সম্পাদকীয়

করোনা সংকটে বাড়ি ভাড়া মওকুফের উদ্যোগ নিন

বিশ্বব্যাপী ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের ধাক্কা এসে পড়েছে বাংলাদেশেও। ইতোমধ্যে ৩৯ জন এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন, মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের। এ পরিস্থিতিতে দেশের সব ধরনের কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে। বিশেষত নিম্ন আয়ের মানুষ রয়েছেন মহা ভোগান্তিতে। লাখ লাখ মানুষ রয়েছেন চাকরি হারানোর ভয়ে। ফলে তাদের মধ্যেই দুশ্চিন্তা ক্রমেই দানা বাঁধছে। কারণ এ-শ্রেণির মানুষগুলো প্রতি মাসে নির্ধারিত পরিমাণে বেতন পান। সে অর্থ দিয়ে হিসাব করে চলে জীবিকা, বাড়ি ভাড়াসহ সবকিছু। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের বেতনসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা বন্ধ হওয়ার উপক্রম। ফলে তাদের ভোগান্তি কমাতে বাড়িভাড়া মওকুফসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

‘করোনার প্রভাব: বাড়ি ভাড়া নিয়ে বিপাকে রাজধানীর ভাড়াটিয়ারা’ শিরোনামে গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, বিশ্বব্যাপী মহামারি আকার ধারণ করা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী বাংলাদেশেও শনাক্ত হওয়ার পর সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। ইতোমধ্যে বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানও ছুটি ঘোষণা করেছে, স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য, জনজীবন ও অর্থনীতি। এতে ঢাকায় বসবাসকারী ভাড়াটিয়াদের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। কারণ অর্থনীতির সচল না থাকলেও মাস শেষে ভাড়া পরিশোধ করতেই হবে। বিষয়টি উদ্বেগজনক বটে। করোনাভাইরাসের কারণে ইতিমধ্যে ব্যাংক ও এনজিও ঋণের কিস্তি আদায় শিথিল করাসহ বেশ কিছু ঘোষণা এসেছে সরকারিভাবে। এখন নি¤œ আয়ের মানুষ ও চাকরিজীবীদের কথা বিবেচনা করে বাড়ি ভাড়া সাময়িকভাবে মওকুফ করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বৈকি।

শুধু ঢাকা শহরই নয়, দেশের ছোট-বড় সব শহরেই লাখ লাখ মানুষ বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন। তাদের অধিকাংশই সীমিত আয় দিয়ে সংসার চালিয়ে নেন। কিন্তু কোনো মাসে আয়ে টান পড়লে তাদের জন্য জীবিকা নির্বাহ ও বাড়ি পরিশোধের মতো বিষয়গুলো কঠিন হয়ে যায়। এ অবস্থাতেও অনেক বাড়িওয়ালা বাড়ি ভাড়া আদায়ে অমানবিক আচরণ করারও অভিযোগ রয়েছে, যা ওই ব্যক্তিকেও বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দেয়। অবশ্য কিছু বাড়িওয়ালাকে ব্যতিক্রম আচরণ করতেও দেখা গেছে। করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরুর পর রাজধানীর বেশকিছু বাড়িওয়ালা ভাড়া সাময়িকভাবে মওকুফ করার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে শুধু দু’একজন নয়, এমন জরুরি পরিস্থিতিতে সব বাড়িওয়ালাকেই এগিয়ে আসতে হবে।

খবরেই উল্লেখ করা হয়েছে, সাধারণত মাসের প্রথম ১০ দিনের মধ্যে বাড়িভাড়া আদায় করেন মালিকরা। সে হিসেবে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি আছে পরবর্তী ভাড়া আদায়ের। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে ইতোমধ্যে অনেকের বেতন আটকে গেছে। এরই মধ্যে সঠিক সময়ে ভাড়া দিতে না পারায় অনেককে বাড়ি ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি চাকরিজীবী ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। এ অবস্থায় বিপুলসংখ্যক মানুষকে সম্ভাব্য ভোগান্তি থেকে পরিত্রাণ দিতে দ্রুত উদ্যোগী হতে হবে সরকারকে। ঢাকাসহ সারা দেশে বাড়ি ভাড়া সাময়িক মওকুফ করাসহ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে ব্যাপারে জরুরি নির্দেশ আসা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..