বিশ্ব সংবাদ

করোনা মোকাবিলায় সফল হলেও মন্দায় নিউজিল্যান্ডের অর্থনীতি

শেয়ার বিজ ডেস্ক: করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় অন্যতম সফল দেশ হলেও অর্থনৈতিক মন্দা কাটাতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। জুন প্রান্তিকে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) রেকর্ড ১২ দশমিক দুই শতাংশ কমেছে। এতে ১১ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে মন্দায় পড়েছে নিউজিল্যান্ড। মূলত করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে নেওয়া লকডাউন কর্মসূচি ও সীমান্ত বন্ধের সিদ্ধান্তের কারণেই অর্থনীতি এতটা সংকুচিত হয়েছে। খবর: বিবিসি।

সাধারণত পরপর দুই প্রান্তিকে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হলে অর্থনীতি মন্দায় পড়েছে বলে বলা হয়। নিউজিল্যান্ডের অর্থনীতিও পরপর দুই প্রান্তিকে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি দেখল। অবশ্য এ বিষয়ে আগে থেকে আশঙ্কা করছিলেন অর্থনীতিবিদেরা। তারা জিডিপি ১১ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত কমবে এমন পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। এ ছাড়া দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, চলতি বছরে অর্থনীতি ২৩ দশমিক পাঁচ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে।

করোনার কারণে বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রায় বেশির ভাগ অর্থনীতিই সংকুচিত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি সাত শতাংশ, কানাডার সাত দশমিক ৯ শতাংশ, যুক্তরাজ্যের ২০ দশমিক চার শতাংশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ৯ দশমিক এক শতাংশ সংকুচিত হয়েছে।

করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে গত ১৯ মার্চ সীমান্ত বন্ধ করে নিউজিল্যান্ড। জুন প্রান্তিকের পুরোটা সময়ই সীমান্ত বন্ধ ছিল। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে খুচরা বিক্রি, রেস্টুরেন্ট ব্যবসা ও পরিবহন খাত। দেশে দেশে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ বাতিল হওয়ায় সবচেয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এ খাতগুলোয়। তবে দেশটির খাদ্য, পানীয় ও শিল্প খাতে উৎপাদন তেমন কমেনি।

১১ বছর পর এই প্রথম দেশটি এমন মন্দার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে নিউজিল্যান্ড সরকার আশা প্রকাশ করেছে, তারা খুব দ্রুত এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে। দেশটির পরবর্তী নির্বাচনে অর্থনীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে দাঁড়াতে পারে। গত আগস্টেই এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে প্রথম থেকেই সব দেশের কাছে আদর্শ হয়ে উঠেছিল নিউজিল্যান্ড। প্রায় ১০২ দিন দেশটিতে নতুন করে কোনো সংক্রমণ ধরা পড়েনি, কিন্তু এর পরই দেশটিতে নতুন করে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের পরিসংখ্যান বলছে, নিউজিল্যান্ডে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৮০৯ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ২৫ জন। এছাড়া এরই মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছে এক হাজার ৭০৭ জন। দেশটিতে বর্তমানে করোনার অ্যাকটিভ কেস ৭৭টি এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে চারজন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..