এসএমই

কলাগাছ ও কচুরিপানা থেকে উপার্জন ২৫ কোটি টাকা

পরিত্যক্ত কলাগাছ ও কচুরিপানা থেকে বছরে প্রায় ২৫ কোটি টাকা উপার্জন করছে ইকো সাপ্লাইজ (ইএসএন) নামের একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা।

জানা গেছে, উত্তরা ইপিজেডের (নীলফামারী ইপিজেড) ওয়েসিস ট্রান্সফরমেশন লিমিটেড নামের একটি কফিন কারখানার শাখা এ ইকো সাপ্লাইজ (ইএসএন)। ২০০৯ সালে ইপিজেডে তারা দেড়শ শ্রমিক নিয়ে যাত্রা করে। এরপর প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ২০১৩ সালে কাঁচামাল সংগ্রহ শুরু করে। জেলা সদরের লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের দূর্বাছড়ি গ্রামের শিশাতলীতে শুরু হয় তাদের প্রকল্প।

নীলফামারী শহর থেকে ১০ কিলোমিটার উত্তরে লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের গ্রাম শিশাতলী। ২০১৩ সাল থেকে ওই এলাকার জনতা বহুমুখী সমবায় সমিতির নিজস্ব জমিতে চুক্তিভিত্তিক তিন একর জমির ওপর গড়ে তোলা হয় প্রতিষ্ঠানটি। এখানে প্রতিদিন ৪৬ পুরুষ ও নারী শ্রমিক কাজ করেন। তাদের দৈনন্দিন মাথাপিছু মজুরি ২৪৯ টাকা।

নির্জন গ্রামের মাঝে অবস্থিত ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান কাজ কাঁচামাল সংগ্রহ করা। শ্রমিকরা আশেপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের গ্রামগঞ্জের ঝোপঝাড় থেকে হেলে পড়া কলাগাছ, গাছের চোটা বা খোল-ঢাকনাসহ কলার খোসা সংগ্রহ করেন। পুকুর, খাল, বিল, নদী, নালা ও ডোবার ভাসমান কচুরিপানাও সংগ্রহ করেন তারা। তারা বাঁশও সংগ্রহ করেন। পরে এগুলো নিয়ে আসেন ওই প্রতিষ্ঠানে। নির্দিষ্ট মাপে এসব উপকরণ কাটেন তারা। পরে রোদে শুকিয়ে ও প্রসেসিং করে গুদামজাত করে রাখা হয়। এগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে বেম্বি স্টিপস, ব্যাম্বু কোয়ার্টার লং, ব্যাম্বু কোয়ার্টার শর্ট, সøাইভার, পোস্ট ইস্টিপস প্রভৃতি।

পরে প্রয়োজনমতো পাঠিয়ে দেওয়া হয় উত্তরা ইপিজেডে। এই কাঁচামাল দিয়ে কফিন তৈরি করা হয়। উৎপাদিত কফিন বিশ্বের কয়েকটি দেশ, যেমন ইংল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি করা হয়, যা থেকে বছরে আয় হয়ে থাকে প্রায় ২৫ কোটি টাকা।

ইকো সাপ্লাইজের অফিস ইনচার্জ দেলোয়ার হোসেন বলেন, গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে কফিন তৈরির জন্য পরিত্যক্ত কলাগাছ, কচুরিপানা, কাঞ্চন ফুল ও বাঁশ সংগ্রহ করে থাকি আমরা। এসব সংগ্রহ করতে আমাদের তেমন অর্থব্যয় হয় না, শুধু বাঁশ কিনতে হয়। ওয়েসিস ট্রান্সফরমেশন লিমিটেডের সাপ্লাই চেইন কমার্শিয়াল ম্যানেজার এলেন ফেইত ফুলেল বলেন, আমরা বেকারদের কর্মসংস্থান করছি। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছি।

কারখানার শ্রমিক সুধির চন্দ্র রায় বলেন, আগে মানুষের বাড়িতে কাজ করে মজুরির টাকার জন্য বাজারে বসে থাকতে হতো। এখন এ কারখানায় কাজ করে অর্থের চিন্তা করতে হয় না। প্রতিদিন বিকালে মজুরির টাকা নিয়ে সময়মতো বাজার করে বাড়ি চলে যাই। সুনীল চন্দ্র হাজেরা বলেন, এখানে আমার মতো অনেকে কাজ করে ভালো আছে।

অনিতা রানী নামে এক নারী শ্রমিক বলেন, কলার ছোবড়া দিয়ে রশি তৈরি করা হয়। কাঞ্চন পাতা দিয়ে পেস্ট বানানো হয়। আর বাঁশ দিয়ে চাটাই তৈরি করি।

লক্ষ্মীচাপ ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, আগে এ ইউনিয়নের মানুষের দিন কাটত অভাব-অনটনে। হাতে ছিল না কাজ। বেকারত্বের হার ছিল অনেক। বর্তমানে বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও উত্তরা ইপিজেডের কফিন কারখানার সহযোগিতায় অনেক মানুষের কাজের সুযোগ হয়েছে। নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছেন গ্রামের অবহেলিত নারীরাও। তাদের ছেলেমেয়েরা বিদ্যালয়ে যাচ্ছে।

# তৈয়ব আলী সরকার, নীলফামারী

সর্বশেষ..