সম্পাদকীয়

কর্মহারা মানুষের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করুন

মহামারি কভিডের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সরকারি বিধিনিষেধে বড় সংকটে আছেন শ্রমজীবী মানুষ। রাজমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রি, মাটিকাটা শ্রমিক, রংমিস্ত্রি এবং ইট, বালি ও রডটানা শ্রমিক, কাজ হারানো গৃহকর্মী ও দোকানকর্মী এখন দৈনিক ভিত্তিতে কাজের জন্য ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে। কিন্তু কাজ পাচ্ছেন না তারা। মানুষ কভিডের ভয়ে কাজের জন্য বাইরে থেকে বাড়িতে লোক নিতে চায় না। গণপরিবহন চলাচল স্বাভাবিক হলে হয়তো গ্রামের বাড়িতে চলে যেতেন অনেকে। হয়তো সেখানে কোনোভাবে কষ্টে-সৃষ্টে দিন চলে যেত শহরে থেকে শুধু ঋণ বেড়ে যাচ্ছে। কভিডের সংক্রমণ রোধে গত ১৪ এপ্রিল কঠোর লকডাউন (কঠোর বিধিনিষেধ) শুরু হয়। পরে সাত দিন করে দুই দফা লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো হয়। সেই মেয়াদ বুধবার রাতে শেষ হলে নতুন করে আরও ১১ দিন বাড়িয়ে আগামী ১৬ মে পর্যন্ত নেয়া হয়েছে।

বুধবার বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত এক অনলাইন সংলাপে বলেছে, কভিডে কাজ হারিয়েছেন ৬২ শতাংশ মানুষ। গতকাল শেয়ার বিজে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, অনেকে আবার কাজ শুরু করতে সক্ষম হলেও কমেছে বেশিরভাগ মানুষের আয়। ফলে বাধ্য হয়ে তারা ব্যয় কমিয়ে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে নিম্ন-আয়ের মানুষের।

‘করোনাকালে আয় ও কর্মসংস্থান পরিস্থিতি: কীভাবে মানুষগুলো টিকে আছে’ শীর্ষক খানা জরিপে উঠে এসেছে এসব তথ্য-উপাত্ত। সিপিডি ও অক্সফাম বাংলাদেশের যৌথভাবে করা জরিপে কভিডকালে বাস্তবতাই উঠে এসেছে বলে আমরা মনে করি।

কভিডকালে বিভিন্ন সময়ে কাজ হারিয়েছেন অনেকে। পরে কাজে ফিরলেও আয় আগের অবস্থায় ফেরেনি। তাদের ওপর নির্ভরশীলদের জন্য ন্যূনতম খাদ্যের সংস্থান করা গেলেও অনেক খরচ কাটছাঁট করতে হয়েছে। অন্তত ৭৮ শতাংশ মানুষ ব্যয় কমিয়ে দিয়েছেন। ৫২ শতাংশ খরচ কমাতে গিয়ে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছেন। ঋণ আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে। এদের কিছু প্রণোদনার ব্যবস্থা করা গেলে বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারতেন তারা। কভিড সংক্রমণের আগের চেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছেন।

মহামারি মানুষের আয়-উপার্জনের ওপর চরম আঘাত হেনেছে। সংক্রমণ কমাতে সব বন্ধ করে দিতে হয়েছে। লাখ লাখ কর্মহীনদের সর্বাত্মক প্রয়োজন। খাদ্য সহায়তা ছাড়াও নগদ অর্থ দেয়া গেলে কিছুটা স্বস্তি পাবেন হতদরিদ্র মানুষ। যতদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হবে, ততদিন হয়তো কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। কিন্তু কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে কাজ দেয়াই হবে বড় সহায়তা। সে অর্থে হয়তো কাজ দেয়া যাবে না, তাদের আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। কভিডের শুরু থেকেই সরকারের পক্ষ থেকেও জীবন ও জীবিকার মধ্যে ভারসাম্য রাখার কথা বলা হচ্ছে। তাই লকডাউনে কাজ হারানো মানুষদের কাছে খাদ্য ও অর্থসহায়তা কর্মসূচি শুর হয়েছে। কিন্তু কাজ হারানো হতদরিদ্র পরিবারের সংখ্যা আরও অনেক বেশি। সবাই যাতে সহায়তা-প্রণোদনার আওতায় আসে, সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি সমাজের অবস্থাপন্নরাও এগিয়ে আসতে পারেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..