আজকের পত্রিকা দিনের খবর প্রথম পাতা সর্বশেষ সংবাদ

করোনায় সিগারেট কোম্পানিকে সহযোগিতা করবে প্রশাসন!

বিভাগীয় কমিশনার-ডিসিকে শিল্প মন্ত্রণলয়ের চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্ব স্বাস্থ্য বলছে, তামাক করোনা সংক্রমণকে ত্বরান্বিত করে। অর্থাৎ তামাক সেবনকারীর ফুসফুসে নানান সমস্যা থাকে। আর করোনা ভাইরাস ফুসফুসে বেশি আঘাত করে। ফলে তামাক সেবনকারী ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হলে আরোগ্য লাভের আশা কম। এই সতর্কতা আমলে নিযে দক্ষিণ আফ্রিকা ইতোমধ্যে করোনা ভাইরাস সংকট মোকাবেলায় সিগারেট বিক্রয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। অন্যান্য দেশও এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে উল্টো চিত্র!

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও করোনা সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। সংক্রমণ রোধে সরকার ইতোমধ্যে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। বন্ধ রয়েছে সরকারি-বেসরকারি প্রায় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ছাড়া প্রায় বেশিরভাগ পণ্য পরিবহন বন্ধ রয়েছে। তামাক কোন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য নয়।

অথচ এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে দুইটি বহুজাতিক তামাক কোম্পানিকে সিগারেট উৎপাদন, বিপণন ও তামাক পাতা ক্রয় অব্যাহত রাখার সুযোগ প্রদান করা হয়েছে। দুইটি কোম্পানি হলো-ব্রিটিশ আমেরিকান কোম্পানি বাংলাদেশ ও ইউনাইটেড টোব্যাকো কোম্পানি লিমিটেড।

শিল্প মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে সকল বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসক বরাবর চিঠি প্রদান করেছে। ৫ এপ্রিল মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব মো. মোখলেছুর রহমান আখন্দ সই করা পৃথক চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর আগে ৪ এপ্রিল করোনার মধ্যে দুইটি কোম্পানিকে সহযোগিতা করতে মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়।

বাংলাদেশে করোনা সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত বিভিন্ন পদক্ষেপ দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। এবং সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছে। এ অবস্থায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের এই জনস্বাস্থ্য বিরোধী পদক্ষেপ জনমনে হতাশা সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ নির্দেশনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে ২০টি তামাক বিরোধী সংগঠন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশিষ্ট ক্যনাসর বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক শেয়ার বিজকে বলেন, কারো শরীরে করেনাভাইরাসজনিত রোগ কভিড-১৯-এর সংক্রমণ হলে তা আক্রান্ত ব্যক্তির ফুসফুসকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।কাজেই যেসব মানুষের ফুসফুসের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম তারা এ ভাইরাসের সংক্রমণের শিকার হলে তাদের ঝুঁকি বেশি। আর যারা ধূমপান করেন তাদের মধ্যে ফুসফুসের বিভিন্ন রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি। বিশেষ করে সিওপিডি বা ফুসফুসের ক্যানসার। আর কভিড-১৯ যেহেতু মারাত্মক ধরনের নিউমনিয়া সৃষ্টি করে, তাই দীর্ঘদিন ধরে ধুমপান করা ব্যক্তিরা এর দ্বারা আক্রান্ত হলে বেশি সমস্যায় পড়বেন। তাই করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ধূমপান নিরুৎসাহিত করা উচিৎ।

বিশেষজ্ঞদের এমন উদ্বেগের মধ্যেও দুইটি বহুজাতিক তামাক কোম্পানির উৎপাদন, বিপনন ও তামাক পাতা ক্রয়ে সহযোগিতার এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টিকে দুঃখজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন তামাকবিরোধী আন্দোলনের প্রতিনিধিরা। এ বিষয়ে তামাকবিরোধী আন্দোলন কর্মী সৈয়দ মাহবুবুল আলম বলেন, তামাক কোন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নয়। যেখানে রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাত তৈরি পোশাক শিল্পের উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে, সেখানে সিগারেটের মতো একটি ক্ষতিকর নেশা জাতীয় দ্রব্যের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া দুঃখজনক।

অপরদিকে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে এই নির্দেশনা প্রত্যাহার করে করোনা ভাইরাস মহামারী মোকাবেলায় দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সিগারেট বিক্রয়ের উপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার আহ্বান জানাচ্ছে তামাকবিরোধী ২০টি সংগঠন। এর মধ্যে রয়েছে-বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটি, বিসিসিপি, এসিডি, ইপসা, এইড ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোট, বিএনটিটিপি, বিটা, গ্রাম বাংলা উন্নয়ন কমিটি, নাটাব, প্রত্যাশা, টিসিআরসি, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন, উফাত, তাবিনাজ, ভয়েস, ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট, অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স-আত্মা এবং প্রজ্ঞা।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করে এবং প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ নিজ বাড়িতেই পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তামাকের ক্ষতির শিকার এই বিপুল প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠী বর্তমানে মারাত্মকভাবে করোনা ভাইরাসের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তামাকের স্বাস্থ্যক্ষতি বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..