পাঠকের চিঠি

করোনার প্রভাব বিবেচনায় বাজেট পুনর্বিন্যাস করুন

মহামারি কভিড-১৯-এর আঘাতে বিপর্যস্ত অর্থনীতি। সারা বিশ্বের অন্তত ১৬০ কোটি মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়বে বলে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) আশঙ্কা করছে। নিন্ম ও সীমিত আয়ের মানুষ বড় ধরনের সমস্যায় পড়বে। দারিদ্র্য বাড়বে, জীবনযাত্রার মান ও জিডিপির প্রবৃদ্ধি কমবে। তাই অন্য সময়ের তুলনায় এবারের বাজেট আলাদা গুরুত্ব বহন করে।

আমাদের দেশে কভিডের কতটা প্রভাব পড়বে, তা নিরূপণ সময়সাপেক্ষ। তবে কৃষি ছাড়া আমাদের অর্থনীতির অন্যান্য খাতে এখন ভীষণ স্থবিরতা বিরাজ করছে। পোশাকসহ সব শিল্পের রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স কমেছে, শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো অনেকটাই অচল। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদে পেশ করা ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট হওয়ার কথা গতানুগতিকতার বাইরে। কিন্তু তা হয়নি বলেই প্রতীয়মান।

এবারের বাজেটে গুরুত্ব পাওয়ার কথা অর্থনীতির পুনর্গঠন ও মানুষের জীবিকার পথ খুলে দেওয়া। সঙ্গে যোগ হয়েছে জীবন বাঁচানোর জন্য দরকার চিকিৎসা, খাদ্যের সংস্থান ও কর্মসংস্থান। সেই সঙ্গে নিন্ম আয়ের মানুষের জন্য প্রয়োজন সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনীর সম্প্রসারণ।

বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে শুক্রবার অর্থমন্ত্রী বলেছেন, মহামারির কারণে এবার স্বাভাবিক নিয়মে বাজেট প্রণয়ন করা সম্ভব হয়নি, কারণ বাজেটের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্তের স্বল্পতা ছিল। কাজেই বাজেটে কিছু অসংগতি থাকলেও থাকতে পারে। এবার দেশের মানুষকে বাঁচানোর তাগিদে আগে ব্যয়ের প্রাক্কলন করতে হয়েছে। অর্থের সংস্থান কীভাবে হবে, সে বিষয়ে চিন্তা করার সুযোগ ছিল না।

অর্থমন্ত্রী বাড়িয়ে বলেননি। তাই আশা করাই যায়, বাজেট সংশোধন গুরুত্ব পাবে। প্রবৃদ্ধি রক্ষার চেয়ে বেশি প্রয়োজন সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো। তাদের আয়ের উৎস বাড়াতে হবে। রপ্তানি বাজার পুনরুদ্ধার করতে হবে। নতুন পণ্য ও বাজার খুঁজতে হবে। করোনাকালে বেকার হয়ে পড়া শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে দেশের ভেতর আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে হবে। গরিব মানুষের আয়-রোজগার কমেছে। তাদের তাই সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনীর আওতায় আনতে হবে। বিভিন্ন ধরনের নগদ সহায়তা ও ভাতা বাড়াতে হবে।

বাজেটে ধনীদের কর ছাড় দেওয়া হয়েছে এবং কেন কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন  তুলেছে গবেষণা সংস্থা সিপিডি। সংস্থাটি হিসাব করে দেখিয়েছে, ব্যক্তিশ্রেণির আয়করের ক্ষেত্রে সরকার যে ছাড় দিয়েছে, তাতে একজন নি¤œবিত্তের কর কমবে পাঁচ হাজার টাকা। আর অতিধনীর কমবে দুই কোটি ৩৮ লাখ টাকা পর্যন্ত।

বাজেটকে জনবান্ধব করে তুলতে কালোটাকাকে সাদা করার সুযোগ ও ধনীদের কর ছাড়ের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হবে। এসএমই খাত সচল রাখতে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..