আমরা চেষ্টা করব বিকল্প মার্কেট থেকে সোর্সিং করতে। কাঁচামাল আনার ক্ষেত্রে বেশ সমস্যা হবে। তবে আমাদের এখনই বলার সময় আসেনি, দেখি বড় ধরনের বিপদ আসে কি না।’

রসুনের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে মনিটরিং করা হচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের বাজার মনিটরিং আছে। আমাদের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সরকারের বিভিন্ন জায়গায় যারা ইমপ্লিমেন্টেশন করবে তাদের বলা হয়েছে, চিঠি পাঠিয়ে বলা হয়েছে, আপনারা বাজার যান, বাজার মনিটরিং করেন। পাইকারি ও খুচরা বাজারে কী দামে বিক্রি হচ্ছে, তা মনিটরিং করতে বলা হয়েছে। বাজারে মূল্য তালিকা ঝুলিয়ে রাখতে বলা হয়েছে। কেউ যদি মূল্যের অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।’ বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনাভাইরাস কয়েক মিনিটের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। দুই মিটারের মধ্যে থাকলে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ইমপোর্টেড যে কাপড় বানানো জিনিস তার ওপরে করোনাভাইরাসের প্রভাব নেই। কিন্তু মানুষজন কাজ করতে যাবে সেখানেই সমস্যা। মানুষ কাজ না করলে প্রডাকশন হবে কেমন করে? জিনিসপত্র আনলে সেখানে সমস্যা নাই। কিন্তু ওখান থেকে তো সাপ্লাইটা শুরু হতে হবে। আমরা লক্ষ্য রাখছি তারা (চীন) সাপ্লাইটা শুরু করে কি না।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ »

সর্বশেষ..