Print Date & Time : 3 June 2020 Wednesday 9:31 pm

করোনা সচেতনতায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

প্রকাশ: মার্চ ২৪, ২০২০ সময়- ১১:০০ পিএম

মাইদুল ইসলাম প্রধান: ভাইরাস জীব না জড়পদার্থ, অথবা উভয়ই পদার্থ কি না তা নিরূপণ করা কঠিন। কেননা কখনও জীব, আবার কখনও জড়পদার্থ হিসেবে বিজ্ঞানীরা এদের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন। জীবের সংস্পর্শে এলে এরা জীব, আবার জড়পদার্থের কাছে এরা জড়পদার্থ হিসেবে গণ্য হয়। এদিক থেকে বিবেচনা করলে এরা আবার উভয়ই পদার্থ বটে। করোনাভাইরাস আসলে একটি ভাইরাসের গোত্র বা পরিবারের নাম। এই পরিবারের মধ্যে ছয়টি ভাইরাস আগে থেকেই রয়েছে এবং নতুন করোনাভাইরাস অর্থাৎ কোভিড-১৯-সহ করোনাভাইরাস পরিবারের মোট সদস্যসংখ্যা এখন সাত, যাদের মধ্যে চারটি ভাইরাসের লক্ষণ সাধারণ সর্দি-কাশির মতোই। তবে মার্স ও সার্স সবচেয়ে প্রাণঘাতী ছিল।

নতুন করোনাভাইরাস দিয়ে সৃষ্ট রোগের নামকরণ করা হয়েছে কোভিড-১৯। সর্বপ্রথম ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি চীনের উহানে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এখন পর্যন্ত মার্স ও সার্সের মতো প্রাণঘাতী নয়। করোনাভাইরাস মানুষের শুধু ফুসফুসে আঘাত হানতে পারে এবং ফুসফুস বিকলাঙ্গ করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। করোনাভাইরাস মানুষের ফুসফুসে প্রবেশ করে নাক, কান, চোখ ও মুখ দিয়ে। প্রবেশের সময় খাদ্যনালিতে না গিয়ে শ্বাসনালি হয়ে ফুসফুসে অতি সহজে যায়। খাদ্যনালি ভেজা বলে এটি শ্বাসনালি বেছে নেয়।

অন্যান্য ভাইরাস-জ্বরের মতোই কোভিড-১৯-এর শুরুর দিকের লক্ষণগুলো হলো জ্বর, ক্লান্তি ভাব ও শুষ্ক কাশি। এছাড়া শরীরব্যথা, নাক বন্ধ থাকা, নাক দিয়ে পানি পড়া, গলাব্যথা ও পাতলা পায়খানাও থাকতে পারে। সময়ের সঙ্গে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে তীব্রতা বাড়ে এবং মৃদু থেকে তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা যায়। আবার কারও কারও ক্ষেত্রে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পরও কোনো রকম লক্ষণ প্রকাশ পায় না, বা মৃদু লক্ষণ থাকতে পারে।

করোনাভাইরাস আর সাধারণ ফ্লু বা সাধারণ সর্দি-কাশির উপসর্গগুলোর মধ্যে বেশ কিছু মিল রয়েছে। কোভিড-১৯-এর প্রধান উপসর্গ জ্বর ও কাশি। তবে ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লু হলে গলাব্যথার মতো উপসর্গও থাকে। আবার নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত অনেকের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট থাকতে পারে, যা ফ্লুতে দেখা যায় না। ফলে পরীক্ষা না করে কোভিড-১৯ আছে কি না, তা বোঝা মুশকিল।

করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯-আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত কণার মধ্যে এই ভাইরাসটি থাকে। আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি-কাশি দিলে তিন ফুটের মধ্যে কেউ থাকলে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে। বাতাসে এই ভাইরাসটি ছড়ায় না, বরং শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত কণার মাধ্যমে ছড়ায়। কণাটি ভারী হওয়ায় এটি বাতাসে ভেসে বেড়াতে পারে না, তাই এটি মাটি, মেঝে বা অন্য কোনো বস্তুর ওপর পড়ে। সেখান থেকে স্পর্শের মাধ্যমে অন্য কারও করোনা-সংক্রমণ হতে পারে।

করোনাভাইরাস-সংক্রমণ যে কারও হতে পারে। তবে ইমিউনিটি সিস্টেম যাদের দুর্বল বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যাদের কম, যেমনÑডায়াবেটিস, কিডনি সমস্যা, হƒদরোগ, অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছেন যারা, বিশেষ করে বৃদ্ধরা সাধারণত মারাত্মকভাবে করোনাভাইরাস-সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকেন। ধূমপায়ী পুরুষদের মধ্যে এই ভাইরাসের মারাত্মক প্রভাব লক্ষ করা গেছে। ধূমপানের ফলে শ্বাসনালি ও ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কিছুটা কম থাকে বলে এরা শ্বাসনালি ও ফুসফুসকে আক্রমণ করে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া স্বাস্থ্যসেবাদানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের করোনা-সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশি।

যেকোনো বয়সের মানুষই এ ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। শিশুদের শরীরে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ সাধারণত কমই হয়ে থাকে। আক্রান্ত বাবা-মা বা পরিবারের কেউ আক্রান্ত হলে এবং বারবার তাদের সংস্পর্শে এলে শিশুদের ঝুঁকি বাড়ে। তবে শিশুদের মধ্যে যাদের অ্যাজমা রয়েছে বা অন্য কোনো জš§গত বা দীর্ঘমেয়াদি রোগ আছে, তাদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।

আশার কথা, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ৮০ শতাংশ রোগীই ভালো হয়ে যায়, এমনকি কোনো চিকিৎসা না নিলেও অথবা ঘরে বসে সর্দি-জ্বরের মতো চিকিৎসা নিলেও। এ ভাইরাসে আক্রান্ত ২০ শতাংশ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে এবং দুই থেকে তিন শতাংশকে আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়ার প্রয়োজন হয়। যাদের রোগের প্রকোপ কম, তাদের সুস্থ হতে এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

তাপমাত্রার সঙ্গে করোনার সম্পর্ক নেই। প্রথম দিকে ধারণা করা হতো শীতপ্রধান দেশে এর বিস্তার বেশি; তবে এখন দেখা যাচ্ছে, সব দেশেই এই ভাইরাসের বিস্তার বাড়ছে। মূলত ৭০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় এই ভাইরাস টিকতে পারে না। বাস্তবে এত তাপমাত্রা কোনো দেশেই নেই।

কোভিড-১৯-আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির সময় মুখে হাত দিলে বা কফ-থুতু হাতে লেগে গেলে, ওই হাত দিয়ে যা কিছু ধরা হবে, যেমন টেবিল, চেয়ার, দরজার হাতল, কিবোর্ড ইত্যাদিতে ভাইরাস থেকে যেতে পারে এবং এগুলো যে কেউ স্পর্শ করলে সেখান থেকে ভাইরাস ছড়াতে পারে। যেকোনো বস্তুর ওপরে এ ভাইরাস বেশ কয়েক দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। আর সে কারণে ঝুঁকি এড়াতে ঘনঘন সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার বিকল্প নেই।

আক্রান্ত ব্যক্তি মাস্ক ছাড়া হাঁচি-কাশি দিলে ভাইরাস বেরিয়ে মেঝে, চেয়ার বা টেবিলসহ নির্জীব জিনিসে ছড়িয়ে পড়ে। এগুলো ৪৮ ঘণ্টার মতো বেঁচে থাকতে পারে। তখন অন্য কেউ সেই জিনিসগুলোকে স্পর্শ করে সেই হাত দিয়ে তার চোখ, নাক বা মুখ স্পর্শ করলে জীবাণুগুলো তার দেহে প্রবেশ করে তাকে সংক্রমিত করতে পারে। এজন্য হাত না ধুয়ে চোখ, নাক বা মুখ স্পর্শ না করতে পরামর্শ দেওয়া হয়।

বুকের দুধের মাধ্যমে করোনা ছড়ানোর কোনো তথ্য বা প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। তবে আক্রান্ত মা অবশ্যই দুধ খাওয়ানোর সময় মাস্ক পরবেন এবং ভালোভাবে সাবান দিয়ে হাত ও স্তন পরিষ্কার করে নিতে হবে। বাচ্চা কোলে থাকা অবস্থায় হাঁচি-কাশি দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। করোনায় নিউমোনিয়ার মতো জটিলতা দেখা দিলেও নতুন এই করোনাভাইরাসের বিপরীতে নিউমোনিয়ার ভ্যাক্সিন, যেমন নিউমোকক্কাল ভ্যাক্সিন বা হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ ‘বি’-এর ভ্যাক্সিন কাউকে সুরক্ষা দেবে না। তবে কেউ আগে থেকে এই ভ্যাক্সিন নিয়ে থাকলে তা তার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হবে।

যেসব দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রয়েছে, সেসব দেশ থেকে আগতদের সবারই ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকা উচিত। কোয়ারেন্টাইন মানে হলো, এই ১৪ দিন তিনি নিজে ঘরের বাইরে যাবেন না, আবার বাড়িতে অন্য কারও সঙ্গে মিশবেন না। ঘরে অবস্থানকালে পরিবারের অন্যদের সংস্পর্শও এড়িয়ে চলতে হবে। কোয়ারেন্টাইনে থাকা রোগীর খাবার ঘরের দরজার বাইরে রেখে আসতে হবে, কারও ভেতরে ঢোকা চলবে না। ঘরের বাইরে অন্য কোনো কিছুর প্রয়োজন হলে নিজে না গিয়ে কারও সহায়তা নেওয়াই ভালো। ঘরে পোষা প্রাণী থাকলে তাদের সংস্পর্শে না যাওয়াই ভালো। এককথায়, এ অবস্থায় নিজেকে অন্যদের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। এর ফলে পরিবারের বা সমাজের অন্যরা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে না। কোয়ারেন্টাইনে থাকা অবস্থায় যদি কারও করোনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ জ্বর, সর্দি, কাশি, গলাব্যথা প্রভৃতি উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে আইইডিসিআরের হটলাইনে যোগাযোগ করার নির্দেশনা রয়েছে।

আক্রান্ত ব্যক্তি বা বিদেশ থেকে আগত বা তার সংস্পর্শে থাকা কারও যদি জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা প্রয়োজন। তাই যাদের রোগের লক্ষণ নেই, তাদের পরীক্ষা করার কোনো প্রয়োজন নেই। এতে রোগ শনাক্ত হবে না। করোনা মানেই মৃত্যু নয়, বরং সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু হলে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো থাকলে শিশুসহ সবাই ক্রমেই সুস্থ হয়ে ওঠে। এজন্য দেহে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করা উচিত। ভালো হবে প্রতিদিন সুষম খাবার, টাটকা শাকসবজি ও ফলমূল খেতে পারলে। এছাড়া নিয়মিত ব্যায়াম করা উচিত। ধূমপান ও মদ্যপান একদম নয়।

আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যকে রক্ষার জন্য বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরবেন, যাতে আক্রান্ত ব্যক্তির মুখ বা নাক থেকে ভাইরাস বা জীবাণু অন্য মানুষের দেহে ছড়িয়ে না পড়ে। পাশাপাশি আক্রান্ত বা কোয়ারেন্টাইনে রাখা রোগীদের সেবাদানকারী ডাক্তার, নার্সসহ অনান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। তাছাড়া বিদেশফেরত যেসব মানুষকে বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা ও তাদের সেবাদানকারী পরিবারের সদস্য এবং আশেপাশের লোকজন শুধু একই ঘরে থাকার সময় মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। তবে শুধু মাস্ক পরলেই হবে না, সেইসঙ্গে কিছু নিয়মও মানতে হবে, যেমনÑকিছুক্ষণ পরপর সাবানপানি দিয়ে হাত ধোয়া অব্যাহত রাখতে হবে, নিয়মিত মাস্ক পরিবর্তন করতে হবে, ব্যবহারের পর মাস্ক যেখানে-সেখানে না ফেলে ঢাকনাযুক্ত পাত্রে ফেলতে হবে এবং পরে তা পুড়িয়ে ফেলা ভালো।

আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি-কাশি দিলে টিস্যু ব্যবহার করবেন এবং সেই টিস্যু পুড়িয়ে ফেলতে হবে, যাতে সেখান থেকে ভাইরাস না ছড়ায়। কেউ যদি রুমাল ব্যবহার করেন, তাহলে সেই রুমাল ও হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নেবেন। ভালোভাবে হাত না ধুলে সেখান থেকে ভাইরাস ছড়াবে। তাই সব সময় সাবান দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে দুই হাত ধুয়ে নেবেন, অথবা চাইলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা যায়। হাতের কাছে কিছু না থাকলে কনুইয়ের ভাঁজে নাক-মুখ ঢাকতে হবে। অপরিষ্কার হাতে নাক, মুখ ও চোখ স্পর্শ করবেন না। বাইরে থেকে ঘরে ঢুকে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে তারপর অন্য কিছু ধরবেন। কারণ এই হাত দিয়ে যা কিছু ধরা হবে, সেখানেই ভাইরাস থেকে যেতে পারে।

টেবিল, চেয়ার, দরজার হাতল ও কিবোর্ডে ভাইরাস থেকে যেতে পারে। সেখান থেকে ভাইরাস ছড়াতে পারে। তাই এগুলো পরিষ্কার রাখতে হবে। খাবার ভালোভাবে সিদ্ধ করে খাওয়া দরকার। ডিম পোচ করে না খেয়ে ভালোভাবে ভেজে খাওয়া উচিত। ফলমূল ভালো করে ধুয়ে খেতে হবে, কোনো সবজি দিয়ে সালাদ করার আগে সেগুলো ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। অনেকের গৃহপালিত পশুপাখি থাকে। কোনো পশুপাখি অসুস্থ হয়ে পড়লে বা রোগাক্রান্ত মনে হলে সেটিকে সরিয়ে নিতে হবে। সেই প্রাণীকে কেউ স্পর্শ করলে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিতে হবে। কুশল বিনিময়ের ক্ষেত্রে করমর্দন ও কোলাকুলি করা যাবে না। জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। যথাসম্ভব বাসায় থাকতে হবে। খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়াই ভালো।

করোনাভাইরাস নিয়ে ভয় পাবেন না, আতঙ্কিত হবেন না। ভয়ের পরিবর্তে মানুষ যদি অধিকতর সচেতন থাকে, তাহলে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করা কঠিন কিছু নয়। এ ভাইরাস একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে সংক্রমণের সুযোগ যদি না পায়, তাহলে তা ছড়াবে না। আবার দ্রুত সময়ের মধ্যে শনাক্ত করা গেলে রোগীর ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনার কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়। নতুন এই করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে এখনও কোনো টিকা বা চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবিত না হলেও আনুষঙ্গিক অন্যান্য চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব। আর করোনাভাইরাসের ব্যাপারে সচেতনতাই সর্বাপেক্ষা উত্তম প্রতিরোধ ব্যবস্থা।

পিআইডি ফিচার