সম্পাদকীয়

কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় মনোযোগ দিন

জনগোষ্ঠীর কর্মক্ষমতা বিবেচনায় বাংলাদেশ এখন সোনালি সময় পার করছে। আমাদের নির্ভরশীল জনসংখ্যার চেয়ে কর্মক্ষম জনসংখ্যা বেশি। জনসংখ্যার ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী এখন ৬৮ শতাংশ। জনমিতির পরিভাষায় এটি হলো একটি দেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতিক লভ্যাংশ। কোনো দেশে এমন জনমিতিক সুবর্ণকাল একবারই আসে, যার স্থায়িত্বকাল সাধারণত ৩০-৩৫ বছর। আমাদের দেশে এ সোনালি সময় শুরু হয়েছে ২০১২ সালে, যা শেষ হবে ২০৪০ সালে।  এরপর আবার কর্মক্ষম জনসংখ্যার চেয়ে নির্ভরশীল জনসংখ্যা বাড়তে থাকবে।

জনমিতির হিসাবে ১৫ থেকে ৫৯ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীকে একটি দেশের জন্য উৎপাদনশীল, কর্মমুখী ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য সক্রিয় বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ অংশ যুবসমাজ। বর্তমানে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৩৩ শতাংশই হচ্ছে যুবসমাজ, যাদের বয়স ১৫ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে। জনসংখ্যা তখনই সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়, যখন তাদের কাজে লাগাতে সক্ষম হয় কোনো দেশ। 

শারীরিক সক্ষমতার কারণেই যুবকদের উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা বেশি ফলদায়ক। তাই যুবসমাজের মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, দেশে করোনা শনাক্ত হওয়াদের মধ্যে যুবসমাজের হার সবচেয়ে বেশি। সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) ও অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ আয়োজিত অনলাইন মাধ্যমে আলোচনা সভায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

আলোচনা সভায় উল্লেখ করা হয়, যুবসমাজের ৮৯ দশমিক ২০ শতাংশই হচ্ছে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে সম্পৃক্ত। দারিদ্র্যের কারণে শিক্ষায় ঝরে পড়া ও দক্ষতা না থাকায় স্বল্প আয়েই তাদের নির্ভরশীল হতে হয়। আয় কম হওয়ায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাচ্ছে না। এতে স্বাস্থ্যগতভাবেও দুর্বল হয়ে পড়ছে তারা। এর বড় উদাহরণ হচ্ছে কভিডে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য।

জুন পর্যন্ত আক্রান্তদের ২৮ শতাংশের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছর। আবার ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের আক্রান্তের হার হচ্ছে ২৭ শতাংশ। এমন অবস্থা থেকে উত্তরণে আগামী বাজেটে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে আরও বরাদ্দ বৃদ্ধি জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আমরা মনে করি, জনমিতির সুফল পেতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ আমলে নিয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি, পরিকল্পনা ও অর্থবহ বিনিয়োগ প্রয়োজন। এক্ষেত্রে ব্যর্থতা জনমিতিক লভ্যাংশের বাড়তি জনগোষ্ঠীকে বোঝায় পরিণত করবে।

কর্মক্ষম জনসংখ্যার সুযোগ কাজে লাগিয়েই জাপান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। কভিড মহামারির প্রভাবে দুই কোটি যুবকের আয়ের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যুবসমাজের ৪৮ শতাংশই দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাবে। এখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লব চলছে। এ থেকে সুবিধা নিতে হলে যুবসমাজকে মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে। তা না হলে বেকারত্ব থেকেই যাবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..