দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

ভালো নেই নিন্ম আয়ের মানুষ

করোনার প্রভাব

শেয়ার বিজ ডেস্ক: লক্ষী দাস তার স্বামীর রূপম দাসের সাথে একটি স্বল্পপুজির দোকান পরিচালনা করে। দিনের বেলায় সওদাগরী লক্ষী নিজে করলেও রাতে দোকার পরিচালনার দায়িত্ব পড়ে রূপমের ভাগে। নগরীরর আন্দরকিল্লা মোড়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বিপরীতে খোলা আকাশের নিচে তাদের দোকান। ছোট্ট একটি শোকেসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ তাদের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান। এই দোকানে নিয়মিত চার-পাঁচ হাজার টাকার পান-সিগারেট বিক্রয় হয়। কিন্তু গত কয় দিনে আগের মতো বিক্রয় নেই। এতে চিন্তিত লক্ষী ।

স্বামী ও তিন সন্তান নিয়ে পাঁচ জনের সংসার তার। থাকেন নগরীরর আন্দরকিল্লার ঘাট-ফরহাদবেগ এলাকায়। আর সংসার চলে ছোট্ট দোকানটির আয় দিয়ে। বড় মেয়ে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়েন এনায়েত বাজার মহিলা কলেজে। একমাত্র ছেলে দশম শ্রেণিতে, আর ছোট মেয়ে প্রাইমারিতে । তবে পাঁচ জনের সংসার চালাতে ছোট্ট দোকানের আয় দিয়ে হিমশিম খেতে হয়। তার উপর করোনাভাইরাস আতঙ্কে বর্তমানে বেচা-বিক্রি আগের মতো নেই। তাই সাড়ে আট হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া দেওয়া নিয়েও চিন্তার শেষ নেই। তারপর টেনেটুনে সারা মাস সংসার চালানোর শঙ্কা। এরমধ্যে এক সপ্তাহ ধরে হাজার-বারো’শ টাকার বেশি বিক্রয় নেই। যদি পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় কি করবে জানে না লক্ষী! উল্লেখ্য: এই ব্যবসায় ২০ শতাংশের মতো লাভ হয়।

তবে লক্ষীর মাথা গোঁজার ঠাই থাকলেও বাঁশখালীর আশেকুর রহমানের সেই ব্যবস্থাও নেই। আশেকুর চট্টগ্রাম শহরে পাঁচ বছর ধরে রিকশা চালায়। রাতে থাকে রিকশার গ্যারেজে। গ্রামে তার ছয় জন সদস্যের পরিবার রয়েছে। তাদের ভরণ পোষণের দায়িত্ব তার হাতে। তবে কিছু দিন আগেও দৈনিক ৭০০-৮০০ টাকা আয় কতো। বর্তমানে ২০০-৩০০ টাকা বেশি আয় হচ্ছে না। এরমধ্যে নিজের খরচ ও রিকশা মালিকের ভাড়া বাদ দিলে তেমন থাকছেও না।কিন্তু আগের মতো আয় করতে না পারলে বৃদ্ধ বাবা ও দেড় বছরের শিশুপুত্রকে নিয়ে বিপদে পড়েতে হব আশেকুরকে!

এদিকে অজনা শঙ্কায় ঘুম হারাম নোয়াখালীর বেলাল হোসেনের। সে চকবাজার থেকে বারেক বিল্ডিং পর্যন্ত টুকটুকি গাড়ী (লেগুনা) চালায়। তাতে প্রতিদিন আট শত থেকে এক হাজার টাকা আয় করতো। মাঝে মধ্যে বেশিও হতো। কিন্তু করোনাভাইরাস আতঙ্কে স্কুল কলেজ বন্ধ ঘোষণার দিন থেকে আয় কমে যায়। যা গত বৃহস্পতি বার এসে একবারে বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিপাকে বেলাল। কারণ শেষ দিন অর্থাৎ বুধবার বেলাল আয় করে ছিল মাত্র ১২০ টাকা। কিন্তু থাকা-খাওয়া মিলে মাসে দশ থেকে বারো হাজার টাকা খরচ হয় তার। তারপর প্রতিমাসে ১৫ হাজার টাকা সংসার খরচের জন্য গ্রামে পাঠাতে হয়। কারণ তার আয়ের উপর নয় জনের একটি সংসার চলে। আর সেই সাংসারের প্রধান বেলাল। স্ত্রীর মৃত্যুর পর দুই মেয়ে ও বৃদ্ধ বাবাসহ ছোট ভাই বোন রয়েছে তার সংসারে।

অপরদিকে চকবাজার ফুতপাতের জুতা বিক্রেতা সাগর ইসলামও ভালো নেই। মাসে নয়-দশ হাজার টাকা আয় করতো। বাবা মারা যাওয়ায় পর মামার সাথে সংসারের হাল ধরেছে সে। থাকে ডিসি রোড এলাকায়। এদিকে গত এক সপ্তাহ তার দোকানে বিক্রি ছিলো না আগের মতো। যা বৃহস্পতি বার থেকে বন্ধ হয়ে যায়। মূলত চকবাজার এলাকায় প্রচুর ছাত্র-ছাত্রী থাকায় স্বল্প মূল্যের জুতার কদর বেশি। তার দোকানেরও রাখা হতো ৮০-১৫০ টাকার জুতা। কিন্তু করোনায় করুণা না করায় অসহায় সাগর।

এবিষয়ে সমাজ সেবক রায়হান কাউছার বলেন, ‘এই তিন-চার জনের গল্পে শেষ নয়। দেশে হাজার হাজার লক্ষী সাগর ও বেলাল রয়েছে। যারা দিনে এনে দিনে খায়। একদিন ইনকাম বন্ধ থাকলে চলে না সংসারের চাকা। এই পরিস্থিতি যদি দীর্ঘ হয়, কি করবে তারা জানে না। তার উপর অসৎ ব্যবসায়িরা বাড়িয়ে দিয়েছে নিত্যপণ্যের দাম। যা মরার উপর খাঁড়ার ঘা। এছাড়া স্বল্প বেতনের চাকুরীজীবিরাও দারুণ কষ্টে আছে। তারা না পারে বলতে না পারে সইতে।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..