সম্পাদকীয়

করোনার সঠিক তথ্য মানুষকে জানান

বিশ্বব্যাপী প্রাদুর্ভাবের পর নভেল করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) বৈশ্বিক মহামারিতে রূপ নিচ্ছে। প্রাণঘাতী ভাইরাসটির প্রতিষেধক আবিষ্কৃত না হওয়ায় জীবনাচার ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই প্রতিরোধের প্রধান পন্থা। কিন্তু এত সতর্কবার্তা এবং বিশ্বব্যাপী প্রাণহানির দৃষ্টান্তও আমাদের সচেতন করছে না। সাধারণ মানুষ যেমন সতর্কবার্তায় কান দিচ্ছে না, তেমন মহামারি রোধে আমাদের সক্ষমতাও অনেক দুর্বল। যেখানে আধুনিকতা ও বিজ্ঞানে এগিয়ে থাকা উন্নত বিশ্বই করোনা মোকাবিলায় তেমন সাফল্য দেখাতে পারেনি, সেখানে আমাদের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। অবশ্য অনেকের ধারণা, করোনা নিয়ে সরকার সঠিক তথ্য দিচ্ছে না বরং এক ধরনের লুকোছাপা করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য দিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারিও উচ্চারণ করা হচ্ছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকেই সত্য তথ্য দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। সত্য তথ্য না পেলে গুজব ছড়াবেই। তাই সবাইকে সঠিক তথ্য জানানোর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

৩১ ডিসেম্বরের পর গত ৭৯ দিনে ভাইরাসটি বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। দেশে করোনা সংক্রমণের খবর প্রথম জানানো হয় ৮ মার্চ। ১০ দিনের মাথায় ১৮ মার্চ একজনের মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে আর এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে অন্তত ১৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন বলে সরকার জানিয়েছে।

শুরু থেকেই প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি রয়েছে দাবি করা হলেও করোনা মোকাবিলায় নেওয়া ব্যবস্থাকে  কোনোভাবেই পর্যাপ্ত বলা চলে না। সরকারিভাবে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া রোগীদের যথানিয়মে খাদ্য পরিচর্যা করা হয় না বলে কেউ সেখানে থাকতে চান না। কোয়ারেন্টাইন থেকে দায়িত্বশীলদের ফাঁকি দিয়ে বের হয়ে আসা কয়েকজনের বক্তব্য টিভি চ্যানেলেও প্রচার করা হয়েছে। রোগ শনাক্ত করার উপায় হলো সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে পরীক্ষা করা। এখানেও আমাদের দৈন্য সহজে দৃশ্যমান। ১৭ কোটি মানুষের জন্য মাত্র একটি শনাক্তকরণ কেন্দ্র!

সরকারের পক্ষ থেকে যথেষ্ট প্রস্তুতির কথা জানিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অথচ সেতুমন্ত্রী বলেছেন, করোনাভাইরাসের কারণে প্রয়োজনে ‘লকডাউন’ করা হবে।

চিকিৎসাসেবা তো পরের কথা, রোগ নির্ণয়ের ব্যবস্থাও নেই। এর ওপর সেতুমন্ত্রীর বক্তব্যে সাধারণ মানুষ তো আতঙ্কিত হবেই। অর্থ, শক্তি, সামর্থ্যে আমরা কোনোভাবেই ইতালির সমতুল্য নই। সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করায় দেশটিকে সবচেয়ে বেশি  মূল্য দিতে হয়েছে। এখন আমরা বিলম্ব করলে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা ভাবতেই শিউরে উঠতে হয়। করোনা এখনও নিয়ন্ত্রণযোগ্য, বেশি এলাকায় ছড়ায়নি। সারা দেশে ছড়িয়ে পড়লে কোনো লকডাউনই কাজ করবে না। তাই করোনার বিষয়ে সবাইকে সঠিক তথ্য জানিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়াই শ্রেয়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..