আজকের পত্রিকা দিনের খবর পুঁজিবাজার প্রথম পাতা

করোনা ছোবলে বিবর্ণ বিনিয়োগকারীর ঈদ

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসের কবলে পড়ে স্থবির হয়ে পড়েছে সারা পৃথিবী। বর্তমানে বিশ্বের ২১৪টি দেশ এই ভাইরাস মোকাবেলা করতে হিমশিম খাচ্ছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। গত ২৬ মার্চ থেকে দেশের অন্যান্য সেক্টরের মতো বন্ধ রয়েছে পুঁজিবাজার।

যার প্রভাব পড়ছে এই বাজারের সঙ্গে জড়িত  লাখ লাখ বিনিয়োগকারীদের যাপিত জীবনে। করোনার প্রভাবে এবার অধিকাংশ বিনিয়োগকারীই কাছে ঈদ আনন্দ বিবর্ণ হয়ে পড়েছে।বর্তমানে পুঁজিবাজারে প্রায় ২৬ লাখ বিওধারী রয়েছে। যার মধ্যে অধিকাংশ বিনিয়োগকারীরই শেয়ার ব্যবসা ছাড়া আর কোনো আয়ের উৎস নেই।

সেই জন্য তাদের  সব সময়ই পুঁজিবাজারের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। কারণ  এই আয় দিয়েই তারা সংসার চালান। কিন্তু সম্প্রতি করোনাভাইরাসের ছোবলে পড়ে বন্ধ হয়ে গেছে পুঁজিবাজার। যার জের ধরে বন্ধ হয়ে গেছে বিনিয়োগকারীদের আয়ের পথও।  ফলে ঈদ তাদের জন্য বিবর্ণ হয়ে আসছে।

সবকিছু মিলে একটা বৈরি সময় অতিবাহিত করছেন তারা।এ বিষয়ে জানতে চাইলে মো. জাহিদুল ইসলাম নামে এক বিনিয়োগকারী শেয়ার বিজকে বলেন, সরকারি চাকুরি থেকে অবসর গ্রহণের পর পেনশনের প্রায় সব টাকাই পুঁজিবাজারে নিয়ে আসি। বর্তমানে আমার আর কোন আয় নেই।

পুঁজিবাজার থেকে শেয়ার ক্রয়-বিক্রি করে যে অর্থ পাই তা দিয়ে সংসারটা চালিয়ে নিতে হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন লেনদেন বন্ধ থাকায় সেই পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে চলে এসেছে ঈদ। অর্থ না থাকায় এবারের  ঈদ অন্যবারের মতো হবে না। খুব খারাপ লাগছে কিন্তু কিছু করারও নেই।

এইসব বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলাপ করলে তারা বলেন, আমরা ভেবেছিলাম লেনদেন শুরু না হলেও আমাদের বিও অ্যাকাউন্টে থাকা নগদ অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেয়া হবে। আমাদের দাবীও তাই ছিল। এই সুযোগ পেলে আমরা উপকৃত হতাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা করা হয়নি। ফলে নিজের নগদ অর্থ অ্যাকাউন্টে অলস পড়ে থাকার পরও ঈদটা সেইভাবে পালন করতে পারছি না।

আমাদের খারাপ সময়ের কথা বিবেচনা করে এই সুযোগ দেয়া উচিত ছিল।এ প্রসঙ্গে নয়ন মিয়া নামে এক বিনিয়োগকারী শেয়ার বিজকে বলেন, নগদ অর্থ উত্তোলনের সুযোগ চেয়ে আমি ব্রোকারেজ হাউজে কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। তাদেরও এই সুযোগ দেয়ার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু সবকিছু বন্ধ থাকায় সেটা আর সম্ভব হয়নি, যার প্রভাব পড়বে আমাদের ঈদ উদযাপনে। 

তিনি বলেন, এবারের ঈদের মতো সাদামাঠা ঈদ জীবনে কখনো উদযাপন করিনি।অন্যদিকে বিষয়টি জানতে যোগাযোগ করা হলে বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এ কথা সত্যি  যে, এবারের ঈদ বিনিয়োগকারীদের জন্য খুব কষ্টের হবে।

আমার জানামতে অনেক বিনিযোগকারী খুব  নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন। এমনিতেই সংসার চালাতে হিমশিশ খাচ্ছেন তারা। এদিকে ঈদ দুয়ারে কড়া নাড়ছে। পুঁজিবাজারসহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতি খারাপ থাকায় তাদের এবারের ঈদটা অন্য ঈদের মতো হবে না। করোনার ছোবলে তাদের ঈদ আনন্দ মাটি হয়ে গেছে। এবার তাদের উদযাপন করতে হবে বিবর্ন এক ঈদ।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..