দিনের খবর পত্রিকা শেষ পাতা

করোনায় ব্যবসায় মুনাফা কমেছে ৮২% উদ্যোক্তার

চার জেলার জরিপের তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনা মহামারির প্রভাব নিয়ে দেশের চারটি জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর একটি জরিপ পরিচালনা করেছে সানেম। জরিপে উঠে এসেছে, স্বকর্মসংস্থান তথা আত্ম-কর্মসংস্থানে নিয়োজিতদের মধ্যে ব্যবসায় মুনাফা কমেছে ৮২ শতাংশের। অপরিবর্তিত রয়েছে ১৫ শতাংশের এবং বেড়েছে তিন শতাংশের।
২০১৯ সালের নভেম্বরের তুলনায় ২০২০ সালের নভেম্বরে প্রভাব নিয়ে জরিপটি পরিচালনা করা হয়। ‘মহামারি এবং বাংলাদেশের যুব জনগোষ্ঠী: চারটি নির্বাচিত জেলার জরিপের ফলাফল’ শীর্ষক জরিপটি গতকাল প্রকাশ করা হয়। জেলা চারটি হচ্ছেÑবরগুনা, সাতক্ষীরা, রাজশাহী এবং কুড়িগ্রাম। সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) এবং অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে জরিপটি পরিচালনা করা হয় বলে জানানো হয়েছে।
এক ওয়েবিনারে বলা হয়, মজুরি বা বেতনভুক্ত কর্মচারী বা কর্মকর্তাদের মধ্যে ৭০ শতাংশের আয় কমেছে। ২৮ শতাংশের আয় অপরিবর্তিত রয়েছে এবং দুই শতাংশের আয় বেড়েছে।
স্বকর্মসংস্থানে নিয়োজিত এ চারটি জেলায় করোনার সময়ে ব্যবসা বা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সাময়িক বা স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হয়েছে ৩১ শতাংশের। জরিপের
ফলাফল উপস্থাপনের সময় সানেমের রিসার্চ ইকোনমিস্ট মাহতাব উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর ওপর করোনা মহামারির প্রভাব সম্পর্কে ধারণা পেতে সানেম ১৫৪১টি খানার ওপর জরিপ পরিচালনা করেছে। এ জরিপে তরুণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনী প্রভৃতির ওপর করোনা মহামারির প্রভাব নিরূপণের চেষ্টা করা হয়েছে।
জরিপে বলা হয়েছে, করোনার সময়ে অনলাইন ক্লাসের সুযোগ পাননি এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা কুড়িগ্রামে ৬২ শতাংশ, সাতক্ষীরাতে ৫৬ শতাংশ, রাজশাহীতে ৩৯ শতাংশ এবং বরগুনায় ৪৬ শতাংশ। গড়ে এ চারটি জেলার ৫১ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসের সুযোগ পাননি। এ চারটি জেলার ৫০ শতাংশ ছেলে শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসের সুযোগ পাননি, অপরদিকে ৫৬ শতাংশ মেয়ে শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসের সুযোগ পাননি। করোনাকালীন সময়ে এ চারটি জেলার ৫২ শতাংশ ছেলে শিক্ষার্থীর কোনো ডিজিটাল ডিভাইস ছিল না, অপরদিকে ৬৫ শতাংশ মেয়ে শিক্ষার্থীর কোনো ডিজিটাল ডিভাইস ছিল না। গড়ে এ চারটি জেলার ৫৮ শতাংশ শিক্ষার্থীর কোনো ডিজিটাল ডিভাইস ছিল না।
গণপরিবহনে যাতায়াত করতে নিরাপদ বোধ করেন কি নাÑএ প্রশ্নের উত্তরে ৪০ শতাংশ নারী জানিয়েছেন তারা নিরাপদ বোধ করেন। জরিপে ৬৫ শতাংশ নারী জানিয়েছেন তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট রয়েছে। জরিপকৃত ১৪ শতাংশ নারী জানিয়েছেন তারা ফেসবুক বা ইউটিউব ব্যবহার করতে পারেন। পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে ধারণা আছে ৬৫ শতাংশ নারীর, বিবাহিতদের মধ্যে এ হার ৬৭ শতাংশ এবং অবিবাহিতদের মধ্যে ৫৪ শতাংশ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং সানেমের গবেষণা পরিচালক ড. সায়মা হক বিদিশার সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে সভাপতিত্ব করেন অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব দিলরুবা শারমীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সানজিদা আখতার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু ইউসুফ, সুইসকনট্যাক্টের টিম লিডার নাদিয়া আফরিন শামস এবং ব্র্যাকের দিবা ফারাহ হক।
ওয়েবিনারে বিশেষ বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..