দুরে কোথাও

কলকাতা শিমলা মানালি দিল্লি আগ্রা ভ্রমণ

আমি ভ্রমণপ্রিয় মানুষ। সময় ও সুযোগের মিলন হলে বেরিয়ে পড়ি। বাংলাদেশের প্রায় সব ট্যুরিস্ট স্পটে ঘুরে বেড়িয়েছি। চিন্তা করছিলাম দেশের বাইরে যাওয়ার। সব মিলিয়ে ভারত ভ্রমণটাই সবচেয়ে ভালো মনে হলো। পাসপোর্ট, ভিসা, ট্রাভেল ট্যাক্সসহ সব লিগ্যাল ডকুমেন্টস প্রস্তুত করলাম। ঈদের পর বিশাল ছুটি থাকায় ট্যুর প্ল্যান করতে কোনো সমস্যা হয়নি। আমরা ছয়জনের গ্রুপ মোটামুটি ১১ হাজার রুপিতে ১২ দিনের এ ট্যুর সম্পন্ন করি। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলাম গত ১৮ জুন। আজ আপনাদের শোনাব সেই ট্যুরের ২০ ও ২১ জুনের গল্প!

২০ জুন
সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে নিই। ট্রেন অবিরাম চলছে তো চলছেই। এরই মধ্যে আমরা পশ্চিমবঙ্গ পার করে ফেলেছি। পশ্চিমবঙ্গের আকাশ আর সবুজ মাঠের সঙ্গে আমাদের দেশের তেমন পার্থক্য না থাকলেও এবার ট্রেনের জানালা দিয়ে দেখা মাটি জানান দিচ্ছিল এটি ভিনদেশ। সন্ধ্যাবেলা ট্রেন পৌঁছাল ওল্ড দিল্লি স্টেশনে। ট্রেন থেকে নেমে এখানে অনেক ছবি তুলি আমরা। পরে রাতের খাবার কিনে আবার ট্রেনে উঠে পড়ি।

২১ জুন
হিমাচলের ভোর ও টয় ট্রেন: ভোরবেলা পৌঁছালাম কালকায়। শীত শীত অনুভব করায় বুঝতে পারি যে, আমরা হিমাচল প্রদেশে চলে এসেছি। এবার আমাদের গন্তব্য শিমলা। কালকা থেকে আরও ৯০ কিলোমিটার পাহাড়ি রাস্তা পারি দিতে হবে। চড়তে হবে টয় ট্রেনে।
টয় ট্রেনের জার্নিটা বেশ মজার। এ ট্রেনে কোনো সিট নম্বর নেই। আগে উঠলে আগে পছন্দের সিট পাবেন এমন ব্যাপারস্যাপার। পাহাড় বেয়ে ট্রেনটি ধীরে ধীরে ওপরে উঠতে লাগল। পথে পড়ল অসংখ্য টানেল। পথে পাহাড়, সবুজ ঘন বন, বর্ণিল ঘরবাড়ি, নির্মল প্রকৃতি, ঠাণ্ডা আর মোলায়েম বাতাস অপূর্ব করে তোলে ভ্রমণটিকে। টয় ট্রেনে চড়লে পাহাড়ি বৈচিত্র্য চোখের সামনে নতুন রূপে উদ্ভাসিত হয়।
আমাদের ট্রেন সাড়ে ৮টায় ছেড়ে আসে কালকা থেকে। পৌঁছায় বেলা ৩টার পর। হিমাচল প্রদেশের রাজধানী শিমলায় এসে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যাই এ কোথায়
এসে পড়েছি!
রাস্তাঘাট একদম পরিষ্কার। আর তাপমাত্রা ছিল নাতিশীতোষ্ণ (২২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড)। দুপুরের খাওয়া-দাওয়া সেরে নিই প্রথমে। খাবারের দাম তুলনামূলক বেশি ছিল। সুবিধামত একটি হোটেলে উঠে ফ্রেশ হয়ে শিমলা শহরটি ঘুরতে বের হলাম। বুক ভরে শ্বাস নিচ্ছিলাম। বাতাসটা এত ফ্রেশ যে, খুবই ভালো লাগছিল।
হাঁটতে হাঁটতে মল রোড পেরিয়ে শিমলার কেন্দ্রস্থল দ্য রিজে পৌঁছলাম। এখানে অনেক পর্যটকের ভিড়। সন্ধ্যা নামল অনেক দেরিতে। পাহাড়ের গায়ে গড়ে ওঠা হিমাচলের শহরগুলো আলোকিত হয় সন্ধ্যার পর। ইউরোপের কোনো শহরে এসেছি বলে ভ্রম মনে হয়। রাতে পাঞ্জাবি খাবার খেয়ে আমরা হোটেলে ফিরে এলাম। (চলবে)

সালমান রহমান পিয়াল

 

 

 

সর্বশেষ..