আজকের পত্রিকা মত-বিশ্লেষণ

কর্মকর্তারা গরিব মানুষকে আঘাত বা লাঞ্ছিত করেন কী আশায়

নজরুল ইসলাম তোফা: দুঃখজনক হলেও সত্য ফেসবুক, ইউটিউব ও অনেক গণমাধ্যমে অসহায় মানুষকে আঘাত বা লাঞ্ছিত করার ছবি ও ভিডিও প্রকাশিত হচ্ছে। সেখানে মূলত পরিলক্ষিত হয়, করোনাভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্যে এ দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা খেটে খাওয়া খুব সাধারণ মানুষকে মারছেন ও শাস্তি দিচ্ছেন। অবশ্য এর পেছনে যথাযথ কোনো কারণ থাকতে পারে।

আবার এটাও চিন্তা করার বিষয়, কী কারণে তারা শাস্তি পাচ্ছে। আমাদের ভাবনার গভীরতা বাড়াতে হবে। তবে আমাদের সচেতন থাকাটা অনেক জরুরি এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে। অপরদিকে এও লক্ষ করার মতো যে, কিছু মানুষ না জেনে না বুঝে সরকারের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য করছেন। কোনো কথা কিংবা বিষয় পেলেই তার পেছনে যেন অনেক মানুষ উঠে-পড়ে যা ইচ্ছা তা-ই বলতে শুরু করেন। সেটাও হয়তো উচিত হবে না বলেই মনে করি। যেকোনো কথা অবাস্তবভাবে চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। তবু একটি কথা বলতে ইচ্ছা করে, চিন্তা-ভাবনা করেই সাধারণ মানুষকে বুঝিয়ে ঘরে পাঠানো প্রয়োজন—তাদের নিজেদের ভালোর জন্য, অন্য মানুষের ভালোর জন্য এবং এদেশ থেকে করোনাভাইরাস দূর করার জন্য।

এদেশের হতদরিদ্র মানুষ খাওয়ার চিন্তা করা ছাড়া অন্যকিছু বোঝে না, ভাবেও না। তাদের ‘আঘাত কিংবা লাঞ্ছনা’ করা উচিত নয়। এও দেখা যায়, তারা গুণীজনদের কথা বোঝে বা মূল্যায়ন করে। কিছুসংখ্যক কর্মকর্তার মধ্যে কোথায় যেন গড়মিল রয়েছে। অবশ্য এমন ঘটনা শুধু আজকের দিনেই হচ্ছে, তা নয়; এসব কর্মকর্তা যেন প্রতিনিয়তই অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছেন। কী পাওয়ার আশায় তারা এ ধরনের কাজ করেন, তা বোধগম্য নয়। বেশ কয়েকদিন ধরেই যেন মানুষের আলোচনার একটি মুখ্য বিষয় হয়ে উঠেছে একজন সাংবাদিককে আঘাত করার বিষয়টি। এমন তো হওয়ার কথা নয়, কেনইবা এমন হবেন তারা, সেইসব কর্মকর্তার কি জ্ঞানের অভাব রয়েছে!

এ কথাগুলো শুধুই করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময়ের জন্যই নয়, সব সময়ের জন্য প্রযোজ্য বলে মনে করি। দুঃখ-ভারাক্রান্ত মনে বলতে হয়, শিক্ষার উদ্দেশ্য কি গরিবদের আঘাত করা? রিকশা, ভ্যান, ট্রাক, পিকআপভ্যান, মোটরসাইকেল বা সাইকেলগুলোকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে থামানো হচ্ছে; আর শুধু গরিব ও অসহায় মানুষকে মারধর বা কান ধরে উঠবস করানো হচ্ছে। অন্যদিকে যারা প্রাইভেট কার, পাজেরো ও মার্সিডিজ নিয়ে রাস্তায় বের হয়েছে, তাদের কান ধরা বা কিছু বলে সতর্ক করা তো দূরে থাক, গাড়িগুলোকে থামানোও হচ্ছে না। এমন নিয়ম বা আইন কি শুধু গরিবের জন্য?

কেনইবা ফিজিক্যাল টর্চার শুধু গরিবদের করা হবে। ফিজিক্যাল টর্চারের চেয়ে মেন্টাল টর্চার ভয়াবহ হয়, তাই তা জেনেবুঝেই প্রয়োগ করতে হবে। ফিজিক্যাল টর্চারে হাড় ভাঙতেই পারে, কিন্তু মেন্টাল টর্চারে মানুষ আত্মিক ও মানসিক দিক থেকে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আসলে বলছি, মেন্টাল টর্চার না করে খেটে খাওয়া মানুষকে ভালোভাবে বোঝানোই শ্রেয়। ভালো-খারাপ যাচাই করতে পারবেন না কেন? খুব বড় দায়িত্ব নিয়েই রোবোটের মতো হয়ে যাবেন কেন? ফিজিক্যাল টর্চার করে কাউকে আজীবন শাসন করা যায় না। সুতরাং বাংলাদেশের স্বার্থে, সব মানুষের স্বার্থে এবং সরকারের নির্দেশ মোতাবেক বড় সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তার উচিত মেধা খাটিয়ে সব সমস্যার সুরাহা করে মানুষের জন্য ভালো কাজ করা।

টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, সাংবাদিক, কলামিস্ট ও প্রভাষক

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..