সারা বাংলা

কর্তৃপক্ষের অদূরদর্শী সিদ্ধান্তে ভোগান্তিতে বশেমুরবিপ্রবির ১৩০ শিক্ষার্থী

শেখ হাসিনা আইসিটি ইনস্টিটিউট

প্রতিনিধি, বশেমুরবিপ্রবি: গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) অন্তর্ভুক্ত শেখ হাসিনা আইসিটি ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়মসহ প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন। তারা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ, ল্যাব, আবাসনসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেয়ার কথা বললেও পরিবর্তিত আর দেয়নি। এছাড়া দুই বছর পার হলেও এ পর্যন্ত ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের মাত্র এক সেমিস্টার সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা।

জানা যায়, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিন এবং সে সময় ভর্তি কমিটির দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা ইনস্টিটিউটে সিএসই, ইইই ও ইটিই বিভাগের অধীনে স্নাতক পর্যায়ে ১৩০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করেন। ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের মাদারীপুরের শিবচরে শ্রেণিকক্ষ, ল্যাব, আবাসনসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার কথা জানান। তবে সেখানে ছিল না পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, ল্যাব এমনকি আবাসনের ব্যবস্থাও।

এছাড়া মূল ক্যাম্পাস থেকে শিবচরের দূরত্ব ৯০ কিলোমিটারের অধিক, নিয়ম না মেনেই ইনস্টিটিউটে তাদের ভর্তি করা হয়েছে। গোপালগঞ্জ থেকে শিক্ষকরা গিয়ে সপ্তাহে একদিন ক্লাস নিতেন, আর পুরো সেমিস্টারের ল্যাব শেষ করতেন দু’দিনে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন অনিয়ম দেখে ওই ইনস্টিটিউটের ৩৬ জন শিক্ষার্থী দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে অন্যত্র চলে যান। আর ইটিই বিভাগের সাত শিক্ষার্থীকে মূল ক্যাম্পাসের ইটিই বিভাগের সঙ্গে একীভূত করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য (রুটিন দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহানের সময়। অবশিষ্ট ৮৭ জন শিক্ষার্থীকে মূল ক্যাম্পাসে ফিরে আসতে বলা হয়।

তারা জানিয়েছেন, মূল ক্যাম্পাসে ফিরেও ৮৭ জন শিক্ষার্থীর বিড়ম্বনা কমেনি। তাদের নিজেদের টাকায় বোর্ড-মার্কারসহ যাবতীয় শিক্ষা সরঞ্জাম কিনে ক্লাস করতে হয়েছে। সে সময় শিক্ষকদের বিরূপ আচরণেরও শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া ভর্তির পর তিন বছর পার হলেও এ পর্যন্ত ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের মাত্র এক সেমিস্টার সম্পন্ন হয়েছে।

এ বিষয়ে তৎকালীন ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বি কে বালা অন্যত্র চলে যাওয়ায় এবং সিএসই বিভাগের শিক্ষক মো. আক্কাছ আলী দুই ছাত্রীকে যৌননিপীড়নের দায়ে অভিযুক্ত হয়ে ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করায় তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে সিএসই বিভাগের অন্য শিক্ষক মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি কাউকে কখনও কোনো বিষয়ে আশ্বস্ত করিনি। আমি ওই শিক্ষার্থীদের চিনিও না।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. একিউএম মাহবুব বলেন, ‘ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের বিষয়ে অবগত রয়েছি। একাডেমিক ও রিজেন্ট বোর্ডের মিটিং শেষে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) দিকনির্দেশনা নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..