আজকের পত্রিকা মত-বিশ্লেষণ সর্বশেষ সংবাদ

করোনা করণিকদের করণীয় ও সময়ের আমরা

করোনা সংকটের সম্মুখ সারির যোদ্ধা ডা: মঈনকে হারালাম! হারিয়েছি আরো ষাটটি তাজা প্রাণ। এ ব্যথা শব্দে প্রকাশের নয়! করোনা রোগী দেড় হাজার ছাড়িয়য়েছে। সামনে কী ভয়াবহতা আসছে আল্লাহ জানেন! লিখবনা ভেবেছিলাম। করোনার দেশের মূল করণিদের সময়মতো করণীয় ভাবছি। দৈনিক, অনলাইন, টিভি, সামাজিক অ্যাপস যেটাই খুলি করোনাময়। দেশে বিদেশে মৃত, আক্রান্ত বা সুস্থতার খবর।

আমাদের আজকের অবস্থা ঠেকানো যেত। অনেক ভালো অবস্থানে থাকতে পারতাম! কোরিয়া, সুইডেন, তাইওয়ানের মতো বহু দেশ করেছে। ওদের জনগণ সচেতন আগে হয়েছে। প্রতিটি রোগী চিহিৃত ও বিচ্ছিন্ন করে সামাজিক সংক্রমণ ঠেকিয়েছে।

আমাদের দেশেও ভালোভাবে শুরু হয়েছিল। ধারাবাহিকতা থাকেনি। সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করা যায়নি। গুজবের সংবাদ পড়ে সচেতনতা বা করোনা থেকে বাঁচার উপায় জানা যায় না। লকডাউন, আইসোলেশন, কোয়ারেন্টাইন, হাঁচি-কাশির ড্রপলেটসের ভয়াবহতা, পিপিই, স্যানিটাইজার, ৩ ফুট দূরত্ব, ভাইরাস চারদিন গলায় থাকা ইত্যাদি আমরা ৮ মার্চের পর জেনেছি।

আমাদের গণমাধ্যমে করোনার ভয়াবহতা চেয়ে গুজবের সংবাদ অগ্রাধিকার পায়। গুগলে ফেব্রুয়ারি মাসে করোনার বাংলা সংবাদগুলো এমনই। গুজবের শিরোণাম ছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্দেশিত করোনার মূল সতর্কতা ও সচেতনতা উপেক্ষিতই থাকে।

জাতির দুর্যোগে প্রতিটি নাগরিক দেশের করণিক! মহাদুর্যোগে সে দায়িত্ব বেড়ে যায়। জ্ঞানে মানে বড় হলে তাঁর দায়িত্ব আরো বেশী। বিবেকবান গণমাধ্যমসেবী ও কলমধারীরা আরো বড়। তাঁরা সমাজের শিক্ষক শ্রেণীর করণিক।

আমেরিকান লেখক ও গণমাধ্যম আলোচক TriciaHarris বলেছেন, The mass media, their influence is everywhere. They tell us what to do, what to think, and they tell us to think about ourselves all of the time.

#করোনা_করণিকদের_করণীয়_ও_সময়ের_আমরা ১. #করোনা_সংকটের সম্মুখ সারির যোদ্ধা ডা. মঈনকে হারালাম! হারিয়েছি আরো ষাটটি তাজা প্রাণ। এ ব্যথা শব্দে প্রকাশের নয়! করোনা রোগী দেড় হাজার ছাড়িয়য়েছে। সামনে কী ভয়াবহতা আসছে আল্লাহ জানেন! #লিখবনা ভেবেছিলাম। করোনার দেশের মূল করণিদের সময়মতো করণীয় ভাবছি। দৈনিক, অনলাইন, টিভি, সামাজিক অ্যাপস যেটাই খুলি করোনাময়। দেশে বিদেশে মৃত, আক্রান্ত বা সুস্থতার খবর। আমাদের আজকের অবস্থা ঠেকানো যেত। অনেক ভালো অবস্থানে থাকতে পারতাম! কোরিয়া, সুইডেন, তাইওয়ানের মতো বহু দেশ করেছে। ওদের জনগণ সচেতন আগে হয়েছে। প্রতিটি রোগী চিহ্ণিত ও বিচ্ছিন্ন করে সামাজিক সংক্রমণ ঠেকিয়েছে। ২. আমাদের দেশেও ভালোভাবে শুরু হয়েছিল। ধারাবাহিকতা থাকেনি। সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করা যায়নি। গুজবের সংবাদ পড়ে সচেতনতা বা করোনা থেকে বাঁচার উপায় জানা যায়না। লকডাউন, আইসোলেশন, কোয়ারেন্টাইন, হাঁচি-কাশির ড্রপলেটসের ভয়াবহতা, পিপিই, স্যানিটাইজার, ৩ফুট দূরত্ব, ভাইরাস চারদিন গলায় থাকা ইত্যাদি আমরা ৮ মার্চের পর জেনেছি। আমাদের গণমাধ্যমে করোনার ভয়াবহতা চেয়ে #গুজবের_সংবাদ অগ্রাধিকার পায়। গুগলে ফেব্রুয়ারি মাসে করোনার বাংলা সংবাদগুলো এমনই। গুজবের শিরোণাম ছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্দেশিত করোনার মূল সতর্কতা ও সচেতনতা উপেক্ষিতই থাকে। #জাতির_দুর্যোগে প্রতিটি নাগরিক দেশের করণিক! মহাদুর্যোগে সে দায়িত্ব বেড়ে যায়। জ্ঞানে মানে বড় হলে তাঁর দায়িত্ব আরো বেশী। বিবেকবান #গণমাধ্যমসেবী ও #কলমধারীগণ আরো বড়। তাঁরা সমাজের শিক্ষকশ্রেণীর করণিক। আমেরিকান লেখক ও গণমাধ্যম আলোচক #Tricia_Harris বলেছেন, The mass media, their influence is everywhere. They tell us what to do, what to think, and they tell us to think about ourselves all of the time. ৩. #মাননীয়_স্বাস্থ্যমন্ত্রীও #TV3_UK এর সাক্ষাতকারে করোনা নিবারণে গত ২০ ফেব্রুয়ারি কাস্টম হাউস বেনপোলের পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। সরকারের একার পক্ষে এমন দুর্যোগ মোকাবিলা সম্ভব নয় বলে মিডিয়ার ভূমিকা স্মরণ করিয়ে দেন। মিডিয়াকে পজিটিভ সংবাদ পরিবেশনে দায়িত্বশীল হতে বলেন। করোনা কর্মীদের মূল্যায়নে কোথাও গ্যাপ হয়ে থাকলে তিনি দু:খ প্রকাশ করেন। ৪. কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগে সিকি শতাব্দীর কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে আমরা সরকারের নগণ্য করণিক। #রাষ্ট্রের_সংবিধান আমাকে নির্দেশ দেয় 'সকল সময়ে #জনগণের_সেবা করিবার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য।' #বাংলাদেশ_সংবিধান: অনুচ্ছেদ ২১(২)। সেই দায়িত্ববোধ থেকে বেনাপোল কাস্টমস টীম নিয়ে করোনা দুর্যোগ প্রাদুর্ভাবের প্রথম থেকে লড়ছি। আমরা #নিজের_তাগিদে কাজ করি। প্রয়োজনে করি। ভালোবেসে করি। দেশ ও দেশের মানুষকে। মূল্যায়ন বা পুরস্কার আশায় নয়। সম্প্রতি করোনা নিয়ে কাজের মূল্যায়ন প্রসঙ্গ এসেছে। ৫. ২৯ জানুয়ারির #সচেতনতা_সেমিনার ও ২০ ফেব্রুয়ারি কথিত করোনা রোগী আটক নিয়ে সময়ে এখন #ইতিবাচক_আলোচনা হচ্ছে। অনেক বিজ্ঞজনের সাথে উদার সংবাদসেবীরা এখন বলছেন, “আপনি যশোর বেনাপোলকে বাঁচিয়েছেন! কিছু মানুষ ও মিডিয়া তখন বুঝে বা নাবুঝেই আপনাকে ভিলেন বানিয়েছিল! আসলে দেশব্যাপী কাজ করার ওটাই উপযুক্ত সময় ছিল।” ৬. অথচ ২৯জানুয়ারি করোনা সেমিনার নিয়ে অনেক উপহাস হয়েছে। গণমাধ্যমের অনেকেই এদলে ছিলেন। সেমিনারের সংবাদও গুরুত্ব পায়নি। বলেছেন, এত আগে তোড়জোড় কেন! এত প্রচারের দরকার কি! করোনা #আমেরিকা_ইউরোপের_রোগ! আমাদের দেশে আসবে না! মুসলমানদের দেশে হবে না। তাচ্ছিল্যে বলেছেন, আমরা প্যানিক তৈরি করছি, ক্রেডিট নেয়ার জন্য সেমিনার করেছি, বেহুদা প্রচারে নেমেছি। ৭. দেশের সীমান্তে আমাদের অবস্থান বলেই সতর্কতা জরুরী ছিল। যেখানে চেকপোস্ট দিয়ে দিনে দশ হাজার মানুষের গমনাগমন। ভাইরাসটির মারাত্মক সংক্রমণতা নিয়ে সেসময় কিছু পড়াশোনা করেছিলাম। টীম অক্লান্ত পরিশ্রমে মাত্র দুদিনে বৃহৎ সেমিনার আয়োজন করেছিল। জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য দপ্তরকে সম্মত করে। সরকারী অসরকারী সংস্থার দুশো সদস্য করোনা-ধারণা নেন। ৮. গত সপ্তাহে #যশোর_মনিরাম পুরে একজন স্বাস্থ্যকর্মীর করোনা ধরা পড়ে। আতংক ছড়িয়ে পড়েছে ৪১কি:মি: দূরে এখানে বেনাপোলে। আমার লোকজন ছাড়াও বেশ ক’জন সংবাদকর্মী ফোনে উদ্বিগ্ন। যেন তাদের করোনা ধাওয়া করছে। আমি বাঁচার উপায় বলে দেই! কোন কোন সংবাদকর্মী পিপিই চাইলেন। হয়তো একরকম আস্থা থেকে। মনিরাম পুরেরর #আতংক_বেনাপোলে কেন! মানুষ এখন ‘করোনা’ বোঝে। ভয়াবহতা জানে। আমাদের গণমাধ্যম এখানে সফল। কারণ ইতোমধ্যে তারাও করোনা ভয়াবহতা নিজেরা বুঝেছে। আড়াই মাস আগে বুঝলে ভালো হতো! জাতির জন্য অনেক ভালো। ৯. গত ২০ ফেব্রুয়ারি ভারত থেকে #লিখিতভাবে_পুশব্যাক করা করোনা রোগী বেনাপোল কাস্টম হাউস সতর্ক পদক্ষেপ নেয়। পরে তার করোনা প্রমাণিত হয়নি। আজকে যদি ভারত লিখিত দিয়ে একজন করোনা রোগী বেনাপোল সীমান্তে পাঠায়, আমরা কী করব! অবশ্যই সেদিনের চেয়ে বেশী সতর্কতা নেব। কিন্তু আমরা সংবাদমাধ্যমকে বোঝাতে ব্যর্থ হলাম। ১০. স্থানীয় সাংবাদিকরা বেনাপোল ভালো চেনেন। ঝুঁকি কোথায় বুঝেছিলেন। তাঁরা বাস্তবতা তুলে ধরতে চাইলেন। স্থানীয়দের এড়িয়ে ঢাকার #অতিউৎসাহীরা এগিয়ে গেলেন। যার কাজ সে না করলে যেমন হয়। কয়েকজন রিপোর্টারের #মওকা_পাওয়া আক্রমণ। আমাদের সতর্কতার ভুল ব্যাখ্যা করলেন। কার জন্য কেন কী করলাম! সকল গণমাধ্যম বড় শিরোনামে গুজব ছড়ানোর অপবাদ দিলেন। অতি ধীমান কয়েকজন আসামীর কাঠগড়ায় দিলেন। চাকরিচ্যুতির সুপারিশও করলেন। বেনপোলবাসীর সাথে দেশের মানুষও ভুল বার্তা পেল। সবাই ভেবে নিলেন, করোনা চীনে তৈরি, আমেরিকা ইউরোপের জন্য! #প্রথমআলো প্রিন্ট ও অনলাইনে আমাদের বিরুদ্ধে কয়েকটি রিপোর্ট করে। গুজব ছড়ানোর গুরুতর অভিযোগ। প্রতিবেদক আমার সাথে কথাও বলেননি। প্রথম সারির বা অনলাইন পোর্টালগুলোর কথা না বললাম। প্রথমআলো সম্পাদক বললেন, স্থানীয় প্রতিনিধির অর্বাচীনতা! স্থানীয় প্রতিনিধি বলেন, ঢাকা থেকে অতিউৎসাহে হয়েছে। এক অনলাইনের নবীণ প্রমীলা রিপোর্টার আক্রোশী যুদ্ধংদেহী! ডিইউজে, ডিআরইউ, ইআরএফ, পিআইবিসহ সংগঠনগুলোর কয়েকশো সদস্যকে চিনি। ‘জ’ আদ্যাক্ষরের এ মহীয়সীর নাম আগে শুনিনি। তার জিঘাংসু আক্রোশ কেন তাও বুঝিনি। আমি যেন যুদ্ধাপরাধী! কমিশনার পদে এমন নাদান তিনি দেখেননি। টেলিফোনে শিক্ষণীয় অশোভন শব্দাগার শেষ করে মনের মাধুরী মিশিয়ে লিখলেন। পরে শুনেছি দুরাচারের কারণে তিনি ওই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেয়ে কোয়ারেন্টাইনে গেছেন। গুজবের অভিযোগকারীরা আমাদের সম্পর্কে এখন মাননীয় মন্ত্রীর বক্তব্যও শুনছেন। ১১. আমরা শিখেছি। অনেক হারিয়ে। শিখলাম যখন ছয় লক্ষাধিক বিদেশ ফেরত মানুষ ষোল কোটিতে মিশে গেল। ৮ মার্চের পরও লকডাউন, আইসোলেশন, কোয়ারেন্টাইন বুঝতে কয়েক সপ্তাহ লেগে গেল। যখন পরাক্রম যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ করোনা আক্রান্ত ও একদিনে ২০৩৫জন তিন দিনে পাঁচ হাজার মারা গেল। এখন আমাদেরকে herd immunity বুঝতে হচ্ছে। আমাদের পাঠকদের আগে জানাতে পারলে লকডাউনে – মানুষ ড্রামে করে লুকিয়ে পালাবার – কুরিয়ারের গাড়ি ভেতরে করে যাবার – গার্মেটস খুলে দিয়ে লক্ষ শ্রমিক রাস্তায় নামিয়ে দেয়ার – মুফতি সাহেবও ভিন্ন তথ্য দিয়ে ডিএমসিতে ভর্তির – ভারতে তাবলীগের জামাতে বাঙ্গালী মৃত্যুর – প্রবাসীদের দুসপ্তাহ লুকিয়ে রাখার কিংবা – ব্রান্মনবাড়িয়ায় হাজার মানুষ মারামারি করার ভুল করতো না। ১২. এখন হলে কি আমরা করতাম! ভারতের সনাক্ত করা সম্ভাব্য করোনা রোগী আমরা লুকাবো? চুড়ান্ত পরীক্ষায় তার করোনা ধরা পড়ুক বা নাপডুক। করোনা নিয়ে আমরা ইতোমধ্যে দেশী বিদেশী সংবাদমাধ্যম থেকে অনেক কিছু জেনেছি। সীমান্তে ফেরত পাঠানো করোনা সন্ধিগ্ধ ব্যক্তিকে সাবধানে গ্রহণ ও তার কোয়ারেন্টাইন কিভাবে নিশ্চিত করা হবে, জেনে গেছি। পালানো ঠেকাতে পাহারা বসাতে হবে। যেমন #বাগ_এ_জান্নাত কোয়ারেন্টাইন সেন্টার নাহবার জন্য মিডিয়াসব পুরো বেনাপোল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। সফলও হয়েছে। ১৩. সেদিনের ঘটনা সংক্ষেপে বলা দরকার। ২০ফেব্রুয়ারি ২০২০। ভারতীয় রেলের সিনিয়র গার্ড কৃষ্ণেন্দু বোস নিজে আসেন। #পুশব্যাক_করা একজন বাংলাদেশীকে করোনা রোগী বলে লিখিত দিয়ে কাস্টমসের হাতে তুলে দেন। তার সাম্প্রতিক অতীতে চীন ভ্রমণের বৃত্তান্ত ছিল। আমরা আরো সাবধানী হলাম। বেনপোলের পনের হাজার মানুষের সংক্রমণ নিরপত্তায় উদ্বিগ্ন ছিলাম। ইতোমধ্য করেনার ভয়াবহ সংক্রমণতা নিয়ে কয়েকটা নিবন্ধ পড়েছিলাম। আমরা বেশী সতর্ক ছিলাম! নিজেদের স্বার্থেই। সেমিনার জ্ঞান ও এ নিয়ে পড়াশোনার কারণেও। #বহর্দেশীয়_সরকারী_প্রতিনিধির সশরীরে লিখিত দেয়া, দেশের সরকারী বিভাগ উপেক্ষা করে না। আমরাও পারিনি। সীমান্তের দুদেশের প্রথাগত শিষ্টাচারের ঐতিহ্যও বিবেচ্য। আমরা তাৎক্ষণিক ফেসবুকে যাত্রীর পরিচয়সহ পোস্ট দিয়ে সবাইকে সতর্ক করলাম। তখনো তিনি করোনা রোগী কিনা স্বাস্থ্যকর্মীরা নিশ্চিত ছিলেন না। যশোরে করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা ছিল না। মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীও একথা বলেছেন। তাঁরা ঢাকায় কথা বলে তিনি করোনামুক্ত লিখিত সনদ দেন। আমরা সেটি সবাইকে জানিয়ে দিয়ে পোস্ট দেয়ার এক ঘন্টারও কম সময়ে আগের পোস্ট মুছে নতুন পোস্ট দেই। দেশের অন্যান্য রেলস্টেশনের মতো বেনাপোলও উন্মুক্ত। আশংকা ছিল, যদি তিনি পালিয়ে যান! যেমন এখন পালাচ্ছে। এনবিআর বিটের সিনিয়র সাংবাদিক Doulot Akter মালা সীমান্তে #পালানোর_শংকা নিয়ে কদিন আগে একটা রিপোর্ট করেছেন। https://today.thefinancialexpress.com.bd/first-page/slack-quarantine-at-land-ports-poses-major-risk-1586366368 ১৪. বিশ্বব্যাপী #প্রথম_করোনা_কেস ধরা পড়ে ২০ ফেব্রুয়ারির আগের দিন পর্যন্ত: যুক্তরাষ্ট্রে ১ জানুয়ারী, ইতালি ৩১ জানুয়ারী, স্পেন ১ ফেব্রুয়ারী, যুক্তরাজ্য ৩১ জানুয়ারী, জার্মানি ২৭ জানুয়ারী, ফ্রান্স ২৪ জানুয়ারী ও ভারতে ৩০ জানুয়ারি। ১৫. করোনা দুর্যোগে #বেনাপোল_কাস্টমসের_কার্যক্রম: জানুয়ারি২৯ : ২০০ অংশীজন নিয়ে কাস্টমস ক্লাবে সচেতনতা সভা; প্রস্তুতি তিন দিন আগে শুরু ৩০ : কাস্টম হাউসে মাস্ক ও হ্যান্ডগ্লভস বিতরণ ৩০ : বিভিন্ন গণমাধ্যমে করণীয় ও সেমিনার খবর প্রচার৩১ : অভ্যন্তরীণ সচেতনতা ও প্রায়োগিক কার্যক্রম ৩১ : পরিচ্ছনতা ও নিবারক সামগ্রি সংগ্রহ কার্যক্রম অব্যাহত ফেব্রুয়ারি ২০ : বেনাপোল রেলস্টেশনে ভারত ফেরত করোনা সন্দেহ যাত্রী নিয়ে সতকর্তা কার্যক্রম ২২ : করোনার ভয়াবহতা নিয়ে সিএন্ডএফ নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা ২১ : বেনাপোল কাস্টম হাউস ও কমিশনারের ফেসবুক পেইজে লাগাতার প্রচারণা২৫ : ভাইভার গ্রুপে ২০০+ কর্মকর্তা কর্মচারিকে সচেতনতায় উদ্বুদ্ধকরণ মার্চ ১ : হ্যান্ড স্যানিটাইজার, গ্লোবাল ও মাস্ক সংগ্রহ কার্যক্রম চলমান ১০ : চেকপোস্টে যাত্রীদের মধ্যে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক, টিস্যু-বক্স বিতরণ১০ : চেকপোস্টে কাস্টমস, বন্দর, পুলিশ, কর্মকর্তাদের মধ্যেও বিতরণ ১০ : কাস্টম হাউসের মূল গেইটে হাত ধোয়ার ব্যবস্থাকরণ১০ : কাস্টম হাউসের ভেতরে প্রবেশকারী প্রত্যেকের শরীরের তাপমাত্রা মাপার ব্যবস্থা১১ : সচেতনতার জন্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার ১১ : করোনা সচেতনতায় দৃশ্যমান স্থানে পোস্টার লিফলেট স্থাপন১৯ : সীমান্তে কার্গো শাখায় পানির লাইনসহ বেসিন স্থাপন১৯ : সীমান্ত ড্রাইভার ও স্টাফদের হাত ধোয়া বাধ্যতামূলেককরণ ২০ : কাস্টম হাউসের এন্ট্রি শাখায় সিএন্ডএফ কর্মচারীদের জন্য কল ও বেসিন স্থাপন২২ : কাস্টমস মূলগেট, শুল্কায়ন গ্রুপ ও কিপয়েন্টে হ্যান্ড স্যানিটাইজার সংরক্ষণ ২২ : করোনা সচেতনতায় কমিশনারের উদ্যোগে বেনাপোলে বিভিন্ন স্থানে মাইকিং২২ : বিশেষ উদ্যোগে পৌরমেয়রের সহায়তায় কাস্টম হাউস চত্ত্বরে করোনা জীবানুনাশর ওষুধ স্প্রেকরণ২৩ : মসজিদে কমিশনারের বিশেষ সচেতনতা বক্তব্য, আলোচনা ও দোয়া ২৪ : কমিশনারের উদ্যোগে এ দুর্যোগে দু:স্থ ও গরীব কর্মচারীদের জন্য তহবিল গঠন ২৪ : চেকপোস্টে প্রবেশেচ্ছু ভারতীয় ছাত্রদের খাবার বিতরণ২৪ মার্চ: সিএন্ডএফ নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে ভারতীয় ছাত্রদের মধ্যে মাস্ক বিতরণ২৫ : ফুট, হ্যং ও লং ব্যানার দিয়ে প্রচারণা ২৬. কাস্টম হাউ ও কমিশনারের ফেসবুক পেইজ অব্যাহত সচেতনতা কার্যক্রম ২৮. দুস্থ সিপাই, মালি, বাবুর্চি, বলবয়, সেবক, সহায়কদের নগদ সহায়তা ২৯. গ্রামে দৈনিক আয় নির্ভর ৬২টি পরিবারের মধ্য নগদ অর্থ বিতরণ ৩০. চেকপোস্ট ও কার্গোতে সরাসরি স্পর্শে সম্পৃক্ত কর্মকর্তাদের জন্য পিপিই সংগ্রহ এপ্রিল: ১. সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করে বেনাপোল বন্দরের দৈনিক আয়নির্ভর ও কর্মহীন ১৫০ পরিবারে ‘ফুড ব্যাগ’ বিতরণ ৩. অসুস্থ ও রোগীর হাসপাতাল বিল সহায়তা ৪. বেনাপোল সংবাদকর্মীদের ত্রাণে সহায়তা ৮. বিশেষ জরীপের মাধ্যমে বাছাইকৃত ১৭০টি প্রকৃত দুস্থ পরিবারের বাড়িতে ‘ফুড ব্যাগ, পৌছে দেয়া ১৩. কাস্টম হাউসের ফটকে সবার জন্য ইনফ্রারেড থার্মোমিটার বাধ্যতামূলক ও বহিরাগত প্রবেশ সীমিতকরণে রেজিষ্টার চালু ১৪. মূল ফটকে ব্লিচিং পাউডার মেশানো পানির ট্রেতে জুতার তলা ভিজিয়ে ভেতরে প্রবেশ ১৬. আগেও বলেছি, করোনা বিশ্বময় ভয়াবহ হতে যাচ্ছে, বিশ্ব মিডিয়ার সাথে আমাদের মিডিয়াও জানতো। প্রথম থেকেই জাতির কাছে করোনার সম্ভাব্য ভয়াবহতা তুলে ধরতে পারত। মুক্ত মনে আমাদের ভুল শুধরানোর পথ দেখাতে পারতেন। #সবাই_মিলে ভালো কিছু করা যেত। যেমন এখন হচ্ছে। মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীও বলেছেন, সরকারের একার পক্ষে মহামারী সামলানো সম্ভব নয়। মিডিয়াসহ সকলে দায়িত্বশীল হতে বলেছেন। আমাদের গণসচেতনতা সময়মতো হয়নি। একজন নিজে শুরু করলেও পাশের জনকে বোঝাতে পারেনি। আমাদের গণমাধ্যম সময়মতো মাঠে নামেনি। ১৭. দুএকজন প্রশিক্ষণহীন, মানহীন অনভিজ্ঞ সংবাদকর্মীর অপরিণাদর্শী লেখনির দায়ভারও সমগ্র গণমাধ্যমের নয়, আমরা জানি। কিছু ভুলের মাশুলও হয়না। এ অপরিণামদর্শিতায় মানুষ বার্তা পেল, এদেশে কখনো করোনা আসবে না। সাবধান হবার দরকার নেই। বেনাপোলের অনেকে তাদের দ্বারা দিক্ষিত হয়েছিল। অনুযোগের জন্য নয়। আগামিতে আমাদের ও কলম সেনাপতিদের সঠিক অবস্থান খোঁজার জন্য আমার এ লেখা। মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীও সে কথাই বলেছেন। ১৮. আজ করোনা রোগী নিয়ে করণীয় ও সতর্কতা আমরা জানি! সরকারী অসরকারী ব্যক্তি, সংস্থা ও মিডিয়ার কর্মকান্ড স্পষ্ট! সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছেন। ডাক্তার, নার্স, পুলিশ, সেনাবাহিনী, প্রশাসন ও জরুরী সেবাদানকারীরা আজকের মুক্তিযাদ্ধা। আমাদের গণমাধ্যম শক্তিশালী। কিছু ক্ষেত্রে গর্বেরও। যেমন সন্ত্রাস দমনে। মাদক প্রতিরোধে। তাদের মাধ্যমে পাঠকরা আজকে জানছে বলেই পরিবার থেকে খবর দিয়ে করোনা রোগীর পরীক্ষা করাচ্ছে। আজ পলােযন ঠেকাতে, লকডাউন মানতে, গার্মেন্টস শ্রমিক বের নাকরতে, আইসোলেশন সচেতনতায় সবার সাথে গণমাধ্যমের সক্রিয় অংশগ্রহণ দৃশ্যমান। ১৯. আমরা পাঠক। পাঠকবান্ধব সত্যনির্ভর গণমাধ্যম পাঠকের প্রত্যাশা। মানসম্মত সংবাদ কর্মী এর মুখ্য অনুষঙ্গ। ট্রিসিয়া হ্যারিসের সুরে বলতে হয় সংবাদ হবে সবার। উদার, সর্বগামী ও সবসময়ের। গণমানুষের কল্যাণের পথিকৃত। সংবাদে নিরপেক্ষতা ন্যায়ানুগতা থাকবে। ব্যক্তির চেয়ে সমাজ প্রাধান্য পাবে। সংবাদ মানুষের ভাবনা ও করণীয় বলবে। #আলোর_পথ দেখাবে। মানুষ নিজে ভুল করলেও সংবাদপত্রের কালো অক্ষরগুলোকে ভুলের উর্ধে দেখে। #আদর্শ_শিক্ষকের মতো। আদর্শিকের ভুল বার্তাও আদর্শ শক্তি নিয়েই যায়। ২০. করোনার ভয়াবহতা অনুমান করা যায়নি। #সময়ের_আমরা সময়ের সাথে থাকতে পারনি। কোভিড১৯ উন্নত পশ্চিমাদের ছাড় দেয়নি। পুরো পৃথিবীকে বুঝিয়েছে, সময় গেলে সাধন হয় না। দেরিতে হলেও নাহবার চেয়ে ভালো। সামনে পনের দিন কঠিন সময়! #যার_যা_আছে তা নিয়েই স্বাস্থ্যবিধি মানি। কষ্ট করে ঘরে থাকি। মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সশ্রদ্ধ কৃতজ্ঞতা! তিনি আমাদেরকে মূল্যায়ন ও পুরস্কারের কথা বলেছেন। আপনার এ স্বীকৃতিই আমাদের প্রাপ্তি ও অনুপ্রেরণা। কত দিন পৃথিবীতে আছি জানিনা! করোনা বাঁচার সব হিসেব বদলে দিয়েছে। সময় গড়িয়ে জীবন যেন আরো অনিশ্চিত! যতোক্ষন বেঁচে আছি যেন দেশ ও মানুষের কাজে আসি, দেশের সংবিধান সমুন্নত রাখতে পারি, এ দোয়া চাই।

Gepostet von Belal Chowdhury am Donnerstag, 16. April 2020

মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীও TV3UK এর সাক্ষাতকারে করোনা নিবারণে গত ২০ ফেব্রুয়ারি কাস্টম হাউস বেনপোলের পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। সরকারের একার পক্ষে এমন দুর্যোগ মোকাবিলা সম্ভব নয় বলে মিডিয়ার ভূমিকা স্মরণ করিয়ে দেন। মিডিয়াকে পজিটিভ সংবাদ পরিবেশনে দায়িত্বশীল হতে বলেন। করোনা কর্মীদের মূল্যায়নে কোথাও গ্যাপ হয়ে থাকলে তিনি দু:খ প্রকাশ করেন।

কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগে সিকি শতাব্দীর কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে আমরা সরকারের নগণ্য করণিক। রাষ্ট্রের সংবিধান আমাকে নির্দেশ দেয় সকল সময়ে জনগণের সেবা করিবার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য। বাংলাদেশ সংবিধানঅনুচ্ছেদ ২১(২)। সেই দায়িত্ববোধ থেকে বেনাপোল কাস্টমস টীম নিয়ে করোনা দুর্যোগ প্রাদুর্ভাবের প্রথম থেকে লড়ছি।

আমরা নিজের তাগিদে কাজ করি। প্রয়োজনে করি। ভালোবেসে করি। দেশ ও দেশের মানুষকে। মূল্যায়ন বা পুরস্কার আশায় নয়। সম্প্রতি করোনা নিয়ে কাজের মূল্যায়ন প্রসঙ্গ এসেছে।

২৯ জানুয়ারির সচেতনতা সেমিনার ও ২০ ফেব্রুয়ারি কথিত করোনা রোগী আটক নিয়ে সময়ে এখন ইতিবাচক আলোচনা হচ্ছে। অনেক বিজ্ঞজনের সাথে উদার সংবাদসেবীরা এখন বলছেন, “আপনি যশোর বেনাপোলকে বাঁচিয়েছেন! কিছু মানুষ ও মিডিয়া তখন বুঝে বা না বুঝেই আপনাকে ভিলেন বানিয়েছিল! আসলে দেশব্যাপী কাজ করার ওটাই উপযুক্ত সময় ছিল।”

অথচ ২৯জানুয়ারি করোনা সেমিনার নিয়ে অনেক উপহাস হয়েছে। গণমাধ্যমের অনেকেই এ দলে ছিলেন। সেমিনারের সংবাদও গুরুত্ব পায়নি। বলেছেন, এত আগে তোড়জোড় কেন! এত প্রচারের দরকার কি! করোনা আমেরিকা ইউরোপের রোগ! আমাদের দেশে আসবে না! মুসলমানদের দেশে হবে না। তাচ্ছিল্যে বলেছেন, আমরা প্যানিক তৈরি করছি, ক্রেডিট নেয়ার জন্য সেমিনার করেছি, বেহুদা প্রচারে নেমেছি।

দেশের সীমান্তে আমাদের অবস্থান বলেই সতর্কতা জরুরী ছিল। যেখানে চেকপোস্ট দিয়ে দিনে দশ হাজার মানুষের গমনাগমন। ভাইরাসটির মারাত্মক সংক্রমণতা নিয়ে সেসময় কিছু পড়াশোনা করেছিলাম। টীম অক্লান্ত পরিশ্রমে মাত্র দুদিনে বৃহৎ সেমিনার আয়োজন করেছিল। জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য দপ্তরকে সম্মত করে। সরকারী বেসরকারী সংস্থার দুশো সদস্য করোনা-ধারণা নেন।

গত সপ্তাহে যশোর মনিরাম পুরে একজন স্বাস্থ্যকর্মীর করোনা ধরা পড়ে। আতংক ছড়িয়ে পড়েছে ৪১ কিলোমিটার দূরে এখানে বেনাপোলে। আমার লোকজন ছাড়াও বেশ ক’জন সংবাদকর্মী ফোনে উদ্বিগ্ন। যেন তাদের করোনা ধাওয়া করছে। আমি বাঁচার উপায় বলে দেই! কোন কোন সংবাদকর্মী পিপিই চাইলেন। হয়তো একরকম আস্থা থেকে।

মনিরাম পুরেরর আতংক বেনাপোলে কেন! মানুষ এখন ‘করোনা’ বোঝে। ভয়াবহতা জানে। আমাদের গণমাধ্যম এখানে সফল। কারণ ইতোমধ্যে তারাও করোনা ভয়াবহতা নিজেরা বুঝেছে। আড়াই মাস আগে বুঝলে ভালো হতো! জাতির জন্য অনেক ভালো।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি ভারত থেকে লিখিতভাবে পুশব্যাক করা করোনা রোগী বেনাপোল কাস্টম হাউস সতর্ক পদক্ষেপ নেয়। পরে তার করোনা প্রমাণিত হয়নি। আজকে যদি ভারত লিখিত দিয়ে একজন করোনা রোগী বেনাপোল সীমান্তে পাঠায়, আমরা কী করব! অবশ্যই সেদিনের চেয়ে বেশী সতর্কতা নেব। কিন্তু আমরা সংবাদমাধ্যমকে বোঝাতে ব্যর্থ হলাম।

স্থানীয় সাংবাদিকরা বেনাপোল ভালো চেনেন। ঝুঁকি কোথায় বুঝেছিলেন। তাঁরা বাস্তবতা তুলে ধরতে চাইলেন। স্থানীয়দের এড়িয়ে ঢাকার অতি উৎসাহীরা এগিয়ে গেলেন। যার কাজ সে না করলে যেমন হয়। কয়েকজন রিপোর্টারের মওকা পাওয়া আক্রমণ। আমাদের সতর্কতার ভুল ব্যাখ্যা করলেন। কার জন্য কেন কী করলাম!

সকল গণমাধ্যম বড় শিরোনামে গুজব ছড়ানোর অপবাদ দিলেন। অতি ধীমান কয়েকজন আসামীর কাঠগড়ায় দিলেন। চাকরিচ্যুতির সুপারিশও করলেন। বেনাপোলবাসীর সাথে দেশের মানুষও ভুল বার্তা পেল। সবাই ভেবে নিলেন, করোনা চীনে তৈরি, আমেরিকা ইউরোপের জন্য!

প্রথম আলো প্রিন্ট ও অনলাইনে আমাদের বিরুদ্ধে কয়েকটি রিপোর্ট করে। গুজব ছড়ানোর গুরুতর অভিযোগ। প্রতিবেদক আমার সাথে কথাও বলেননি। প্রথম সারির বা অনলাইন পোর্টালগুলোর কথা না বললাম। প্রথম আলো সম্পাদক বললেন, স্থানীয় প্রতিনিধির অর্বাচীনতা! স্থানীয় প্রতিনিধি বলেন, ঢাকা থেকে অতি উৎসাহে হয়েছে।

এক অনলাইনের নবীন প্রমীলা রিপোর্টার আক্রোশী যুদ্ধংদেহী! ডিইউজে, ডিআরইউ, ইআরএফ, পিআইবিসহ সংগঠনগুলোর কয়েকশো সদস্যকে চিনি। ‘জ’ আদ্যাক্ষরের এ মহীয়সীর নাম আগে শুনিনি। তার জিঘাংসু আক্রোশ কেন তাও বুঝিনি। আমি যেন যুদ্ধাপরাধী! কমিশনার পদে এমন নাদান তিনি দেখেননি। টেলিফোনে শিক্ষণীয় অশোভন শব্দাগার শেষ করে মনের মাধুরী মিশিয়ে লিখলেন। পরে শুনেছি দুরাচারের কারণে তিনি ওই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেয়ে কোয়ারেন্টাইনে গেছেন। গুজবের অভিযোগকারীরা আমাদের সম্পর্কে এখন মাননীয় মন্ত্রীর বক্তব্যও শুনছেন।

আমরা শিখেছি। অনেক হারিয়ে। শিখলাম যখন ছয় লক্ষাধিক বিদেশ ফেরত মানুষ ষোল কোটিতে মিশে গেল। ৮ মার্চের পরও লকডাউন, আইসোলেশন, কোয়ারেন্টাইন বুঝতে কয়েক সপ্তাহ লেগে গেল। যখন পরাক্রম যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ করোনা আক্রান্ত ও একদিনে ২০৩৫জন তিন দিনে পাঁচ হাজার মারা গেল। এখন আমাদেরকে herd immunity বুঝতে হচ্ছে।


আমাদের পাঠকদের আগে জানাতে পারলে লকডাউনে

– মানুষ ড্রামে করে লুকিয়ে পালাবার

– কুরিয়ারের গাড়ি ভেতরে করে যাবার

– গার্মেটস খুলে দিয়ে লক্ষ শ্রমিক রাস্তায় নামিয়ে দেয়ার

– মুফতি সাহেবও ভিন্ন তথ্য দিয়ে ডিএমসিতে ভর্তির

– ভারতে তাবলীগের জামাতে বাঙ্গালী মৃত্যুর

– প্রবাসীদের দুসপ্তাহ লুকিয়ে রাখার কিংবা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হাজার মানুষ মারামারি করার ভুল করতো না।

এখন হলে কি আমরা করতাম! ভারতের সনাক্ত করা সম্ভাব্য করোনা রোগী আমরা লুকাবো? চুড়ান্ত পরীক্ষায় তার করোনা ধরা পড়ুক বা না পডুক। করোনা নিয়ে আমরা ইতোমধ্যে দেশী বিদেশী সংবাদমাধ্যম থেকে অনেক কিছু জেনেছি। সীমান্তে ফেরত পাঠানো করোনা সন্ধিগ্ধ ব্যক্তিকে সাবধানে গ্রহণ ও তার কোয়ারেন্টাইন কিভাবে নিশ্চিত করা হবে, জেনে গেছি। পালানো ঠেকাতে পাহারা বসাতে হবে। যেমন বাগ এ জান্নাত কোয়ারেন্টাইন সেন্টার নাহবার জন্য মিডিয়া সব পুরো বেনাপোল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। সফলও হয়েছে।

সেদিনের ঘটনা সংক্ষেপে বলা দরকার। ২০ ফেব্রুয়ারি। ভারতীয় রেলের সিনিয়র গার্ড কৃষ্ণেন্দু বোস নিজে আসেন। পুশব্যাক করা একজন বাংলাদেশীকে করোনা রোগী বলে লিখিত দিয়ে কাস্টমসের হাতে তুলে দেন। তার সাম্প্রতিক অতীতে চীন ভ্রমণের বৃত্তান্ত ছিল। আমরা আরো সাবধানী হলাম। বেনাপোলের পনের হাজার মানুষের সংক্রমণ নিরাপত্তায় উদ্বিগ্ন ছিলাম। ইতোমধ্যে করোনার ভয়াবহ সংক্রমণতা নিয়ে কয়েকটা নিবন্ধ পড়েছিলাম।

আরো পড়ুন-কমিশনার নয় কোলকাতা রেলের টিটিই জহিরুলকে বলেছেন করোনা রোগী!

আমরা বেশি সতর্ক ছিলাম! নিজেদের স্বার্থেই। সেমিনার জ্ঞান ও এ নিয়ে পড়াশোনার কারণেও। বহি:দেশীয় সরকারী প্রতিনিধির সশরীরে লিখিত দেয়া, দেশের সরকারী বিভাগ উপেক্ষা করে না। আমরাও পারিনি। সীমান্তের দু’দেশের প্রথাগত শিষ্টাচারের ঐতিহ্যও বিবেচ্য। আমরা তাৎক্ষণিক ফেসবুকে যাত্রীর পরিচয়সহ পোস্ট দিয়ে সবাইকে সতর্ক করলাম। তখনো তিনি করোনা রোগী কিনা স্বাস্থ্যকর্মীরা নিশ্চিত ছিলেন না। যশোরে করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা ছিল না। মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীও একথা বলেছেন। তাঁরা ঢাকায় কথা বলে তিনি করোনামুক্ত লিখিত সনদ দেন। আমরা সেটি সবাইকে জানিয়ে দিয়ে পোস্ট দেয়ার এক ঘন্টারও কম সময়ে আগের পোস্ট মুছে নতুন পোস্ট দেই।

দেশের অন্যান্য রেলস্টেশনের মতো বেনাপোলও উন্মুক্ত। আশংকা ছিল, যদি তিনি পালিয়ে যান! যেমন এখন পালাচ্ছে। এনবিআর বিটের সিনিয়র সাংবাদিক Doulot Akter মালা সীমান্তে পালানোর শংকা নিয়ে কদিন আগে একটা রিপোর্ট করেছেন।

বিশ্বব্যাপী প্রথম করোনা কেস ধরা পড়ে ২০ ফেব্রুয়ারির আগের দিন পর্যন্ত: যুক্তরাষ্ট্রে ১ জানুয়ারী, ইতালি ৩১ জানুয়ারী, স্পেন ১ ফেব্রুয়ারী, যুক্তরাজ্য ৩১ জানুয়ারী, জার্মানি ২৭ জানুয়ারী, ফ্রান্স ২৪ জানুয়ারী ও ভারতে ৩০ জানুয়ারি।

করোনা দুর্যোগে বেনাপোল কাস্টমসের কার্যক্রম: জানুয়ারি

## ২০০ অংশীজন নিয়ে কাস্টমস ক্লাবে সচেতনতা সভা

## কাস্টম হাউসে মাস্ক ও হ্যান্ডগ্লভস বিতরণ

## বিভিন্ন গণমাধ্যমে করণীয় ও সেমিনার খবর প্রচার

## অভ্যন্তরীণ সচেতনতা ও প্রায়োগিক কার্যক্রম

## পরিচ্ছন্নতা ও নিবারক সামগ্রী সংগ্রহ কার্যক্রম অব্যাহত

ফেব্রুয়ারি:
## বেনাপোল রেলস্টেশনে ভারত ফেরত করোনা সন্দেহ যাত্রী নিয়ে সতকর্তা কার্যক্রম

## করোনার ভয়াবহতা নিয়ে সিএন্ডএফ নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা

## বেনাপোল কাস্টম হাউস ও কমিশনারের ফেসবুক পেইজে লাগাতার প্রচারণা

## ভাইভার গ্রুপে ২০০+ কর্মকর্তা কর্মচারীকে সচেতনতায় উদ্বুদ্ধকরণ

মার্চ:
## হ্যান্ড স্যানিটাইজার, গ্লভস ও মাস্ক সংগ্রহ কার্যক্রম চলমান

## চেকপোস্টে যাত্রীদের মধ্যে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক, টিস্যু বক্স বিতরণ

## চেকপোস্টে কাস্টমস, বন্দর, পুলিশ, কর্মকর্তাদের মধ্যেও বিতরণ

## কাস্টম হাউসের মূল গেইটে হাত ধোয়ার ব্যবস্থাকরণ

## কাস্টম হাউসের ভেতরে প্রবেশকারী প্রত্যেকের শরীরের তাপমাত্রা মাপার ব্যবস্থা

## সচেতনতার জন্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার

## করোনা সচেতনতায় দৃশ্যমান স্থানে পোস্টার লিফলেট স্থাপন

## সীমান্তে কার্গো শাখায় পানির লাইনসহ বেসিন স্থাপন

## সীমান্ত ড্রাইভার ও স্টাফদের হাত ধোয়া বাধ্যতামূলেককরণ

## কাস্টম হাউসের এন্ট্রি শাখায় সিএন্ডএফ কর্মচারীদের জন্য কল ও বেসিন স্থাপন

## কাস্টমস মূলগেট, শুল্কায়ন গ্রুপ ও কিপয়েন্টে হ্যান্ড স্যানিটাইজার সংরক্ষণ

## করোনা সচেতনতায় কমিশনারের উদ্যোগে বেনাপোলে বিভিন্ন স্থানে মাইকিং

## বিশেষ উদ্যোগে পৌর মেয়রের সহায়তায় কাস্টম হাউস চত্ত্বরে করোনা জীবানুনাশক ওষুধ স্প্রেকরণ

## মসজিদে কমিশনারের বিশেষ সচেতনতা বক্তব্য, আলোচনা ও দোয়া

## কমিশনারের উদ্যোগে এ দুর্যোগে দু:স্থ ও গরীব কর্মচারীদের জন্য তহবিল গঠন

## চেকপোস্টে প্রবেশেচ্ছু ভারতীয় ছাত্রদের খাবার বিতরণ

## সিএন্ডএফ নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে ভারতীয় ছাত্রদের মধ্যে মাস্ক বিতরণ

##ফুট, হ্যং ও লং ব্যানার দিয়ে প্রচারণা

## কাস্টম হাউস ও কমিশনারের ফেসবুক পেইজ অব্যাহত সচেতনতা কার্যক্রম

## দুস্থ সিপাই, মালি, বাবুর্চি, বলবয়, সেবক, সহায়কদের নগদ সহায়তা

## গ্রামে দৈনিক আয় নির্ভর ৬২টি পরিবারের মধ্যে নগদ অর্থ বিতরণ

## চেকপোস্ট ও কার্গোতে সরাসরি স্পর্শে সম্পৃক্ত কর্মকর্তাদের জন্য পিপিই সংগ্রহ

এপ্রিল:

## সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করে বেনাপোল বন্দরের কর্মহীন ১৫০ পরিবারে ‘ফুড ব্যাগ’ বিতরণ

## অসুস্থ ও রোগীর হাসপাতাল বিল সহায়তা

## বেনাপোল সংবাদকর্মীদের ত্রাণে সহায়তা

## বিশেষ জরিপের মাধ্যমে বাছাইকৃত ১৭০টি প্রকৃত দুস্থ পরিবারের বাড়িতে ফুড ব্যাগ পৌঁছে দেয়া

## কাস্টম হাউসের ফটকে সবার জন্য ইনফ্রারেড থার্মোমিটার বাধ্যতামূলক ও বহিরাগত প্রবেশ সীমিতকরণে রেজিষ্টার চালু

## মূল ফটকে ব্লিচিং পাউডার মেশানো পানির ট্রেতে জুতার তলা ভিজিয়ে ভেতরে প্রবেশ

আগেও বলেছি, করোনা বিশ্বময় ভয়াবহ হতে যাচ্ছে, বিশ্ব মিডিয়ার সাথে আমাদের মিডিয়াও জানতো। প্রথম থেকেই জাতির কাছে করোনার সম্ভাব্য ভয়াবহতা তুলে ধরতে পারত। মুক্ত মনে আমাদের ভুল শুধরানোর পথ দেখাতে পারতেন। সবাই মিলে ভালো কিছু করা যেত। যেমন এখন হচ্ছে।

মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীও বলেছেন, সরকারের একার পক্ষে মহামারী সামলানো সম্ভব নয়। মিডিয়াসহ সকলে দায়িত্বশীল হতে বলেছেন। আমাদের গণসচেতনতা সময়মতো হয়নি। একজন নিজে শুরু করলেও পাশের জনকে বোঝাতে পারেনি। আমাদের গণমাধ্যম সময়মতো মাঠে নামেনি।

দুএকজন প্রশিক্ষণহীন, মানহীন অনভিজ্ঞ সংবাদকর্মীর অপরিণাদর্শী লেখনির দায়ভারও সমগ্র গণমাধ্যমের নয়, আমরা জানি। কিছু ভুলের মাশুলও হয় না। এ অপরিণামদর্শিতায় মানুষ বার্তা পেল, এদেশে কখনো করোনা আসবে না। সাবধান হবার দরকার নেই। বেনাপোলের অনেকে তাদের দ্বারা দিক্ষিত হয়েছিল।

অনুযোগের জন্য নয়। আগামীতে আমাদের ও কলম সেনাপতিদের সঠিক অবস্থান খোঁজার জন্য আমার এ লেখা। মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীও সে কথাই বলেছেন। আজ করোনা রোগী নিয়ে করণীয় ও সতর্কতা আমরা জানি! সরকারী বেসরকারী ব্যক্তি, সংস্থা ও মিডিয়ার কর্মকান্ড স্পষ্ট! সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছেন। ডাক্তার, নার্স, পুলিশ, সেনাবাহিনী, প্রশাসন ও জরুরী সেবাদানকারীরা আজকের মুক্তিযাদ্ধা।

আমাদের গণমাধ্যম শক্তিশালী। কিছু ক্ষেত্রে গর্বেরও। যেমন সন্ত্রাস দমনে। মাদক প্রতিরোধে। তাদের মাধ্যমে পাঠকরা আজকে জানছে বলেই পরিবার থেকে খবর দিয়ে করোনা রোগীর পরীক্ষা করাচ্ছে। আজ পলায়েন ঠেকাতে, লকডাউন মানতে, গার্মেন্টস শ্রমিক বের না করতে, আইসোলেশন সচেতনতায় সবার সাথে গণমাধ্যমের সক্রিয় অংশগ্রহণ দৃশ্যমান।

আমরা পাঠক। পাঠকবান্ধব সত্য নির্ভর গণমাধ্যম পাঠকের প্রত্যাশা। মানসম্মত সংবাদকর্মী এর মুখ্য অনুষঙ্গ। ট্রিসিয়া হ্যারিসের সুরে বলতে হয় সংবাদ হবে সবার। উদার, সর্বগামী ও সবসময়ের। গণমানুষের কল্যাণের পথিকৃত। সংবাদে নিরপেক্ষতা ন্যায়ানুগতা থাকবে। ব্যক্তির চেয়ে সমাজ প্রাধান্য পাবে। সংবাদ মানুষের ভাবনা ও করণীয় বলবে। আলোর পথ দেখাবে। মানুষ নিজে ভুল করলেও সংবাদপত্রের কালো অক্ষরগুলোকে ভুলের উর্ধে দেখে। আদর্শ শিক্ষকের মতো। আদর্শিকের ভুল বার্তাও আদর্শ শক্তি নিয়েই যায়।

করোনার ভয়াবহতা অনুমান করা যায়নি। সময়ের আমরা সময়ের সাথে থাকতে পারনি। কোভিড-১৯ উন্নত পশ্চিমাদের ছাড় দেয়নি। পুরো পৃথিবীকে বুঝিয়েছে, সময় গেলে সাধন হয় না। দেরিতে হলেও না হবার চেয়ে ভালো। সামনে পনের দিন কঠিন সময়! যার যা আছে তা নিয়েই স্বাস্থ্যবিধি মানি। কষ্ট করে ঘরে থাকি।

মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সশ্রদ্ধ কৃতজ্ঞতা! তিনি আমাদেরকে মূল্যায়ন ও পুরস্কারের কথা বলেছেন। আপনার এ স্বীকৃতিই আমাদের প্রাপ্তি ও অনুপ্রেরণা। কত দিন পৃথিবীতে আছি জানি না! করোনা বাঁচার সব হিসেব বদলে দিয়েছে। সময় গড়িয়ে জীবন যেন আরো অনিশ্চিত! যতোক্ষন বেঁচে আছি যেন দেশ ও মানুষের কাজে আসি, দেশের সংবিধান সমুন্নত রাখতে পারি, এ দোয়া চাই।

মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী

কমিশনার, কাস্টম হাউস, বেনাপোল, যশোর

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..