আজকের পত্রিকা দিনের খবর পুঁজিবাজার শেষ পাতা সর্বশেষ সংবাদ

করোনা ধাক্কা লাগবে সিংহভাগ কোম্পানিতে

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: বর্তমানে করোনাভাইরাসে ধরাশায়ি বিশ্বের ২১৪টি দেশ। প্রাণঘাতি এ ভাইরাসের কবলে পড়ে থমকে গেছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো করোনার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। কারণ ভাইরাসটির কবলে পড়ে দীর্ঘদিন থেকে এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় বন্ধ রয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিংহভাগ প্রতিষ্ঠান। ফলে বছর শেষে এসব প্রতিষ্ঠানের আয় মুনাফায় বড় ধরনের ধাক্কা লাগবে বলে মনে করছেন কোম্পানি কর্তৃপক্ষ এবং বাজার সংশ্লিষ্ট সকলেই।

## ‘জেড’ ক্যাটেগরির কোম্পানির সংখ্যা বাড়বে

বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ১৯ খাতের তিনশতাধিক কোম্পানির মধ্যে ওষুধ ও রসায়ন, সিমেন্ট ও স্টিল ছাড়া দীর্ঘদিন থেকে অন্যসব প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনসহ সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। যদিও বর্তমানে চালু হয়েছে বন্ত্র খাতের কিছু প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম।

এদিকে দীর্ঘদিন থেকে এসব কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ থাকার কারণে কোম্পানিগুলো বড় ধরনের সংকটে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সকলে। তারা জানান, তিন-চার মাস একটি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বন্ধ থাকা মানে মালিকের বড় ধরনের লোকসান।

কারণ আয় কমে গেলেও তাদের শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বেতন দিতে হচ্ছে। পাশাপাশি মেটাতে হচ্ছে অফিস ভাড়াসহ অন্যান্য খরচ। ফলে তাদের অর্থনৈতিকভাবে বড় ধরনের ধাক্কা খেতে হবে।

অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়-মুনাফা কমে গেলে তাদের লভ্যাংশ প্রদানের হারও কমে আসবে। সে ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এমনটি ভাবছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

জানতে চাইলে এক বছর আগে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, করোনা পরিস্থিতির মোকাবেলায় লড়ছে বিশ্বের সকল মানুষ এবং প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশও এর বিপরীত না। এতে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ রয়েছে।

ফলে বছর শেষে কোম্পানিগুলোর গায়ে এর আচড় লাগবে। তিনি বলেন, প্রায় তিন মাস ধরে আমাদের প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রয়েছে। এই সময়ে আমদের আগের যে উৎপাদিত পন্য রয়েছে তাও বিক্রি হয়নি। ফলে ইতিমধ্যে আমরা লোকসানে পড়ে গেছি। কিছু করার নেই আমাদের। ইচ্ছে থাকলেও আমরা বিনিয়োগকারীদের জন্য কিছু করতে পারব না।

অন্যদিকে করোনার কারণে আগামীতে পুঁজিবাজারে ‘জেড’ ক্যাটেগরির কোম্পানির সংখ্যা বাড়বে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে। দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকার কারণে অনেক কোম্পানির আর্থিক অবস্থা এমনিতেই নাজুক হবে। এতে অনেকেই এটাকে (করোনা) পুঁজি করে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দেয়া থেকে বিরত থাকবেন। ফলে অনেক কোম্পানিই ‘জেডে’ নেমে যাবে।

বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন. করোনার কারণে কোম্পানিগুলো বন্ধ রয়েছে। সে কারণে ব্যবসায় এর প্রভাব পড়বে এটা খুবই স্বাভাবিক। তবে কোম্পানি কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ থাকবে তারা যেন এই ভাইরাসকে ইস্যু করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের না ঠকান। সাধ্যনুয়ায়ী তারা যেন বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দেন। কারণ তারাও দীর্ঘদিন থেকে লোকসান গুনে আসছে।

একই বিষয়ে আলাপ করলে ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, যখন যে পরিস্থিতি আসবে তার সঙ্গে সবাইকে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। বর্তমানে সারা বিশ্বে যে পরিস্থিতি চলছে তাতে সবখানেই করোনাভাইরাসের ধাক্কা লাগবে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এরই মধ্যে করোনার প্রভাব শুরু হয়েছে। তাই আমাদের এর ধাক্কা লাগবে না এটা বলা যাচ্ছে না।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..