বিশ্ব সংবাদ

করোনার মধ্যে ডিজিটাল হচ্ছে এশিয়ার জেলে ও কৃষক

শেয়ার বিজ ডেস্ক : করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব ও লকডাউনের কারণে অনেক বাজারই বন্ধ রয়েছে। এতে মালয়েশিয়ার ক্যামেরন হাইল্যান্ড জেলার কৃষকরা টনে টনে সবজি ফেলে দিতে বাধ্য হচ্ছিল। এ পরিস্থিতিতে ই-কমার্স তাদের জন্য একমাত্র টিকে থাকার মাধ্যম হচ্ছে। প্রথমবারের মতো তারা অনলাইনের মাধ্যমে ক্রেতাদের সঙ্গে সংযুক্ত হচ্ছে। একইভাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক জেলে ও কৃষক বিক্রির জন্য নতুন এ পদ্ধতিকে বেছে নিচ্ছে। খবর: বিবিসি।

মালয়েশিয়ায় গত মার্চ থেকেই দেশব্যাপী লকডাউন চলছে। সম্প্রতি তা আগামী ৯ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। দেশটির রাজধানী কুয়ালালামপুর থেকে ২০০ কিলোমিটার উত্তরের জেলা ক্যামেরন হাইল্যান্ডের একটি খামারের স্বত্বাধিকারী স্টিভ তেও সেখানে ভুট্টা ও ফুল বিক্রি করেন। তিনি জানান, ‘দেশব্যাপী লকডাউন দেওয়ার পর সব ফুলের দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চাহিদা একবারে কমে যায়। আমি মনে করেছিলাম আমার সব ফসল ফেলে দিতে হবে।’ সৌভাগ্যক্রমে সিঙ্গাপুরভিত্তিক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম লাজাড তার পাশে এসে দাঁড়ায়। তাকে অনলাইন ফুলের দোকানের সঙ্গে সংযোগ করে দিয়েছে। একইভাবে মালয়েশিয়ার অন্য কৃষকদেরও সাহায্য করেছে প্রতিষ্ঠানটি, যারা টনে টনে ফল ও সবজি গতানুগতিক ধারায় বিক্রি করতে পারছিলেন না। লকডাউনের প্রথম সপ্তাহে এক দশমিক পাঁচ টন সবজি অনলাইনে বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছে লাজাডা। তেও জানান, ‘অনলাইন প্রতিষ্ঠানটি এগিয়ে না এলে সম্ভবত আমার সব ফুল ফেলে দিতে হতো।’

মালয়েশিয়ায় সামুদ্রিক মাছ সরবরাহকারী দেশটির অন্যতম প্রতিষ্ঠান মাইফিসের স্বত্বাধিকারী আদ্রে গো। তিনিও একই সমস্যায় পড়েছিলেন। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আসার আগে আদ্রে তার সামুদ্রিক মাছ বাজারে বিক্রি ও সরবরাহ করতে পারছিলেন না। তিনি বলেন, ‘কোভিড-১৯-এ নিশ্চিতভাবেই আমাদের ব্যবসায় মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। অধিকাংশ রেস্টুরেন্ট, পাইকারি মাছের বাজার ও সুপারমার্কেট বন্ধ থাকায় আমরা মাছ সরবরাহ করতে পারছি না। কিন্তু অনলাইনে বিক্রির মাধ্যমে এখনও ব্যবসা টিকে আছে।’ লকডাউনের প্রথম দুই সপ্তাহে মানুষ মাছ বেশি কিনে স্টক করেছে। এতে মাইফিসের বিক্রি বেড়েছিল ১৫০ শতাংশ।

লাজাডা বলছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে জানুয়ারির মধ্যভাগ থেকে মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত তাজা পণ্যের অর্ডার বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী পিয়ার পয়ন্যান্ট বলেন, ক্রেতারা অনলাইননির্ভর হওয়ায় কৃষিপণ্যসহ প্রায় সব খাতেই বিক্রি বেড়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার রুমাস সাইয়ার গ্রুপ ৮৯ গ্রামের দুই হাজার ৫০০ কৃষককে সাহায্য করতে অনলাইনে সংযুক্ত হয়েছে। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি জাকার্তার বিভিন্ন সুপারমার্কেট, হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফেতে তাদের পণ্য সরবরাহ করত। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর তাদের বিক্রি কমেছে ৬০ শতাংশ। এজন্য তারা অনলাইন ব্যবসায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

থাইল্যান্ডেও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম লাজাডা দেশটির সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। এছাড়া চীনের আলিবাবা তাদের তাওবাও লাইভ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কৃষকদের অনলাইনে অন্তর্ভুক্ত করে সাহায্য করছে।     

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..