সারা বাংলা

কর্মচারীদের কর্মবিরতিতে বিপর্যস্ত নোয়াখালী জেলা প্রশাসন

প্রতিনিধি, নোয়াখালী: গ্রেড উন্নীতকরণের দাবি-দাওয়া নিয়ে টানা কর্মবিরতিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নোয়াখালী জেলা প্রশাসন। গতকাল বুধবার সকাল থেকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সর্বস্তরের কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালন করায় কার্যত অচল হয়ে পড়ে পুরো নোয়াখালী জেলার প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড। এর ফলে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জরুরি ও বিভিন্ন প্রয়োজনে ছুটে আসা মানুষ নানা ধরনের হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।

জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ নিয়ে আসা ধর্মপুরের নবির উদ্দিন জানান, স্থানীয় কয়েকজনের ইন্ধনে সংশ্লিষ্ট তহশিলদার ও উপজেলা প্রশাসনের ভুল নির্দেশনায় তার ৫০ বছরের অধিককাল ধরে মালিকীয় ও ভোগদখলীয় বসতবাড়ির কিয়দাংশে মুজিববর্ষের ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। এর ফলে তার একমাত্র বৈধ মালিকীয় ও ভোগদখলীয় সহায় সম্পদ রক্ষাকল্পে তিনি জেলা প্রশাসক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ নিয়ে এসেছেন।

কিন্তু জেলা প্রশাসনের কোনো কর্মচারী তার আবেদনটি গ্রহণ করেননি। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোনো কিছুই গ্রহণ করা হবে না। এরপরও তারা দপ্তরে আসছেন। দৈনিক হাজিরায় সই-স্বাক্ষর করছেন। বেতন-ভাতাও ঠিকমতো পাচ্ছেন। এদিন নোয়াখালী সদর উপজেলা ভূমি কার্যালয়ে গিয়েও কোনো কর্মচারীর দেখা মেলেনি। উপজেলা ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. জাকারিয়ার কক্ষটিও তালাবদ্ধ পাওয়া যায়া। পরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে জানান, তিনি বাইরে আছেন। আগামী রোববার দেখা করা যাবে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী জসিম মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দেশটা আসলে কিছু লোকের কাছে জিম্মিদশায় পরিণত হয়েছে। সরকারি কর্মচারীরা একসময় মাত্র তিন হাজার টাকা বেতন পেতেন। সে স্থলে বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার টাকা পাচ্ছেন। এরপরেও তারা আরও চান।’ তিনি বলেন, ‘এর আগে প্রতিটি করণিকের বেতন ভাতা বৃদ্ধি করার পরেও ঘুষ ছাড়া ফাইলে কাজ করছেন বলে সহজে প্রমাণ পাওয়া যাবে না।’ অবশ্য কর্মচারী ইউসুফ মিয়া জানান, তাদের দাবি বৈধ। তারা বেতনের চেয়ে নিজেদের সম্মান বাড়াতেই আন্দোলন করছেন। এসব নিয়ে জেলা প্রশাসক মো. খোরশেদ আলম বলেন, ‘জাতীয়ভাবেই তাদের এ আন্দোলন চলছে। আশা করা যাচ্ছে, তারা আবার স্বাভাবিক কাজ কর্মে যোগদান করবে।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..