দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

কর আদায়ে আগের মতো অনিয়ম হবে না: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, আগে কর আদায়ে অনিয়ম হয়নি, তা বলব না। কিছু স্তর থেকে বলা হয়, ট্যাক্স দেবেন না। একবার ট্যাক্স দিলে তা থেকে আর বের হতে পারবেন না। তবে আগের মতো করে অনিয়ম আর হবে না।

গতকাল রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে আয়কর মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ‘সবাই মিলে দেব কর, দেশ হবে স্বনির্ভর’ সেøাগানে মেলা চলবে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত। ফিতা কেটে, পায়রা উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী। পরে তিনি মেলার বিভিন্ন বুথ ঘুরে দেখেন।

অর্থমন্ত্রী করদাতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘পিছিয়ে পড়া মানুষদের অর্থনীতির মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে। আপনার আয়ের একটি অংশ সরকারকে দিতে হবে, যাতে সরকার পিছিয়ে পড়াদের জন্য কাজ করতে পারে। আমাদের রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ-মাদরাসা ও হাসপাতাল তৈরি করতে হবে, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দিতে হবে। সমাজের নিপীড়িত, বঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া মানুষদের কল্যাণে কাজ করতে আয়কর সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ অর্থ সরকার বিদেশে পাঠাবে না, দেশের মানুষের কল্যাণে তা কাজ করবে।’

করদাতাদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘ভালো কাজের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম কাজ হচ্ছে কর প্রদান করা আর জাকাত দেওয়া। জাকাত ফরজ আর কর নায্য অধিকার, আমাদের ওপর গরিবের হক। আপনাদের আশ্বস্ত করতে পারি, করে আগের মতো অনিয়ম আর হবে না। আগে অনিয়ম হয়নি তা বলব না। কিছু স্তর থেকে বলা হয়, ট্যাক্স দেবেন না। ট্যাক্স একবার দিলে আর তা থেকে বের হতে পারবেন না। এটা মিথ্যা কথা। আপনি ট্যাক্স না দিলে আপনার মনেই উসখুস করবে। আপনি যে সম্পদ রেখে যাবেন, সে সম্পদ আপনার পরিবারের কেউ না কেউ ভোগ করবে। কর দিয়ে এ সম্পদ জায়েজ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘কোনো অফিসার, সে নিম্নতর হোক উচ্চতর হোক, যদি খারাপ ব্যবহার করেন, অবৈধ কিছু করতে বল প্রয়োগের চেষ্টা করেন, তাহলে অনুরোধ থাকবেÑআমাকে অবহিত করবেন। আমার দরজা সব সময় খোলা, দরজা খোলা রেখে আমি অফিস করি, ভয়ের কোনো কারণ নেই। ফোনে, ই-মেইলে অথবা ব্যক্তিগতভাবে জানাবেন, ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ব্যক্তিগত করের প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার পর আমি আমার সম্পত্তি সন্তানদের নামে হস্তান্তর করে দিয়েছি। এ কারণে আমার সম্পদের পরিমাণ কমেছে। এবার আমার করযোগ্য আয়ের পরিমাণ দুই কোটি ৬৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। এর মধ্যে আয়কর দিয়েছি ৯১ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। আমার প্রকৃত সম্পদ ৬৮ কোটি ২২ লাখ টাকা।’

এ সময় স্ত্রী ও দুই মেয়ের করযোগ্য আয়, সম্পদের পরিমাণ ও কর পরিশোধের তথ্যও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রীর করযোগ্য আয়ের পরিমাণ দুই কোটি ৫২ লাখ টাকা। তিনি কর দিয়েছেন ৭১ লাখ ২৯ হাজার টাকা। আমার স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ ৫০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। আমার বড় মেয়ের করযোগ্য আয় সাত কোটি ৫২ লাখ টাকা। তিনি কর দিয়েছেন দুই কোটি ৮২ লাখ টাকা। তার সম্পদের পরিমাণ ৪১ কোটি ১৩ লাখ টাকা। আমার ছোট মেয়ের করযোগ্য আয় ছয় কোটি ৮৬ লাখ টাকা। এতে তিনি কর দিয়েছেন দুই কোটি ৬১ লাখ টাকা। তার সম্পদ ৬১ কোটি ৮২ লাখ টাকা।’

অর্থমন্ত্রী জানান, পরিবারের সদস্যসহ তাদের চারজনের মোট সম্পদের পরিমাণ ৩২১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। আর মোট কর দেওয়ার পরিমাণ সাত কোটি ছয় লাখ ৭৮ হাজার টাকা।

১৯৭০ সালে প্রথম আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। দেশ স্বাধীন হওয়ার ঠিক আগের ওই বছরে ৫৬০ টাকা (পাকিস্তানি রুপি) আয়কর দেন তিনি। এর পর থেকে গত ৪৯ বছর ধরে তিনি নিয়মিত আয়কর দিয়ে আসছেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ১৯৭০ সাল থেকে নিয়মিত আয়কর দিয়ে আসছি। তবে ১৯৭১ সাল থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত ২৫ বছরে কত টাকা আয়কর দিয়েছি, তার কোনো পরিসংখ্যান আমার কাছে নেই। তবে ১৯৯৬ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত গত ২৪ বছরে আমি ও আমার পরিবার ৫১ কোটি ৭২ লাখ ৬৯ হাজার ৯৯৩ টাকা আয়কর দিয়েছি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..