সম্পাদকীয়

করোনা রোধে সুপরিকল্পিত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নিন

চীনের উহান থেকে ছড়ানো করোনাভাইরাস এখন গোটা বিশ্বের জন্য আতঙ্কের বিষয়। ইতালি, স্পেন, ইরানসহ কয়েকটি দেশ রীতিমতো অসহায় হয়ে পড়েছে ভাইরাসটি মোকাবিলায়। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস শুরুতে বিস্তার না করলেও চলতি মাসে এসে রোগী গনাক্ত হতে থাকে। গতকাল পর্যন্ত ৩৩ জন আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি তিনজন মারা যাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে সরকার। করোনা মোকাবিলায় এখনও আমাদের বেশ সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিষয়গুলো আমলে নিয়ে সরকারের উচিত দ্রুত সমন্বিত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

‘এপ্রিলের শুরুতে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে করোনা: সাঈদ খোকন’ শিরোনামে গতকালের শেয়ার বিজে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। খবরটিতে বলা হয়, এপ্রিলের শুরুতে করোনাভাইরাসে দেশের পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) মেয়রের। প্রবাসীদের দেশে এসে অবাধ বিচরণের সুযোগ দেওয়া মারাত্মক ভুল ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি সিটি করপোরেশন এলাকার করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় গঠিত কমিটি রিভিউ করে শক্তিশালী কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন তিনি। একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধির এমন বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ এবং তা আমলে নেওয়া জরুরি বলে মনে করি।

তিন মাস আগে চীনের উহানে করোনাভাইরাসের বিস্তার শুরু হলে বিভিন্ন দেশ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করে। তারপরও ইউরোপে ভাইরাসটি ভয়াবহ আকারে সংক্রমিত হয়। বাংলাদেশও প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট সময় পেয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতায় প্রস্তুতিতে বড় ঘাটতি রয়ে গেছে বলে মত অনেকের। বিশেষ করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রীর সংস্থান না করা এবং প্রবাসীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কথা আসছে বেশি করে। উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হলো, দেশে আক্রান্তদের মধ্যে সিংহভাগই প্রবাসী এবং তাদের স্বজন। সে হিসেবে শুরুতেই তাদের নিয়ন্ত্রণ করা গেলে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে রাখা যেত বলে মত অনেকের। অবশ্য গত দু-তিন দিনে দেরিতে হলেও সেনা মোতায়েনসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি চিকিৎসাসামগ্রীসহ অন্যান্য সীমাবদ্ধতা সম্ভব হলে আজকের মধ্যেই সমাধানের চেষ্টা করতে হবে।

খবরেই উল্লেখ করা হয়েছে, ডিএনসিসি মেয়র করোনা-আক্রান্তদের তথ্য সংগ্রহ ও তাদের নজরদারিতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা রাখার কথা বলেছেন। পাশাপাশি সাধারণ রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত এবং তারা যেন করোনায় আক্রান্ত না হন, সেজন্য হাসপাতাল পরিচালকদের সঙ্গে বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রতিনিধিদের বসার কথা বলেছেন। জনপ্রতিনিধির জায়গা থেকে এ ধরনের উপলব্ধি গুরুত্বপূর্ণ। করোনা মোকাবিলায় গতকালই বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এখন চিকিৎসাসামগ্রীর সংস্থান, করোনা পরীক্ষা, নি¤œ আয়ের মানুষের কথা চিন্তা করে সব পদক্ষেপ দ্রুত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা জরুরি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..