দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

করোনার ১০ কোটি ভ্যাকসিন পাচ্ছে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের তিন কোটি ও গ্যাভির ছয় কোটি ৮০ লাখসহ মোট ৯ কোটি ৮০ লাখ করোনার ভ্যাকসিন পাবে বাংলাদেশ। দুই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এরই মধ্যে চুক্তি হয়েছে। প্রতিটি ভ্যাকসিনের দাম হবে দুই থেকে ছয় ডলার বা ২০০ থেকে ৫০০ টাকা।

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নতুন ভবনে ‘কভিড-১৯ এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক হালনাগাদ তথ্য অবহিতকরণ’ সভা শেষে একথা জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম।

তিনি বলেন, নতুন বছরের শুরুতে অর্থাৎ জানুয়ারি মাসে দেশে টিকা আসার সম্ভাবনা রয়েছে। আর এসব টিকা মাঠপর্যায়ে প্রয়োগের জন্য ২৬ লাখ স্বাস্থ্য সহকারী ও সরকারের ইপিআই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তারা এটি বাস্তবায়ন করবে। ‘ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট বাংলাদেশকে তিন কোটি ডোজ করোনার ভ্যাকসিন দেবে। টিকাগুলো আনলেই হবে না, এগুলো মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ করতে হবে। কোল্ড চেইন মেইনটেইন করে আনতে হবে। বেক্সিমকোর সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা মাঠপর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য জেলা পর্যন্ত সরবরাহ করবে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ টিকা আসবে। প্রথমে স্বাস্থ্যকর্মীদের টিকা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে?। তারপর করোনায় সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি বেশি এমন ব্যক্তিদের। ৫০ বছরের বেশি বয়স্ক ও আগে থেকেই দুরারোগ্য রোগে আক্রান্তরা প্রাধান্য পাবেন। এরপর ধাপে ধাপে মিডিয়াকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে এ টিকার আওতায় আনা হবে।

এদিকে এমএনসি অ্যান্ড এএইচ লাইন ডিরেক্টর ডা. মো. শামসুল হক বলেন, সারা পৃথিবীতে অনেক প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করছে। যে ভ্যাকসিন আগে পাওয়া যাবে সেটাই আমরা নেব। এরই মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মাধ্যমে গ্যাভি ও কোভ্যাক্সের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পরে গ্যাভির সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। গ্যাভি ছয় কোটি ৮০ লাখ ভ্যাকসিন দেবে। এ ভ্যাকসিন দিয়ে প্রতি দুই ডোজ একজন হিসেবে তিন কোটি ৪০ লাখ মানুষকে দেওয়া যাবে। ২০২১ সালের মধ্যে দেশের মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনা যাবে।

তিনি বলেন ‘এই ভ্যাকসিন প্রয়োগে অন্য কোনো নিয়মকানুন আছে কি না, সেটা আমাদের জানা নেই। এটা অন্য কোনো টিকার মতো দেওয়া যাবে কি না, পরিবহনের জন্য কী পদ্ধতি ব্যবহার করা হবেÑসব বিষয়ের ওপর স্বাস্থ্য সহকারী ও ইপিআই কার্যক্রম যারা বাস্তবায়ন করছে, তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।’

সভায় কভিড তথ্য ব্যবস্থাপনা ও ই-সেবা, কভিডের বর্তমান প্রেক্ষাপট, কভিড ভ্যাকসিন, বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সার্বিক চিত্র এবং শীতকালীন রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা, অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. নাসিমা সুলতানা, এমআইএস বিভাগের পরিচালক ও লাইন ডাইরেক্টর ডা. মো. হাবিবুর রহমান, এমআইএস (মেডিকেল বায়োটেকনোলজি) বিভাগের ডিপিএম মো. মারুফুর রহমান অপু, সিডিসি পরিচালক ও লাইন ডাইরেক্টর অধ্যাপক ডা. শাহনীলা ফেরদৌসী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. মো. ফরিদ হোসেন মিয়া, আইসিডিডিআরবির পরিচালক অধ্যাপক তাহমিনা শিরিন প্রমুখ।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..