দিনের খবর শেষ পাতা

করোনা চিকিৎসায় ব্যবহৃত রেমডিসিভির ইনজেকশন বিক্রি হচ্ছে অর্ধেক দামে!

আয়নাল হোসেন: করোনাভাইরাসের শুরুর দিকে এ রোগের চিকিৎসার জন্য ব্যবস্থাপত্রে রেমডিসিভির (জেনেরিক) ইনজেকশন লিখতেন চিকিৎসকরা। তাই আমদানির পাশাপাশি দেশের কয়েকটি ওষুধ কোম্পানি এ ইনজেকশনটি তৈরি শুরু করে। তবে চাহিদা কমে যাওয়ায় ইনজেকশনটি এখন অর্ধেক দামে বিক্রি হচ্ছে বাজারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রেমডিসিভির ইনজেকশনের ব্যবহার ছিল খুবই কম। করোনাভাইরাস আসার পর আমেরিকার গিলিয়ার্ড কোম্পানি চীনে রেমডিসিভির ইনজেকশনের ক্লিনিক্যাল টায়াল শুরু করে। এতে করোনার রোগীর জন্য ওষুধটি কার্যকর হওয়ায় চীন তাদের দেশে এটি তৈরির অনুরোধ করেছিল। কিন্তু গিলিয়ার্ড কোম্পানি তাতে রাজি হয়নি। পরে চীন নিজেরাই রেমডিসিভির ইনজেকশন তৈরি ও এর কাঁচামাল উৎপাদন শুরু করে। এ কারণে বাজারে ইনজেকশনটির মূল্য কমে আসছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

বর্তমানে দেশে রেমডিসিভির ইনজেকশন তৈরি করছে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস, যার নাম দেয়া হয়েছে নিনাভির। করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে গত বছর ইনজেকশনটির সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ছিল পাঁচ হাজার ৫০০ টাকা। বর্তমানে এটি আড়াই হাজার থেকে দুই হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পপুলার ফার্মার উৎপাদিত রেমডিসিভির নামের ইনজেকশনটির সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ছিল চার হাজার ৫০০ টাকা। বর্তমানে তা আড়াই হাজারে বিক্রি হচ্ছে। বীকন ফার্মাসিউটিক্যালসের তৈরি প্যানডোভির নামের ইনজেকশনটির সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ছিল চার হাজার ৫০০ টাকা। বর্তমানে তা আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকার মেসার্স এমএস মেডিকেল হলের বিক্রয় প্রতিনিধি আরিফুর রহমান জানান, রেমডিসিভির ইনজেকশনের চাহিদা বাজারে নেই। এজন্য তাদের কাছে যেসব ইনজেকশন মজুত ছিল তা কোম্পানিকে ফেরত দেয়া হয়েছে। আগে চিকিৎসকরা রোগীর ব্যবস্থাপত্রে লিখতেন। কিন্তু এখন আর লিখছেন না। এ কারণে মেয়াদ থাকার আগেই কোম্পানিকে ওষুধ ফেরত দেয়া হয়।

রাজধানীর বাবুবাজারের একমাত্র মডেল ফার্মেসি আলিফ-লাম মিম ফার্মার প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, যেসব রেমডিসিভির পাঁচ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, বর্তমানে তা তিন হাজার টাকায় নেমে এসেছে। বাজারে চাহিদা কমায় এসব ইনজেকশন এখন আর বিক্রি হচ্ছে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আ ব ম ফারুক বলেন, রেমডিসিভির ইনজেকশনটি আগে এন্টি-ভাইরাল হিসেবে ব্যবহƒত হয়ে আসছিল। কিন্তু এটির ব্যবহার তেমন ছিল না। কিন্তু করোনাভাইরাস আসার পর ওষুধটির ব্যবহার বেড়ে যায়। এজন্য দেশের কয়েকটি কোম্পানি ইনজেকশনটি তৈরি শুরু করে। কাঁচামাল সহজলভ্যতার কারণে দাম কমতে পারে।

জানতে চাইলে বীকন ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপক (বিপণন) ফয়সাল আহমেদ বলেন, করোনাভাইরাসের জন্য ব্যবহƒত সব ধরনের ওষুধের মূল্য সরকারের পক্ষ থেকে কমাতে নির্দেশ দেয়া হয়। ওই নির্দেশনা পেয়ে তারা রেমডিসিভির ইনজেকশনের মূল্য কমিয়ে বিক্রি করছেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..