সুশিক্ষা

কর্মসংস্থানের প্ল্যাটফর্ম বিইউপি ক্যারিয়ার ফেস্ট

শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের নতুন আশা নিয়ে সম্প্রতি ‘ক্যারিয়ার অ্যান্ড এডুকেশন ফেস্ট, ২০১৯’ আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)। শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য পূরণ করতেই এই আয়োজন। এক আলাপনে ক্যারিয়ার ফেস্টের সার্বিক বিষয় সম্পর্কে জানিয়েছেন বিইউপির বিজনেস গ্র্যাজুয়েটস’ অ্যাসোসিয়েশনের (বিইউপিবিজিএ) সভাপতি মোহাম্মদ জাকির খান। তার সঙ্গে কথা বলেছেন মোস্তফা রনি

এই ক্যারিয়ার অ্যান্ড এডুকেশন ফেস্ট সম্পর্কে জানতে চাই

মোহাম্মদ জাকির খান: সদ্য পড়ালেখা শেষ করা শিক্ষার্থীরা সহজে চাকরি পাচ্ছেন না। সঠিক সময়ে চাকরি না পাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী হতাশ হয়ে পড়েন। বিষয়টি এমন নয় যে, চাকরি নেই। শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত সময়ে চাকরি পাওয়া ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়তে আমরা কিছু প্রেরণামূলক কাজ করছি, যাতে এসব দেখে অন্যরাও এ ধরনের কাজে এগিয়ে আসেন। এসব বিষয় চিন্তা-ভাবনা করে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের লক্ষ্য পূরণ করার জন্য এ ধরনের ফেস্টের আয়োজন করেছি।

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রায়ই ধরনের ক্যারিয়ার ফেস্টের আয়োজন করে থাকে এসব অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের চাকরির বাজার সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয় তাদের কাছ থেকে আপনাদের এডুকেশন ফেস্টের কি কোনো ভিন্নতা রয়েছে?

মোহাম্মদ জাকির: অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ফেস্টের আয়োজন করে সেমিনারের ভিত্তিতে। সেখানে বক্তারা আলোচনা করেন, চাকরির সুযোগসুবিধা সম্পর্কে তুলে ধরেন। এছাড়া দিকনিদের্শনা দিয়ে থাকেন। আমাদের ক্যারিয়ার ফেস্ট এ তুলনায় ব্যতিক্রম। এখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা এসে সরাসরি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সিভি নিয়ে থাকেন। এ ফেস্টে একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করতে পারেন শিক্ষার্থীরা। লক্ষ্য অনুযায়ী এগিয়ে যেতে পারেন। এছাড়া শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত ইন্টার্নশিপ ও চাকরি পেতে সহযোগিতা করার একটি উন্নত প্ল্যাটফর্ম এটি।

সাধারণত শিক্ষার্থীরা ক্যারিয়ার ফেস্টে চাকরির বিষয়গুলোই জেনে থাকেন আপনাদের ফেস্ট থেকে আরও কী ধরনের শিক্ষণীয় ব্যবস্থা রয়েছে তাদের জন্য?

মোহাম্মদ জাকির: শিক্ষার্থীরা সাধারণত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে চাকরির সাক্ষাৎকার সম্পর্কে ধারণা বা অভিজ্ঞতা নিতে পারেন না। ক্যারিয়ার ফেস্ট থেকে শিক্ষার্থীরা সরাসরি চাকরির সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে পারেন। এছাড়া চাকরির বাজার সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সাধারণত নিয়োগ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগমাধ্যম হয়ে ওঠে এসব ফেস্ট, যা শিক্ষার্থীদের পরবর্তী জীবনে সহায়ক হয়।

ক্যারিয়ার অ্যান্ড এডুকেশন ফেস্টে ২৬ প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো কোন ধরনের সহযোগিতা করেছে?

মোহাম্মদ জাকির: ফেস্টের সাফল্য উদ্যাপন করতে ২৬ প্রতিষ্ঠানের এক্সিকিউটিভরা যোগ দিয়েছিলেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল বেক্সিমকো, ওয়ান ব্যাংক, এইচবিডি সার্ভিসেস, ব্র্যাক, গ্রামীণফোন, কাজী আইটি সেন্টার, ব্র্যাক ব্যাংক, বিকাশ, আইপিডিসি ফাইন্যান্স লিমিটেড, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স লিমিটেড, বাংলালিংক, টিচ ফর বাংলাদেশ, বিক্রয় ডট কম, দারাজ বাংলাদেশ, রেনেটা লিমিটেড, কনফিডেন্স গ্রুপ, অগমেডিক্স, ট্যালেন্ট সেন্ট্রিক, সাজগোজ, অ্যাডেক্স গ্রুপ অব কোম্পানিজ, মাইজবস, আইডিপি এডুকেশন লিমিটেড, মেন্টরস এডুকেশন, পিএফইসি গ্লোবাল ও ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। অংশ নেওয়া একেকটি প্রতিষ্ঠান ২০০ থেকে ২৭০টি সিভি নিয়েছে। এ হিসেবে ছয় হাজারের বেশি সিভি জমা পড়েছে।

সাধারণত ক্যারিয়ার ফেস্টে শিক্ষার্থীরা সুযোগসুবিধা পেয়ে থাকেন এখান থেকে একটি প্রতিষ্ঠান কোন ধরনের সুবিধা পাবে বলে মনে করেন

মোহাম্মদ জাকির: ফেস্টে প্রতিষ্ঠানগুলো প্রার্থী যাচাই-বাছাই করে সবচেয়ে যোগ্য লোককেই নিয়োগ দিতে পারবে। এছাড়া প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে মানুষের কাছে প্রচারণাসহ নিজেদের সবচেয়ে ভালো বিষয়গুলো মানুষকে জানাতে পারবে। বিজ্ঞাপন ছাড়াই ফেস্টের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো লোকবল নিয়োগ দিতে পারছে। এতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলো উপকৃত হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানগুলো কি পরবর্তী ফেস্টে আরও সুযোগসুবিধা নিয়ে আসবে বলে আপনার মনে হয়?

মোহাম্মদ জাকির: এবারের ফেস্টে কোম্পানিগুলো ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি প্রোগ্রাম ও এন্ট্রি লেভেলের চাকরিসহ ইন্টার্নশিপেরও অফার নিয়ে এসেছিল। শিক্ষার্থীরা এখান থেকে ভালো করতে পারলে প্রতিষ্ঠানগুলো পরবর্তীকালে উচ্চ চাকরির সুবিধা নিয়ে আমাদের কাছে আসবে বলে বিশ্বাস করি।

গত তিন বছরে পাঁচবার ক্যারিয়ার অ্যান্ড এডুকেশন ফেস্টের আয়োজন করেছেন এখন পর্যন্ত কতজন শিক্ষার্থীকে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে?

মোহাম্মদ জাকির: শতাধিক শিক্ষার্থীর কর্মসংস্থান করেছি। এ ধারা অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে আরও বেশি শিক্ষার্থীর কর্মসংস্থান করতে পারব।

ক্যারিয়ার ফেস্টের বাইরে আর কী আয়োজন করে থাকেন?

মোহাম্মদ জাকির: শিক্ষা সফর ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে থাকি। কীভাবে সফল হওয়া যায়, সে বিষয়ে আলোচনা ও পরামর্শ দিয়ে থাকি শিক্ষার্থীদের। এছাড়া নানা ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে থাকি।

বিইউপিবিজিএ বিভিন্ন কর্মসংস্থানের চাহিদা অনুযায়ী বর্তমান শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে কেমন উদ্যোগ নিয়েছে?

মোহাম্মদ জাকির: আমরা বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্যাক্টরি ভিজিটের ব্যবস্থা করছি। ১০ ব্যাচে ভাগ করে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ফ্যাক্টরিতে ভিজিটের ব্যবস্থা করা হবে। শিক্ষার্থীদের মানবিক গুণের অধিকারী, বিনয়ী ও ভদ্র হওয়ার ওপরে গুরুত্ব দিয়ে থাকি আমরা।

সর্বশেষ..