কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে কারখানা পরিদর্শন অব্যাহত রাখুন

আমাদের দেশে শ্রমিকদের মজুরি বাড়লেও নিরাপদ কর্মপরিবেশ তেমন উন্নত হয়নি। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কাজ করলেও বিধান অনুযায়ী শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা বাস্তবায়নে কমতি রয়েই গেছে। জাতীয় অর্থনীতিতে শিল্প ও বাণিজ্য খাতের ভূমিকা ক্রমেই বাড়ছে। এসব খাতে কাজ করছে লাখ লাখ শ্রমিক-কর্মচারী। বিপুলসংখ্যক শ্রমজীবী মানুষের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্বপালনকারী সংস্থাগুলোর উদাসীনতায় নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা যায়নি।

কতকগুলো অগ্নিদুর্ঘটনা ও ভবনধসের কারণে আমাদের তৈরি পোশাক খাত অনেক মূল্য দিয়েছে। ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্স শ্রমিক নিরাপত্তায় নজরদারি করেছে। ঘুরে দাঁড়িয়েছে পোশাক খাত। সেরা কয়েকটি পোশাক তৈরি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমাদের কয়েকটি কারখানা স্বীকৃতি ও সনদ পেয়েছে।

এত অর্জন-স্বীকৃতির পরও মাঝেমধ্যে কিছু দুর্ঘটনা আমাদের সাফল্যকে ক্লেদাক্ত করে। দেড় মাস আগে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুডস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান ৫২ শ্রমিক। ওই কারখানায় অগ্নিনিরাপত্তাসহ বেশ কিছু ত্রুটি থাকার তথ্য উঠে আসে সরকারি প্রতিবেদনে। এত ত্রুটি নিয়ে কীভাবে একটি কারখানা প্রশাসনের চোখের সামনে চলছিল, তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা সরকারকে বিব্রত করে। গঠন করা হয় উচ্চপর্যায়ের কমিটি। কমিটি সারাদেশে কলকারখানার নিরাপত্তাব্যবস্থা দেখতে সরেজমিনে পরিদর্শন করবে। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহেই শুরু পরিদর্শন অভিযান।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) সূত্রে তথ্য জানা গেছে, ২০২০ সালের পূর্ববর্তী পাঁচ বছরে সারাদেশে বেশি দুর্ঘটনা সংঘটিত কারখানাগুলোই আগে পরিদর্শন করা হবে। এ ক্ষেত্রে তৈরি পোশাকসহ রপ্তানিমুখী শিল্পকে বাদ দিয়ে সারাদেশে ৩২ খাতের ৪১ হাজার ৬০৪টি কারখানা চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কারখানায় অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র আছে কি না, থাকলে সেটি কার্যকর কি না, ফায়ার অ্যালার্ম ঠিক আছে কি না, নিরাপদে কারখানা থেকে বের হওয়ার পথ আছে কি নাÑএসব বিষয় দেখা হবে।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর যথানিয়মে পরিদর্শন করলে কারখানায় নিরাপদ কর্মপরিবেশ থাকত। শ্রমিকদের বোঘোরে প্রাণ দিতে হতো না। দেরিতে হলেও কারখানা পরিদর্শনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তবে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের লোকজন দায় এড়াতে অনেক কিছু আড়াল করতে চাইবে। তাই পরিদর্শনে যাতে প্রকৃত চিত্র উঠে আসে, সেজন্য সতর্ক থাকতে হবে। পরিদর্শনের পর সংশ্লিষ্ট কারখানার ত্রুটি-বিচ্যুতি ঠিকমতো প্রতিবেদনে স্থান পেলেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া সহজ হবে।

সন্দেহ নেই, শ্রম আইন ও শ্রম বিধিমালা লঙ্ঘিত হওয়ায়ই কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। আমাদের অর্থনীতিতে অবদান রাখলেও শ্রমিকরা কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন ঝুঁকিতে রয়েছেন। অথচ বিদ্যমান আইনেই তাদের সুরক্ষা দেয়া সম্ভব। কেবল আইন পরিপালনের বিষয়টিকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নজরদারি করতে হবে তদারককারী সংস্থাকে। কোনো অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনার যেন না ঘটে, সেজন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে রাষ্ট্রকেই দায়িত্ব নিতে হবে। কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে কারখানা পরিদর্শন অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে।

সর্বশেষ..