সুস্বাস্থ্য

করোনা ভাইরাস সচেতন হোন, সচেতন করুন

একটি ভাইরাস উদ্বিগ্ন করে তুলেছে বিশ্ববাসীকে। বুঝতেই পারছেন, এটি করোনা ভাইরাস। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থাও এ সম্পর্কে সব দেশকে সতর্ক করেছে। জেনে নিতে পারেন জনস্বাস্থ্যবিষয়ক এ ভাইরাসের নানা দিক:

কী এই করোনা ভাইরাস

করোনা ভাইরাস এমন একটি সংক্রামক ভাইরাস, যা এর আগে কখনও মানুষের মধ্যে ছড়ায়নি। ভাইরাসটির আরেক নাম ২০১৯-এনসিওভি। এ ভাইরাসের অনেক প্রজাতি রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র সাতটি মানুষের দেহে সংক্রমিত হতে পারে। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ভাইরাসটি মানুষের দেহে কোষের ভেতরে এরই মধ্যে মিউটেট করছে, অর্থাৎ গঠন পরিবর্তন করে নতুন রূপ নিচ্ছে এবং সংখ্যা বাড়াছে। ফলে এটি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।

এলো কোথা থেকে

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ধারণা, ভাইরাসটির উৎস কোনো প্রাণী। মানুষের আক্রান্ত হওয়ার প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরের সামুদ্রিক মাছের পাইকারি বাজারে। মাছের আড়ালে এখানে মূলত নিষিদ্ধঘোষিত বন্য প্রাণীর রমরমা ব্যবসা রয়েছে। এ নতুন ভাইরাসটি ভাইরাল নিউমোনিয়াকে মহামারির দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কেমন লক্ষণ দেখা যায়

জ্বর, কাশি ও শ্বাস-প্রশ্বাসের কষ্ট মূলত প্রধান লক্ষণ। এ ভাইরাস মানুষের ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায় এবং শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে ছড়ায়। সাধারণ ফ্লু বা ঠাণ্ডা লাগার মতোই এ ভাইরাস ছড়ায় হাঁচি-কাশির মাধ্যমে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভাইরাসটি দেহে প্রবেশের পর সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিতে প্রায় পাঁচ দিন লাগে। প্রথম লক্ষণ হলো জ্বর, এরপর শুকনো কাশি। এক সপ্তাহের মধ্যে দেখা দেয় শ্বাসকষ্ট।

কতটা বিপজ্জনক

এ ভাইরাস কতটা বিপজ্জনক বিশ্ববাসীর কাছে তা এখনও গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন। এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত দুই শতাংশ মারা গেছে। মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে। তাছাড়া এ ভাইরাসের কারণেই যে মৃত্যু হয়েছে, তা চিহ্নিত করা যায়নি। তাই এ ভাইরাস কতটা ভয়ংকর বিজ্ঞানীরা তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি।

কত দ্রুত ছড়ায়

এ ভাইরাসটি অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন যে, ভাইরাসটি এক মানুষের দেহ থেকে আরেক মানুষের দেহে ছড়াতে সময় লাগে না। দ্রুত ছড়ায় বলে কয়েক দিনের মধ্যেই চীনের অন্যান্য শহর ও দেশটির বাইরে ভাইরাসটি এখন থাইল্যান্ড, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। কোনো উৎসব উপলক্ষে যখন লাখ লাখ মানুষ বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ করবে, তখন এ ভাইরাসে অসংখ্য মানুষ আক্রান্ত হতে পারে।

এর কোনো চিকিৎসা আছে কি

যেহেতু এ ভাইরাসটি নতুন, তাই এর কোনো টিকা বা ভ্যাকসিন এখনও আবিষ্কার হয়নি। কিংবা এমন কোনো চিকিৎসা নেই যা এ রোগকে ঠেকাতে পারে। এর কবল থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে, যারা এরই মধ্যে আক্রান্ত হয়েছে বা জীবাণু বহন করছে, তাদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা। তাছাড়া চিকিৎসকরা বারবার হাত ধোয়ার পরামর্শ দিয়েছে। হাত দিয়ে নাক-মুখ স্পর্শ না করতে বলেছেন। ঘরের বাইরে গেলে মাস্ক পরার কথা বলেছেন। এর আগে সোয়ান ফ্লু বা ইবোলার ক্ষেত্রে যেমনটা হয়েছিল, তেমনি এ করোনা ভাইরাস সংক্রমণের জন্য আন্তর্জাতিক জরুরি সতর্কতা জারি করা হবে কি না, সে বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সিদ্ধান্ত এখন জানা যায়নি।

বাংলাদেশে বিশেষ সতর্কতা

করোনা ভাইরাস যাতে নতুন করে ছড়াতে না পারে, সেজন্য চীনসহ বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরে যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেওয়া হয়েছে বিশেষ সতর্কতা। তবে বাংলাদেশে এখনও এ ভাইরাসে কারও আক্রান্ত হওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। কিন্তু ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরের হেলথ ডেস্কে এসব কর্মীকে পাঠানো হচ্ছে।

চীন থেকে আসা সব যাত্রীকে স্ক্যানিং করা হচ্ছে। এছাড়া বিমানবন্দরের কর্মীদের বিশেষভাবে সচেতন করছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। আইইডিসিআর চারটি হট লাইনও খুলেছে। বিমানবন্দরে যে এলইডি মঞ্চ রয়েছে, সেখানে রোগীর লক্ষণগুলো জানানো হচ্ছে। কারও এ লক্ষণ থাকলে হেলথ ডেস্কে যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..