বিশ্ব বাণিজ্য

করোনা আতঙ্কে পুঁজিবাজার ও তেলের দামে পতন

শেয়ার বিজ ডেস্ক: চীনে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, এমন আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন বিনিয়োগকারীরা। গতকাল সোমবার বিশ্ব পুঁজিবাজার দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিন্মে পৌঁছেছে। বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামও কমেছে তিন শতাংশের বেশি। খবর: রয়টার্স।

গতকাল বিশ্বের ৪৭ দেশের পুঁজিবাজারের মানদণ্ড নির্ধারণকারী এমএসসিআই সূচক দশমিক ৪৭ শতাংশ কমেছে। গত ২৩ জানুয়ারির পর এটিই সূচকটির সর্বনিম্ন অবস্থান। গতকাল লেনদেনের শুরুতে ইউরোপের পুঁজিবাজার সূচক নিম্নমুখী ধারায় লেনদেন শুরু করে। এর প্রভাব পড়ে এশিয়ার পুঁজিবাজারেও। ইউরোপের সূচকের মধ্যে স্টকক্স৬০ সূচক কমেছে দুই শতাংশের বেশি, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের পর যা সর্বনিম্ন। এছাড়া লন্ডনের এফটিএসই সূচক কমেছে দুই দশমিক ৪৬ শতাংশ, জার্মানির ডিএএক্স সূচক কমেছে দুই দশমিক ২৩ শতাংশ এবং ফ্রান্সের সিএসসি সূচক কমেছে দুই দশমিক ৪০ শতাংশ।

এশিয়ার বাজারের মধ্যে জাপানের নিক্কেই সূচক কমেছে দুই দশমিক শূন্য তিন শতাংশ এবং চীনের সাংহাই সূচক কমেছে দুই দশমিক ৭৫ শতাংশ। এছাড়া গতকাল ভারতের সেনসেক্স সূচক এক শতাংশের বেশি। এর আগের দিন মার্কিন পুঁজিবাজারও ছিল নিম্নমুখী। এর মধ্যে ডাও জোনস সূচক কমেছিল দশমিক ৫৮ শতাংশ, নাসডাক সূচক কমেছিল প্রায় এক শতাংশ এবং এসঅ্যান্ডপি সূচক কমেছে দশমিক ৯০ শতাংশ।

চীনে নতুন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে গতকাল পর্যন্ত দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮১ জনে দাঁড়িয়েছে। ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে ফ্রান্স, জাপান, যুক্তরাষ্ট্রসহ ১০টির বেশি দেশে। নতুন এ করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে চীনশাসিত হংকং আটজনের আক্রান্ত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে। গত ১৪ দিনের মধ্যে যারা হুবেই গিয়েছেন তাদের হংকংয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে নগরটির স্থানীয় সরকার। তবে হংকংয়ের বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না বলে জানানো হয়েছে। কয়েকটি দেশে কিছু সংখ্যক লোকের আক্রান্ত হওয়ার কথা জানা গেলেও চীনের বাইরে কারও মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া যায়নি। ওইসব দেশের আক্রান্তরা সবাই উহান ভ্রমণ শেষে দেশে ফিরেছিলেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভাইরাসের কারণে বাজারে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এ ধারা চলতি সপ্তাহব্যাপী অব্যাহত থাকতে পারে। পুঁজিবাজারের পাশাপাশি গতকাল বিশ্ববাজারে কমেছে জ্বালানি তেলের দামও। গতকাল লন্ডনের বাজারে প্রতি ব্যারেল বিক্রি হয় ৫৮ ডলার ৬৮ সেন্টে, আগের দিনের তুলনায় যা তিন শতাংশ কম। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে এদিন প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম পৌঁছায় ৫২ ডলার ১৫ সেন্টে। আগের দিনের তুলনায় এ দাম তিন ডলার ৮০ সেন্ট কম। এটি গত দেড় মাসের মধ্যে পণ্যটির সর্বনিম্ন দাম।

২০০২-০৩ সালের দিকে করোনা ভাইরাসের সমগোত্রীয় সার্সের (সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম) প্রাদুর্ভাবে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বিশ্ব অর্থনীতি। ওই ভাইরাসটিরও উৎপত্তি হয়েছিল চীনে। এবার নতুন ভাইরাসের কারণেও চীনের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। চীনের নববর্ষ উপলক্ষে লাখ লাখ পর্যটক ভ্রমণে বের হওয়ার মুহূর্তেই নিষেধাজ্ঞা দিতে হয়েছে ১৮টি শহরে। ফলে বড় আঘাত পড়েছে দেশটির পর্যটনশিল্পে।

ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে চীনের নববর্ষ উপলক্ষে বিনোদন ও উপহারসামগ্রী কেনাবেচায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। করোনা ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষেই সবচেয়ে বেশি ছড়াচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও আতঙ্কের কারণে বেশিরভাগ মানুষই ঘর ছেড়ে বের হচ্ছে না। অনেক শহরে গাড়ি চলাচল ও দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। ফলে অর্থনীতিতে এক ধরনের স্থবিরতা নেমে এসেছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..