দুরে কোথাও

কলকাতা-শিমলা-মানালি দিল্লি-আগ্রা ভ্রমণ

আমি ভ্রমণপ্রিয় মানুষ। সময় ও সুযোগের মিলন হলে বেরিয়ে পড়ি। বাংলাদেশের প্রায় সব ট্যুরিস্ট স্পটে ঘুরে বেড়িয়েছি। চিন্তা করছিলাম দেশের বাইরে যাওয়ার। সব মিলিয়ে ভারত ভ্রমণটাই সবচেয়ে ভালো মনে হলো। পাসপোর্ট, ইন্ডিয়ান ভিসা, ট্রাভেল ট্যাক্সসহ সব লিগ্যাল ডকুমেন্টস রেডি করলাম। ঈদের পরে বিশাল ছুটি থাকায় ট্যুর প্ল্যান করতে কোনো সমস্যা হয়নি। আমরা ছয়জনের গ্রুপ মোটামুটি ১১ হাজার রুপিতে ১২ দিনের এ ট্যুর সম্পন্ন করি। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলাম গত ১৮ জুন। আজ আপনাদের শোনাবো সেই ট্যুরের গল্প!
এ ট্যুরের গল্পটি আমি তিন পর্বে লিখেছি। প্রথম পর্ব ও দ্বিতীয় পর্বে থাকবে ভ্রমণকাহিনি। শেষ পর্বটি হবে গাইডধর্মী, যেখানে কিছু টিপসসহ সম্পূর্ণ ট্যুরের খরচের প্ল্যান দেওয়া থাকবে।

প্রথম দিন (১৮ জুন)
প্রথমবারের মতো দেশের বাইরে যাচ্ছি। উত্তেজনায় রাতে ভালো ঘুম হয়নি। বান্দরবান ট্যুরের আগের রাতেও এমন হয়েছিল। তবু ভোরবেলা উঠে ফরিদপুর পুরোনো বাসস্ট্যান্ড থেকে বেনাপোলের গাড়িতে উঠি। বেনাপোল পৌঁছাই বেলা ১১টায়। কাস্টমস ইমিগ্রেশন পেরিয়ে ওপারে (পেট্রাপোল) যেতে ১২টা বেজে যায়।
শুধু একটা বেড়ার এপার আর ওপার, তাতেই দৃশ্যপট পাল্টে গেল। রাস্তাঘাট, দোকানপাট, মানুষের চালচলন, কথাবার্তা সবকিছুতেই ভিন্নতা। বোঝা যাচ্ছিল চিরচেনা পরিবেশ ছেড়ে ভিন্ন কোথাও চলে এসেছি। একটা সিএনজি নিয়ে বনগাঁ স্টেশনে চলে যাই আমরা। দুপুরে খাওয়া-দাওয়া করে সেখান থেকে ৭৬ কিলোমিটার দূরত্বের কলকাতা (দমদম) মেইল ট্রেনের টিকিট কাটি। ট্রেন একদম সময়মতো ছাড়ে। মেইল ট্রেন হলে কী হবে, কোথাও ক্রসিং বা অন্য কোনোকিছুর জন্য ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকেনি। একেকটা স্টেশন আসে, ট্রেন ১৫ থেকে ২০ সেকেন্ডের জন্য থামে, আর ওই সময়ের মধ্যেই লোকজননামে-ওঠে। ট্রেনের দরজা বড় থাকায় নামা-ওঠা তুলনামূলক সহজ। দমদম পৌঁছাই ৪টা ১৫-তে। সেখান থেকে মেট্রোরেলে করে যাই এসপ্ল্যানেডে।
মেট্রোরেলের সিস্টেমটা খুব ভালো লাগল। অল্প ভাড়ায় এসিতে বসে দ্রুত শহরের একমাথা থেকে আরেকমাথা যাওয়া যায়। মেট্রোস্টেশন থেকে বেরিয়ে দেখি বৃষ্টি নেমেছে। এর মধ্যেই হেঁটে বৃষ্টিভেজা কলকাতা শহরের খানিকটা ঘুরে ফেলি। রাস্তাঘাটে প্রচুর গাড়ি, কিন্তু কোনো ভোগান্তি নেই। প্রধান সড়কে কোনো রিকশা চলছে না। মানুষজন উল্টোপাল্টা রাস্তা পারও হচ্ছে না। কোনো ট্রাফিক পুলিশ নেই, কিন্তু সিগন্যাল মেনে সব গাড়ি চলাচল করছে। একটা সিগন্যালে কোনো গাড়ি দুই-তিন মিনিটের বেশি আটকেও থাকছে না।
নিউমার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটে একটি হোটেলে উঠি আমরা। এরই মধ্যে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। আশপাশের এলাকা ঘুরে এসে ৩৫ রুপির হাফ প্লেট কালাভুনা দিয়ে ভূরিভোজ করে হোটেলে ফিরে আসি।

দ্বিতীয় দিন (১৯ জুন)
কালকার (শিমলা) টিকিট পাওয়ার জন্য ট্যাক্সি করে সকাল সকাল চলে আসি ফেয়ারলি প্লেসে। আসার পথে ইডেন গার্ডেনের সামনে দিয়ে এসেছিলাম। ভোরবেলায় রাস্তায় কোনো ভিড় ছিল না, কিন্তু আমাদের ড্রাইভার সামনে খালি থাকা সত্ত্বেও রেড সিগন্যাল দেখে গাড়ি থামিয়েছিলেন।
আমাদের ভাগ্য ভালো থাকায় ফেয়ারলি প্লেস থেকে বিদেশি কোটায় সেদিনের বিকালের ট্রেনের টিকিট পেয়ে যাই। এরপর কলকাতার রাস্তাঘাট ঘুরে সিম কিনে
খাওয়া-দাওয়া করে হোটেলে এসে একটু বিশ্রাম নিয়ে গোসল করে বিকালে বেরিয়ে পড়ি। লোকাল বাসে চড়ে হাওড়া জংশনে আসি। আমার দেখা সবচেয়ে বড় স্টেশন এটি। যেদিকে তাকাই শুধু মানুষ আর মানুষ!
ট্রেন খুঁজে উঠে পড়ি। বগিটা ছিল সিøপার কোচ। শুরু হলো আমাদের দীর্ঘ এক হাজার ৭৩৬ কিলোমিটারের ৩২ ঘণ্টার দীর্ঘ ট্রেন জার্নি। গল্প-আড্ডায় রাত নেমে আসে। চাওমিন দিয়ে রাতের খাবার সেরে সবাই ঘুমিয়ে পড়ি। (চলবে)

সালমান রহমান পিয়াল

 

 

 

সর্বশেষ..