সম্পাদকীয়

কর্মহারা ও বেকারদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি কাম্য

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাব মতে, দেশে মোট কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৪ শতাংশ বেকার। তবে যে প্রক্রিয়ায় বিবিএস এ বেকারত্বের হিসাব করে, তা সাধারণ দৃষ্টিতে ত্রুটিযুক্তই মনে হতে পারে। আন্তর্জাতিক সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি সপ্তাহে অন্তত এক ঘণ্টা কোনো কাজে শ্রম দিয়ে থাকেন, তাহলে তিনি বেকার হিসেবে গণ্য হবেন না। এমন হিসাব ধরেই দেশে কর্মক্ষম বয়সী জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রায় ৩০ লাখ বেকার। চলমান কভিড মহামারিকালে এ বেকারের সংখ্যা অনেকাংশে বেড়ে যাবে বলেই জানা যাচ্ছে। তা যদি হয়, তাহলে দেশের অর্থনীতির জন্য বিপুলসংখ্যক বেকার জনগোষ্ঠীর আহার জোগানো ও নতুন করে তাদের কর্মে নিয়োগ করা হবে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আশু পদক্ষেপ গ্রহণ কাম্য। বেকার জনগোষ্ঠীকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় গবেষণার মাধ্যমে উপযুক্ত পন্থা উদ্ভাবনের উদ্যোগ নিতে পারে।

দৈনিক শেয়ার বিজে গতকাল ‘আট সংস্থার গবেষণার তথ্য: বছর শেষে বেকার হতে পারে ৫৫ লাখ চাকরিজীবী’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনের তথ্য মতে, চলমান করোনাভাইরাসের সংক্রমণ চলতে থাকলে ২০২১ সালের মধ্যে দেশে ৫৫ লাখ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়তে পারেন। বিষয়টি নিঃসন্দেহে উদ্বেগের।

গবেষণার তথ্য বলছে, এ মহামারিতে বড় শিল্পোদ্যোক্তারা টিকে থাকতে পারলেও সংকটে পড়বেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) উদ্যোক্তারা। আর এ খাতেই কর্মসংস্থান অপেক্ষাকৃত বেশি। অর্থনীতির প্রধান তিনটি খাতের মধ্যে সেবাখাতের আওতা সবচেয়ে বড়। আর কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এ খাতের অবস্থান দ্বিতীয়। চলমান মহামারিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেবাখাত। এ খাতের মধ্যে রয়েছে গণপরিবহন, হোটেল-রেস্তোরাঁ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শপিংমল, হাটবাজার, ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, রিটেইল শপ ইত্যাদি। এসব উপখাতের প্রতিষ্ঠানসমূহ বিপুলসংখ্যক কর্মসংস্থানের জোগানদাতা। কিন্তু করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে বারবার লকডাউন ঘোষণার ফলে এসব খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে সেখানে কর্মসংস্থানও ব্যাপক মাত্রায় হ্রাস পেয়েছে। ২০২০ সালে সংক্রমণের শুরুর পর্যায়েই অনেক প্রতিষ্ঠান খরচ কমাতে গিয়ে কর্মী ছাঁটাই করেছিল। চলতি বছর করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার পর এ ছাঁটাই প্রক্রিয়া নতুন মাত্রা পেয়েছে। ছোটখাটো চাকরির অনেকে কর্ম হারিয়ে এরই মধ্যে গ্রামে পাড়ি জমিয়েছেন। তারা এখন কীভাবে তাদের আর্থিক নিশ্চয়তা বিধান করবেন, তা ভেবে দিশেহারা। এমন হাজারো মানুষ এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। অর্থনীতির চাকার ঘোরানোর ক্ষেত্রে সেবা খাতে কর্মরত এই বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীর একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। কাজেই তাদের কীভাবে নতুন উদ্যোগে কর্মমুখী করা যায়, সে বিষয়ে এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে উদ্ভাবনী উদ্যোগের বিষয়ে ভাবতে হবে। সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেই প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..